বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ ০৫:১৭:৫১ পিএম

রোহিঙ্গা অপর নাম মৃত্যু

লেখক- মোঃ হেলাল উদ্দিন খান | উপসম্পাদক | Dhaka | বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৬ | ০৮:৪৬:১৩ পিএম

এক শতাব্দীর কাছাকাছি ধরে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা সমস্যাতে এখন সু চি ও তাঁর সৈন্যবাহিনীরা বিষের বারুদ ঢেলে যাচ্ছে। ঘর বাড়ি পোড়ান হচ্ছে নির্বিকারে, উদ্বাস্তু করে দেওয়া হচ্ছে লাখো মানুষকে আর মানুষ হত্যা করা  সেখানে এখন প্রতিদিনের কাজে পরিণত হয়েছে। এতটা মানবিক বিপর্যয় সত্ত্বেও  সু চি নির্বিকার। ঘটনার কিছু বিবরণ না দিলেই নয়  রাখাইনরা পাকিস্তানের পূর্বাংশের সাথে থাকতে চেয়েছিল। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ কোন মত না দেয়াতে আরাকান রাজ্যের স্বাধীনতার দাবিতে বার্মার সৈন্যদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে রাখাইনরা।

আমি বলতে চাই অং সান সুচি ক্ষমতাবান হওয়া সত্ত্বেও  রোহিঙ্গাদের রক্ত মাখা দেহ দেখেও তা ভুলে আছেন, কিন্তু বিশ্বের আর কি কোন দেশের প্রধান নাই আর কি কোন মানবাধিকার নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাই যারা এই চলমান অত্যাচার থেকে রেহাই দেয়ার জন্য ডাক দিতে পারে, নাকি আর কোনোদিনই তাদের এই জাগ্রত ঘুম ভাঙবে না? 
বার্মা কোনো রাজনৈতিক সমাধানের পথে না গিয়ে বর্তমান সময়ের সেনাবাহিনী সহ অন্যান্য বৌদ্ধ সম্প্রদায় ঐ নোংরা ঐতিহ্যকে ধারন করে রেখেছে। আরাকানের বেশির ভাগ মানুষই অতি সাধারণ জীবন যাপন করে। অন্য সব মুসলিমরা বার্মার বিভিন্ন এলাকাতে ভালোভাবে থাকতে পারলেও রোহিঙ্গাদের কোন  নাগরিক স্বীকৃতি নাই। তাদের ভোটাধিকার,  পাসপোর্ট সহ সরকারি চাকরি পাওয়ারও কোন অধিকার নাই। অথচ এই মিয়ানমারের গরিব বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর লোক গুলোই বিভিন্ন ভাবে মালয়েশিয়াতে গিয়ে সেখানে রোহিঙ্গা পরিচয়ে আশ্রয় নিচ্ছে। নিজেদের অধিকার চাওয়াটা কি খুব বেশী অন্যায়? এই বাংলাদেশ সহ ভারত ও নিজেদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছে এবং একে অপরকে সহযোগিতাও করেছে তাহলে আজ কেন এরা রোহিঙ্গাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে? 

পূর্ব পুরুষ ধরে বসবাস করা এই রহিঙ্গারাও মিয়ানমারের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশ শাষত্বের পদদলিত হয়ে এনে দিয়েছে তাদের স্বাধীনতা। দেশত্যাগী লাখো রহিঙ্গা শরণার্থী জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তে বসবাস করছে। মাঝে মাঝে পুশ-ব্যাকের কবলে পড়তে হয় এই দেশত্যাগী লাখো রহিঙ্গা শরণার্থীদের। বিবিসি সহ অনেক গণমাধ্যমে এখন প্রতিদিন প্রচারিত হচ্ছে মিয়ানমারের এই ভয়াবহ গণহত্যার খবর। অবিরত গণহত্যায় মেতে উঠেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ সম্প্রদায় এর লোকেরা। 

শত শত মানুষ ভেসে বেড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগর এর উপর। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর কিছু দিন আগে বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। কিন্তু এই লেখা অবধি জানা গেছে অনেক শরণার্থীদের তাদের ঐ নরক-পুরীতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশর সীমান্ত থেকে। আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো নির্যাতিত, নিপীড়িত জনগোষ্ঠী নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয় তবে তাদের নিকট প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার অধিকার আছে।
এখন প্রশ্ন দাঁড়ায় আমরা তাহলে কেমন প্রতিবেশী? যেখানে বিপুলসংখ্যক নারী-শিশু, অসুস্থ্য অথবা অনাগত সন্তানের কোনো মা’কে সাগরে ভেসে বেড়াতে হচ্ছে! আরাকান সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবার কোনো উপায় নেই, যদি বাংলাদেশকে মানবাধিকার সংরক্ষণ পূর্ণ একটি শান্তিপূর্ণ  দেশ হিসেবে পরিচয় পেতে হয়। এই সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানে আমাদের সকলকেই আওয়াজ তুলতে হবে।


নির্যাতিত মানুষদের বাঁচানো, গণতন্ত্র বা মানবাধিকার রক্ষায় শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের মর্যাদাটিকে কলঙ্কিত না করার জন্য অং সান সুচি কি এগিয়ে আসবে না? আর যদি তা করতে অং সান সু চি ব্যর্থ হন তবে ফিরিয়ে দিন আপনার নোবেল যা আপনি কুড়িয়েছিলেন মিথ্যে আর প্ররোচনার মাধ্যমে। 

যদি লোভের বশবর্তী হয়ে তাও না পারেন, যদি ব্যর্থ হন নিজের প্রচেষ্টায় এই সমস্যার সমাধানে তবে এই লজ্জার মুখ আর কাউকে দেখাবেন না। আপনার সামনেও খোলা আছে বিশাল লজ্জার সমুদ্র.........।


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন