সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ ০৭:১১:৩৬ পিএম

নোবেল জয়, গণহত্যা এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ

মো: হেলাল উদ্দীন খান | উপসম্পাদক | বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৬ | ০৭:১৮:০৮ পিএম

অং সান সু চি ১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।  নোবেল কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এই  পুরস্কারটি  দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।  

তার অহিংসতার, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংগ্রাম এর  জন্য মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চি কে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেয়া হয়। কিন্তু আধুনিক এই সভ্যতার যুগে এসেও যখন মানুষ হয়ে মানুষ কে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে, গলা কেটে হত্যা করে শুধু মাত্র জাতিগত বিভেদের কারনে তখন এই নোবেল শান্তি পুরস্কারটি সবার সামনে মলিন হয়ে যায়, প্রশ্ন বিদ্ধ হয় এই নোবেল শান্তি পুরস্কারটি সম্বন্ধে। তাহলে কি সবই ছিল অং সান সু চির লোক দেখানো গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সংগ্রাম? 

বাদ দিন তাদের কথা যারা মুসলমান হয়ে বসবাস করছে মিয়ানমারে, মুসলমান ছাড়াও আরও একটা পরিচয় আছে সবার তাহলো আমরা সবাই মানুষ। আমি প্রশ্ন করতে চাই ঐ সব মানুষকে যারা জাতি বিভেদ করছে এবং শুধু মাত্র মুসলিমদের উপর নির্যাতন ও নিপীড়ন চালাচ্ছে, আপনাদের ধর্মের কোন অণুচ্ছেদে লেখা আছে নির্বিচারে মানুষ হত্যা কোন অন্যায় নয়? 

হোক তারা মুসলিম কিন্তু তারাও তো সেই দেশেই জন্মেছে তাঁদেরও তো অধিকার আছে স্বাধীন ভাবে বাঁচার। 
লেখক
এই বছরের মার্চ মাসে জাতী সংঘে বার্মা সম্বন্ধে বলা হয়,  "রোহিঙ্গার উৎপত্তি সম্পর্কে, সেখানে সন্দেহ হতে পারে না যে, যারা কয়েক প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করছে  তাদের কে যেন নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হয়, এবং তাদের সব মানবিক ও চিকিত্সা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার অনুযায়ী  প্রাপ্য হয়। " 

কিন্তু আজ অনেক দিন অতিবাহিত  হয়ে গেল কিন্তু এই নৃশংস গণহত্যা বন্ধ না হয়ে উপরন্তু ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। 
Image result for রোহিঙ্গা হত্যা
জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা নিতে চায় মিয়ানমার। দেশটির ডিজিটাল কার্যক্রমে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চায়  সে দেশের সরকার।

মঙ্গলবার মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে সে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রী থান্থ সিন মাউং এর সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন দেশটির ওই মন্ত্রী।

পলক ইয়াঙ্গুনের নভোটেল ইয়াঙ্গুন ম্যাক্স হোটেলে চলা পাঁচ দিনব্যাপী ‘অ্যাসোসিও আইসিটি সামিটে-২০১৬’ অংশ নিয়েছেন। সেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পাওয়া সম্মানজনক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ‘ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’গ্রহণ করেন তিনি। 

দ্বিপাক্ষিক ওই বৈঠকে মিয়ানমারের মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক  উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ এর ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগ ও কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে উভয় দেশ নীতিগতভাবে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরেও সম্মত হন।
Image result for রোহিঙ্গা হত্যা
আমি ঐ সমস্ত মানুষদের প্রশ্ন করতে চাই যারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড দারা ভূষিত হয়েছেন, কি লাভ হবে এই পুরস্কার দিয়ে যা মানবতার কল্যাণে আসেনা? 

পরিশেষে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী  শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাই আপনি কি পারতেন না  আপনার ব্যক্তিগত উদ্যোগের মাধ্যমে মিয়ানমারের এই চলমান  নৃশংস গণহত্যা বন্ধ করতে? 

আপনি কি পারতেন না জাতী সংঘের  মাধ্যমেএই রকম একটি  দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের দারা  রোহিঙ্গা ও গণহত্যা সমস্যার সমাধান করতে?

মো: হেলাল উদ্দীন খান, উপ-সম্পাদক, ইউরোবিডিনিউজ.কম





খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন