মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০১৭ ০৩:৪৮:৫০ পিএম

সাবধান! মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা

জেলার খবর | পঞ্চগড় | বুধবার, ২৬ অক্টোবর ২০১৬ | ০২:৫২:৫৫ পিএম

পঞ্চগড়ে মোবাইল ফোনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে প্রেম, অত:পর ফোন সেক্সের কথোপকথন রেকর্ড করে তা প্রকাশের হুমকি দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করেছে একটি চক্র। এই প্রতারণার ফাঁদে পড়ে কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত। ঐ কর্মকর্তার স্ত্রী বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার জন্য স্থানীয় প্রেসক্লাবে লিখিত আবেদন করেছেন।

স্ত্রীর অভিযোগ এবং সংগৃহীত মোবাইল রেকর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা আসাফুদৌলার ফোনে কল করে আটোয়ারী উপজেলার সিকু পাড়া গ্রামের আব্দুর রবের মেয়ে রুপা বেগম ওরফে তামান্না। নিজেকে তিনি ইতালী প্রবাসী স্বামীর স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঐ কর্মকর্তাকে নি:সঙ্গতায় সঙ্গ দেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এরপর ঐ কর্মকর্তাকে পালসার ব্রান্ডের মোটরবাইক এবং ফোন কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখান তিনি। 

ফোনে কথা বলতে বলতে এক সময় ফোন সেক্সে জড়িয়ে ফেলেন ঐ কর্মকর্তাকে এবং সবকিছু ফোনে রেকর্ড করে ফেলেন তিনি। এই রেকর্ডই তার ফাঁদে ফেলার কৌশল বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ঐ কর্মকর্তার স্ত্রী আমিনুন নাহার। অভিযোগে জানা যায়, রুপা বেগম, একই উপজেলার রসেয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে বিএনপি নেতা জহির হোসেন, ঠাকুরগাঁও জেলার কলেজ পাড়া এলাকার মসিউর রহমান এবং মসিউরের বন্ধু আটোয়ারী উপজেলার সুকাতী গ্রামের ব্যবসায়ী জাকিরের পরিকল্পনায় তৈরী হয় এই ফাঁদ। তথাকথিত মডেল মসিউর রহমান ও রুপা বেগম মোবাইল ফোনে ঐ কর্মকর্তাকে আটক করে ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে। 

মোবাইল রেকর্ডে জানা যায় মসিউর রহমান ঐ কর্মকর্তার কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা আদায় করে দেয়ার বিনিময়ে রুপা বেগমকে এক রাত তার সাথে কাটানোর প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে রাজিও হয় রুপা বেগম। এদিকে রুপা বেগমের সাথে কথোপকথন রেকর্ড করে মসিউর নিজেই। 

গত ২ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও বুড়ির বাঁধে সকাল ১১ টায় ঐ কর্মকর্তাকে দেখা করার অনুরোধ করেন রুপা বেগম। কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশনের ঐ কর্মকর্তা বুড়ির বাঁধে গেলে আগে থেকেই ওঁত পেতে থাকা মসিউর রহমানসহ অজ্ঞাত কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে। তারপর পালসার মোটরসাইকেল এবং মোবাইল টি কেড়ে নেয়। এরপর অজ্ঞাত একটি বাড়িতে আটকে রাখে। এসময় আসাফুদৌলাকে মারধরও করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।আমিনুন নাহার অভিযোগ করে বলেন, মসিউরের কথা মতো রুপা বেগম তার স্বামীকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করে এবং মসিউর তা ভিডিও করে । এরপর মসিউর ৩ লক্ষ টাকা দাবি করে। কয়েক ঘন্টার মধ্যে তা না দিলে মোবাইল রেকর্ড, ভিডিও এবং গণ্যমান্য ব্যক্তি ডেকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকী দেয়। এদিকে সম্মানের কথা বিবেচনা ও প্রাণের ভয়ে আসাফুদৌল্লা ৫০ হাজার টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করে এবং ঐদিনই দুপুর ১২ টা ৩০ মিনিটের দিকে আত্বীয় স্বজনের মাধ্যমে পৃথক দুটি বিকাশ নম্বরে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করা হয়। 

টাকা পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু ঘটনার কয়েকদিন পরেই রুপা বেগম জহির এবং জাকিরের মাধ্যমে আরও টাকা দাবি করে। আমিনুন নাহার বলেন, আমার স্বামী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। অতিরিক্ত টাকা দাবির বিষয়টি মসিউরকে জানালে রুপা বেগমের সাথে তার কথোপকথনের রেকর্ডটি সরবরাহ করে মশিউর নিজেই। এদিকে এসব ব্যাপারে জানতে রুপা বেগমের ২টি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মসিউরের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সকল বিষয় অস্বীকার করে তিনি নিজেকে মডেল এবং ঠাকুরগাঁও জেলার রোভার স্কাউটের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন। 

অপরদিকে জাকির হোসেনের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আপনি নিউজ করেন।' এদিকে জহির হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনাটি মিমাংসা করার জন্য তিনি ঐ কর্মকর্তার কাছে মাত্র ৩০ হাজার টাকা চেয়েছিলেন। 

আটোয়ারী পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই রুপা বেগম গভীর রাতে আটোয়ারী বাজারে আপত্তিকর অবস্থায় আরেক পুরুষের সাথে ঘোরা ফেরা করার সময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। এ দিকে তড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান হামিদুল ইসলাম জানান, ৬/৭ বছর আগে কুমিল্লায় এক গার্মেন্টস কর্মীর সাথে রুপা বেগমের বিয়ে হয়। তার একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। বর্তমানে সে বাপের বাড়িতেই থাকে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন