মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ ১০:০৩:১৯ এএম

সাংবাদিক পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিল স্থানীয় প্রভাবশালীরা

আলমগীর হোসেন | জেলার খবর | লক্ষীপুর | বুধবার, ১২ অক্টোবর ২০১৬ | ০১:৩৮:১৪ পিএম

অবশেষে আদালতকে অমান্য করে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে জমি দখল করে নিল আবদুল লতিফ  বাহিনীরা। আইন আছে , আইনের প্রয়োগ নেই। জোর যার মুল্লিক তার। টাকার শক্তি যার জমি তার। উচ্চ  আদালতকে অম্যান্য করে সাংবাদিক পরিবারের চলাচলে রাস্তা জোর পূর্বক দখল ও বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করে  চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিল সমসেরাবাদ গ্রামের মিনাগাজী বাড়ির মৃত আবদুল মুনাফের পুত্র হাজ্বী আবুল  কাশেম,আবদুল লতিফ, হোসেন, লিঠন গং ।

সিমুল ,সফিক , আবদুল মতিন সহ একশত লাটিয়াল বাহিনী  নিয়ে তড়িগড়ি করে দিনে দিনে এই নির্মান কাজ শেষ করে আবদুল লতিফ বাহিনীরা। গত ৫ ই অক্টোবর ১৬  ইং এই নির্মাণ কাজ শেষ করে।দেখার মত কেনো ব্যাক্তি নেই ? 

প্রতিবাদ করার মত কোনো সচেতন মহলেন  ব্যাক্তি নেই। প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ  রয়েছে।  সরোজমিনে গিয়ে লোকজনের সাথে কথা বলে জানায় যায় , তারা কেউ প্রভাবশালীদের ভয়ে মুখ খুলে কথা  বলতে রাজি নয়। সাধারণ মানুষের মনে আতংক বিরাজ করছে।  

দীর্ঘ ৪৫ বছর যাবত, সমসেরাবাদ গ্রামের ৭৫ নং মৌজার ১১০৬ দাগ নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে  ।এই জমির বাদী ছবুরা খাতুন গং, বিবাদী মপিজ উল্যা গং। যাহার মামলা নং ৫০৮৫/৬। উচ্চ আদালতের মামলার  বাদী বা বিবাদীও নয় আবদুল লতিফ গং। 

তারপরও একের পর এক অভিযোগ তুলে আবদুল লতিফ বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর  পৌরসভা জমি পাবে বলে অভিযোগ তুলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।  পরে পৌর মেয়র আইনজীবীর মাধ্যমে পক্ষদ্বয়ে কাগজ পত্র যাচাই বাচাই করে, উচ্চ আদালত মামলা থাকায়  কোনো সিদান্ত দেয়নি। পরে পৌর মেয়রকে তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কাজ শুরু করে আবদুল লতিফ বাহিনী।  

নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য মমিন উল্যা বাদী হয়ে গত ১৭ ই মে০১৬ ইং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সদর  আদালতে মামলা দায়েল করেন।আদালত নিষেধাজ্ঞাজারী করেন, যাহার মিস মামলা নং ৩৩১/১৬।  কিছু দিন পর মামলা খারিজ করে দেন বিচারক কংকন চাকমা।মামলা খারিজ হওয়ার পর থেকে সাংবাদিক  পরিবারকে গুম,খুন অপরহন করবে বলে হুমকী প্রধান করে আসছে ভূমি গ্রাসীরা। পরে ফাতেমা আক্তার বাদী  হয়ে গত ৩০ ই মে ১৬ ইং নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে নিরাপত্তার জন্য ৯ জনকে আসামী করে মামলা  দায়েল করেন।

যাহার মিস মামলা নং ১৮০/১৬। মামলা করার পর পরেইা ভুমি গ্রাসীরা সন্ত্রাসী নিয়ে ৫/৬ বার  সাংবাদিক পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাংচুর, লুটপাট , গাছপালা কেটে উজার করে  ১০ জনকে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। থানা মামলা করতে গেলে ওসি বিভিন্ন অযুহাত  দেখিয়ে মামলা আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

পরে ফাতেমা আক্তার বাদী হয়ে অতিরিক্ত চীপ  জুডিসিয়াল আদালত (লক্ষ্মীপুর সদর) ৬ জন কে আসামী করে মামলা দায়েল করা হয়। যাহার মামলা নং সিআর  ৪৯২/১৬ আদালত এই মামলার তদন্ত দেয় সদর থানাকে। তদন্ত কর্মকর্তা ৬ জন আসামীর মধ্যে পাঁচ জন  আসামীকে বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। যা সঠিক তদন্ত হয়নি বলে বাদী পক্ষের অভিযোগ  রয়েছে। এতে করে দখলদার বিবাদীর পক্ষের দূঃসাহস বেড়ে যায়।পরে তারা জমি দখল করে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানের  চেষ্টা করে।পরে জমি রক্ষাতে মমিন উল্যা বাদী হয়ে সিভিল কোটে স্থায়ী ও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও কমিশন  ঘটনের জন্য মামলা দায়েল করেন। যাহার মামলা নং ৩৭৪/১৬ ইং। আদালত স্থায়ী, অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে  ,কমিশন ঘটন করে, চার জন কে শোকছ করেন। বিবাদীরা দেওয়ানী শোকছের নোটিস হাতে পেয়ে  আদালতকে অমান্য করে , তড়িগড়ি করে ভায়াটিয়া লাটিয়াল বাহিনী নিয়ে, দিনে দিনে বাউন্ডারী ওয়াল  নির্মান করে। 

সাংবাদিক পরিবারের জমি দখল ও চলাচলের রাস্তা জোর পূর্বক বন্ধ করে দেয়।  বাদী মমিন উল্যা সাংবাদিকদের জানান, প্রশাসনিক ভাবে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা  বিভাগের কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। জবর দখল থেকে মুক্তি পেতে পুলিশ সুপারে নিকট  ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ করা হলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন  তিনি। মমিন আরো জনান, আমি ন্যায় বিচার পাওয়ার লক্ষে আদালতে সরনাপন্ন হয়েছি।

আদালত স্থায়ী বা  অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করলে ভূমিগ্রাসী লতিফবাহিনী জবর দখল করে আমার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে  ওয়ালনির্মাণ করার সাহস করতো না।তিনি আরো বলেন আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি ,যারা উচ্চ আদালতকে  অমান্য করে জমি দখল করে। চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয় ,তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার জন্য  জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবি জানায়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন