সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭ ১১:২১:৫০ পিএম

পদ্মায় মা ইলিশ নিধনের ধুম

জাতীয় | রাজবাড়ী | বুধবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৬ | ০৫:২৬:২৯ পিএম

গোয়ালন্দে পদ্মা নদীতে ইলিশের ব্যাপক সমারোহ দেখে স্থানীয়রা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। ভেবেছেন ইলিশের সুদিন বুঝি আবারও ফিরে আসছে। কিন্তু সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যাবসায়ী ও জেলেদের নির্বিচারে ইলিশ শিকারে মা ইলিশ সংরক্ষনের এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে।

মৎস্য বিভাগ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও অসাধু কিছু কর্মচারীর মাধ্যমে নদীতে পৌছে যাচ্ছে অভিযানের আগাম খবর।

হতাশার সুরে উপজেলা মৎস্য অফিসার আবু সাইদ বলেন, নদীতে ইলিশ নিধন নির্বিঘ্ন রাখতে অসাধু ব্যাবসায়ী ও জেলেদের নিয়োজিত সোর্স নিয়মিত মৎস্য অফিসের উপর নজরদারি করছে। অভিযানের লক্ষণ দেখা মাত্রই এ সব সোর্স নদীতে খবর পৌছে দিচ্ছে। ফলে অভিযানে কাঙ্খিত ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না। তারপরও গত কয়েকদিনের অভিযানে ৩০ জেলেকে বিভিন্ন দণ্ড প্রদান এবং কিছু জাল ও মাছ জব্দ করা হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস জানায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার পদ্মা নদীর দৌলতদিয়া ও দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাহিরচর, ঢল্লাপাড়া, কুশাহাটা, রাখালগাছি ও অন্তার মোড় এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় মা ইলিশ শিকারের দায়ে ৭ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে ৫ জনকে এক মাসের কারাদণ্ড ও দুই জনকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযানকালে ৩০ কেজি ইলিশ ও ২৫ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়।
এদিকে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ধরা ইলিশ মাছ হাট-বাজারে বিক্রি না করে নদী তীরের বিভিন্ন গ্রাম ও মোড়ে মোড়ে পানির দরে বিক্রি করা হচ্ছে। দূর থেকে অনেক ক্রেতা পদ্মাতীর থেকে এসব ইলিশ মাছ কম দামে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার এক ব্যাক্তি জানান, তিনি গত মঙ্গলবার ৩৩০ টাকা কেজি দরে বড় আকারের ৮ কেজি ইলিশ মাছ কিনেছেন। অন্য সময় এ সাইজের মাছ এত কম দামে পাওয়া সম্ভব হতো না। নদীপাড় এলাকায় তার এক আত্মীয় মাছগুলো কিনে দিয়েছেন বলে জানান ওই ব্যক্তি।

গোয়ালন্দ থানার ওসি মীর্জা আবুল কালাম আজাদ জানান, কেবলমাত্র অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও কর্মকর্তার কাজে সহায়তা করছে। পুলিশ আলাদা করে কোন অভিযান চালাচ্ছে না।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন