রবিবার, ২৮ মে ২০১৭ ০৬:৫৮:২৪ এএম

দামুড়হুদায় ২ স্কুল ছাত্রকে পিটিয়ে জখম, হাসপাতালে ভর্তি

শামসুজ্জোহা পলাশ | জেলার খবর | চুয়াডাঙ্গা | রবিবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৬ | ০৪:৩৮:০২ পিএম

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার গোবিন্দহুদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর  মেধাবী দুই ছাত্র জমজ দুই ভাই জাকিরুল (১৫) ও মনিরুলকে (১৫) ধর্মীয় শিক্ষক  কুতুব উদ্দিন অমানবিক ভাবে শারীরিক নির্যাতনের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী  অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নূরুল হাফিজের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবক  মহল। 

অভিযোগ পেয়ে নির্বাহী অফিসার তাৎক্ষনিক ভাবে ৩ সদস্যর একটি তদন্ত  টিম গঠন করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ  দিয়েছেন। 

তদন্ত টিমের সদস্যরা হলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুফি মো:  রফিকুজ্জামান, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন ও উপজেলা  মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল।  এদিকে, শনিবার বেলা ১২ টা থেকে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  চিকিৎসাধীন রয়েছে দুই মেধাবী ছাত্র জাকিরুল ও মনিরুল। উপজেলার  গোবিন্দহুদা গ্রামের মজিবর রহমানের জমজ দুু’ছেলে জাকিরুল ও মনিরুল।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় রোববার সকালে এলাকার অভিভাবক, সচেতন মহলসহ ছাত্র- ছাত্রীরা বিক্ষোভ সহকারে বিদ্যালয়ে চড়াও  হয়। সংবাদপেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি  নিয়ন্ত্রনে আনেন।  

উল্লেখ্য, সহপাঠিরা জানায় শনিবার বেলা ১১ টার দিকে ধর্মীয় শিক্ষক  কুতুব উদ্দিন ৯ম শ্রেণীর ক্লাশে ঢুকে ৭ম রুল ধারী মেধাবী ছাত্র মনিরুলকে  প্রশ্ন ধরেন আমাদের শেষ নবীর নাম কি? ছাত্র সঠিক উত্তর দেয়। এবার তাকে প্রশ্ন  করা হয় শেষ নবীর পিতার নাম কি? এই প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দেয় জামিরুল।

এবার  তাকে প্রশ্ন করা হয় শেষ নবীর দাদার নাম কি? এ প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর দিলে তাকে  প্রশ্ন করা হয়। নবীজির দাদার দাদার নাম কি? তখন ছাত্র মনিরুল বলেন, স্যার  নবীজির দাদার, দাদার নাম জানানেই। জানার দরকারও নেই। এই কথায় শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে  ওই ছাত্রকে কাছে ঢাকেন। ছাত্রটি শিক্ষকের হাতের নাগালের মধ্যে আসলে তিনি  ছাত্রটির মাথার চুল চেপে ধরে বেতদিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন।  

এমন সময় মনিরুলের জমজ ভাই একই শ্রেণীর (৯ম শ্রেণীর) প্রথম রুল  নম্বরধারী জাকিরুল ধর্মীয় স্যারকে এভাবে অন্যায় করে মারতে নিষেধ করায় স্যার  তাকেও পেটানো শুরু করেন। ক্লাশের অন্যান্য ছাত্র- ছাত্রীদের চেচামেচিতে প্রধান  শিক্ষক আব্দুল মান্নান ক্লাশ রুমে ঢুকে বিষটি জানতে চান এবং জমজ দুই  ভাইকে অফিস কক্ষে নিয়ে আসতে বলেন। তখোন দুই ভাইকে পেটাতে পেটাতে  অফিস কক্ষে নিয়ে গিয়ে সেখানেও বেধড়ক পেটাতে থাকেন ধর্মীয় শিক্ষক  কুতুব উদ্দিন।  

এসময় প্রধান শিক্ষক তাকে মারতে নিষেধ করলেও তিনি তা কর্ণপাত না করে  পেটাতে থাকেন। এক পর্যায়ে জাকিরুল সজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।  

তাকে উদ্ধার করতে কোন শিক্ষক এগিয়ে না আসলে তার সহপাঠিরা তাকে উদ্ধার করে  দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক কুতুব উদ্দিনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, প্রধান  শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করেন। বলেই মোবাইলের লাইন কেটে দেন।  প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমি বার বার ওই শিক্ষককে ছাত্র  দুজনকে মারতে নিষেধ করলেও তিনি আমার কথা না শুনে তাদেরকে পেটাতে থাকেন।

এবিষয়ে আপনি কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,  আমি ম্যানেজিং কমিটিকে ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষটি  জানিয়েছি। তাছাড়া হাসপাতালে গিয়ে আহত ছাত্রদের চিকিৎসার সার্বিক  খোজ খবর নিয়েছি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যাবস্থা করেছি।  

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ কুমার শাহ বলেন, বিষয়টা খুবই  খারপ হয়েছে। তবে এবিষয়ে আমার হস্তক্ষেপ করার কোন সুযোগ নেই। যা কিছু  করার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি করবে।  

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দামুড়হুদা ইউপি সদস্য লুৎফর  রহমান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়ম মোতাবেক সবোর্চ্চ শাস্তির  ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) নূরুল হাফিজ জানান, এসংক্রান্ত  একটি অভিযোগ পেয়ে ৩ সদস্যর একটি তদন্ত টিম গঠন করেছি। আগামী ৩  কার্য্যদিবসের মধ্যে কমিটির তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযোগ প্রমানিত হলে  অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 

উল্লেখ্য, ধর্মীয় শিক্ষক কুতুব উদ্দিন দামুড়হুদা সদর ইউনিয়নের সরকারী  কাজী (নিকাহ রেজিষ্টার) হিসেবে নিযুক্ত আছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক বাল্য  বিবাহ পড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। বাল্য বিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কয়েক বার  তাকে হাজত বাস করতে হয়েছে।  
Displaying Chuadanga Damurhuda Pic_13.11.16.doc.jpgউভয় পেশায় এমন কান্ডজ্ঞানহীন শিক্ষকের শিক্ষকতা ও কাজী হিসাবে নিযুক্ত  থাকার কোন যোগ্যতাই নেই। উভয় পেশা থেকে তাকে অব্যহতি দেওয়ার জন্য জোর  দাবী জানিয়েছে এলাকার অভিভাবকরা, সচেতন মহলসহ ছাত্র- ছাত্রীরা।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন