বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ ০৪:৪৭:০১ এএম

মায়ানমারের আরাকান রাজ্য যেন এক মৃত্যুপুরীর নাম

মো: সাজ্জাদ হোসেন | উপসম্পাদক | শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৬ | ০৪:২৮:২০ পিএম

মানবতার চূড়ান্ত বিপর্যয় ঘটেছে প্রতিবেশী আরাকানে। তবুও গোটা মুসলিম বিশ্ব নীরব। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন বাঙলার মুসলিমরাও।

আহ! মানবতা আজ কোথায়? মানবতার মানে কী? মানবতা কাদের জন্য? মুসলিমদের জন্য সত্যিই কি মানবতা নেই? এসব প্রশ্ন শুধুই ঘুরপাক খাচ্ছে মাথার মধ্যে। তবে কোনো সমাধান পাচ্ছিনা। এসব বিষয় নিয়ে এখন লিখতেও মন চাইছে না আর! কাকে উদ্দেশ্য করে লিখবো? কী লিখবো? সবকিছু তো আমাদের চোখের সামনে ভাসছে প্রতিনিয়ত। 

'মানবতা', 'মানবতাবাদী', এই শব্দগুলো যতবেশী আওড়ানো হয় তার অর্ধেকও যদি এই শব্দের অর্থের প্রতি খেয়াল রাখা যেতো? তাহলে পৃথিবীতে কাউকে মানবতার গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হয়ে জীবন দিতে হতো না।Image result for Rohingya killed
মায়ানমারের আরাকান রাজ্য যেন এক মৃত্যুপুরীর নাম। রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর ইতিহাসের বর্বরতম জঘন্যতম সব কায়দায় হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে অভিশপ্ত বৌদ্ধরা। জীব হত্যা মহাপাপ শ্লোগানধারী জালিম নরপিশাচ উগ্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা আরাকানের অসহায় মুসলিম ভাইবোনদের জীবন নিয়ে খেলছে অবিরত। তাদের কাছে সম্ভবত মুসলমান জীবের গণনায় পড়েনা। তাই তাদের হত্যা করা পুণ্যের কাজ মনে করছে! সেখানে প্রতিমুহূর্তে মরছে মানুষ পুড়ছে ঘরবাড়ী। পৃথিবীতে এমন কোনো জঘন্য কায়দার হত্যাকাণ্ড বাকী নেই যা অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর চলছে না।Image result for Rohingya killed
কেউ নেই তাদের পাশে। কেউ এগিয়ে আসছেনা তাদের সাহায্যে। কী মুসলিম, কী অমুসলিম। সবাই তামাশা দেখছে। যেন রোহিঙ্গারা মানুষই নয়। তাদের জন্য যেন মানবতা শব্দটুকু বেমানান। তারা যেন বিশ্ববাসীর জন্য বোঝা। তাদের বেঁচে থাকার যেন কোনো অধিকারই নেই। মানবেতর জীবনযাপনের অভয়ারণ্য যেন আরাকান।

হে মুসলিম বিশ্ব? তোমাদের কি কোনো দায়িত্ববোধ বলতে কিছু নেই? নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব নয় কী? কী জবাব দেবে সেদিন মহান রবের দরবারে? তোমরা কি এখনো জাগবে না? আর কতো রক্তনদী পাড়ি দিতে হবে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিমদের? কেনো এগিয়ে আসছে না কেউ?





রোহিঙ্গা মুসলমান হত্যার জন্য বাংলাদেশ সরকার কম দায়ী নন। ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হওয়া থেকে আজও পর্যন্ত বার্মায় যে জাতিগত দাঙ্গার সুচনা হয়েছে তা আজও সমাধান হয়নি। গত কয়েক দশকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করার সাহস পায়নি বার্মা সরকার।

গত ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে একদল ভিনদেশী তবলীগ টিমকে হত্যার মাধ্যমে বড় ধরনের মুসলিম হত্যার সূচনা হয়। প্রথমে দাঙ্গা শুরু হলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলমান বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসতে শুরু করে।

তখন বাংলাদেশ সরকার তাদেরকে কোন ভাবেই বাংলাদেশ সিমান্তে ঘেষতে দেয়নি। এতেই বার্মা সরকার বুঝে নেয় এদের উপর গনহত্যা চালালে বাংলাদেশ সরকার কিছু বলবে না। আর সেই থেকেই ভিবিন্ন অযুহাতে একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে আসছে বার্মা সরকার।
জীব হত্যা মাহাপাপ কিন্তু মুসলিম হত্যা মাহপূণ্য, বাস্তবতা হলো মুসলিম নিধনে সবাই কাতারবদ্ধ!

মো: সাজ্জাদ হোসেন, সংবাদকর্মী, ইউরোবিডিনিউজ.কম

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন