বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ ০৪:৫৭:০৭ পিএম

৫ লাখ মানুষের জন্য চিকিৎসক মাত্র ৪ জন !

জেলার খবর | চাঁদপুর | বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর ২০১৬ | ১২:১৭:৩৯ পিএম

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক, কর্মচারী ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রমের মুখ থুবড়ে পড়েছে। এসব কারনে উপজেলার ৫ লাখ মানুষ একমাত্র এ সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রে সেবা পাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালের ৯ টি পদের মধ্যে ৫ টি পদ শূণ্য রয়েছে। কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন ডাক্তার। তন্মধ্যে ২ জন চিকিৎসক ৬ মাসের প্রশিক্ষণে কুমিল্লা ও ঢাকায় আছেন।

তারা হলেন, ডাঃ তানজিলা ও ডাঃ হ্যাপী আক্তার। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), কনসালটেন্ট, সার্জারী মেডিসিন ও গাইনি পদের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে চিকিৎসক নেই। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউএইচও), জুনিয়র কনসালটেন্ট ও ২ জন মেডিকেল অফিসার দিয়ে ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছে।

জানা গেছে, জরুরী প্রয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসারগণ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৬ জন মেডিকেল অফিসার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করেন না।

মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী ইউসুফ তার ষ্টাফদের নিয়ে হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। জানা গেছে এটা তার প্রতি মঙ্গলবারের রুটিন কাজ।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ কাজী ইউসুফ জানান, গত ২৪ অক্টোবর ডিজি অফিস থেকে ২ চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়ার পরও তারা কর্মস্থলে যোগদান করেনি। তাদের একজন মুন্সিগঞ্জ ও অপরজন চাঁদপুর সদরে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও ২০১১ সাল থেকে কলাকান্দা পরিবার পরিকল্পা কল্যাণ কেন্দ্রে ডাঃ মাহবুবুর রহমান বেতন ভাতা ভোগ করলেও প্রেষনে ডিজি অফিসে চাকুরী করেন। গত ১ বছর যাবৎ ডাঃ গৌরী রানী বাগানবাড়ি পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে বেতন ভাতা ভোগ করলেও তিনি ঢাকায় থাকেন এবং গত তিন মাসে একবারও আসেননি। দন্ত টেকনিশিয়ান রেজাউল ইসলাম মতলব উত্তর থেকে বেতন ভাতা ভোগ করলেও টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার কর্মরত আছেন।

ছেঙ্গারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ রফিকুল আলম জজ বলেন, পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে মুমূর্ষ রোগীদের চিকিৎসা করাতে ঢাকা অথবা চাঁদপুরে নিতে হয়। এতে রোগীর মৃত্যু ঝুঁকি থাকে এবং চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যায়।

মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার স্কিমের তালিকাভূক্ত রোগী শাহানাজ আকতার (২৫) বলেন, ডাক্তার না থাহনে ডেলিভারীর সময় সাহায্য (সহায়তা) পাইনি। আমরা গরিব মানুষ। তয় বহুত কষ্ট কইরা ঢাহা গিয়া হাসপাতালে সিজারে পোলাপাইন অইছে।

চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডাঃ সাইফুর রহমান, ইতিমধ্যে ডিজি অফিস থেকে দু’জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লোকবল সংকট দূর হবে। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন