বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০২:৩৭:০৩ পিএম

মনে হয় মইরা যাই ভালা লাগে না !

মোঃ হেলাল উদ্দিন খান | উপসম্পাদক | মিরপুর, ঢাকা | সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০১৬ | ০৩:০৯:০৪ পিএম

ইউরোবিডিনিউজ.কম:: মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীনের পর ভালো কোন সুযোগ না পেয়ে অনেকেই ভিক্ষা করছেন। আবার অনেকেই রিক্সা, ভ্যান বা মাটি কেটে দিনাতিপাত করছেন। এইসব মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ভাবেই দিনাতিপাত করছেন কারন তারা জানতেন না যে এই আধুনিক যুগে তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দরকার হবে। যাইহোক এরকম একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কথা বলব আজ যার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট না থাকায় দীর্ঘ বহু বছর রিক্সা চালিয়ে আর সিগারেট বিক্রি করে কোনরকম ভাবে দিনাতিপাত করছেন।



প্রশ্নঃ কেমন আছেন ভাই ?

উত্তরঃ আছি ভাই কোনরকম।

প্রশ্নঃ কেমন চলছে আপনার ব্যবসা? 

উত্তরঃ ভালোনা, কারন সব কিছুই উল্টাপাল্টা লাগে।

প্রশ্নঃ কেমন উল্টাপাল্টা লাগছে?

উত্তরঃ  ভাই সব কিছুর দাম বাড়ছে, কোন কিছুই কিনতে পারিনা পোলাপান গুলারে ঠিকমতো খাইতে দিতে পারিনা, পড়ালেখার খরচ ঠিকমতো দিতে পারিনা। 


প্রশ্নঃ আপনার কয়টি ছেলে মেয়ে ?

উত্তরঃ  আমার এক পোলা এক মাইয়া, পোলা থাকে পিরোজপুর আর মাইয়া আমার কাছে থাকে। 

প্রশ্নঃ আপনার স্ত্রী কি করে?

উত্তরঃ একটা কোম্পানির মাধ্যমে ঐ স্টেডিয়ামে ঝাড়ু দেয়। অল্প কিছু বেতন পায়। 

প্রশ্নঃ কোথায় থাকেন আপনারা? আর কত বাসা ভাড়া দেন? 

উত্তরঃ ২ নম্বর এর ঐদিকের একটা বস্তিতে থাকি, ৩৫ বছর যাবত ঐ জায়গাতে আছি। 

প্রশ্নঃ আপনার ছেলে মেয়ে কি পড়া লেখা করে? 

উত্তরঃ পোলা পিরোজপুর এ পলিটেকনিকে পড়তাছে আর মাইয়া আল রাহিয়ান নামে ঐ যে গরীব           পোলাপানরে পড়ালেখা করায় হেই স্কুলে পড়তাছে। সংসারের খরচ দিয়া পোলাপানের খরচ মিটাইতে          পারিনা খুব কষ্ট হয়রে ভাই মনে হয় সবকিছু ফালাইয়া মইরা যাই আর ভালা লাগেনা। 

প্রশ্নঃ শুনলাম ফুটপাতে নাকি কোন দোকান সরকার রাখবেনা। আপনার কি মত? 

উত্তরঃ গরীবের কোন মত এই দেশে আছে নাকি? আমাগোরে তো খালি ভোটের সময় সব সরকারের দরকার হয়। ভোট শেষ আমরাও শেষ। হুনেন ভাই আমাগো দেশে রাজাকার ও আছে মুক্তিযোদ্ধাও আছে এক এক মুক্তিযোদ্ধাগো কত হাজার হাজার টাকা ভাতা দিতাছে তাইলে আমরা কি দোষ করছি আমার বাপেও তো যুদ্ধ করছে খালি সার্টিফিকেট নাই। তাতে কি সরকারের তো উচিত ছিল যারা রাজাকার তাগরে বাদ দিয়া আর সবাইরে মুক্তি যোদ্ধার সার্টিফিকেট দিত। তয় সরকার যদিআমাগোরে কাম কইরা খাইতে না দেয় তাইলে হেরাই ভালা জানে আমাগোরে কি করব। 

প্রশ্নঃ আপনি যে রাস্তায় দোকান করেন এটাতো অনুমতি নাই।

উত্তরঃ কত কিছুই তো অনুমতি ছাড়াই চলতাছে হ্যগর কিছু হয় না খালি আমগোর উপরে চাপ দেয় আসলে ভাইএই সরকার বড়লোকেগো গরীবের লাইগা এই সরকার না। 

প্রশ্নঃ কেন দেশের তো অনেক উন্নতি হয়েছে ?

উত্তরঃ তাইলে আমাগো কোন উন্নতি হয়না ক্যা? আমাগো এতো কষ্ট ক্যান? সরকার কি জানে খাইয়া না খাইয়া কিভাবেআমরা দিন কাটাই? তার উপরে পুলিশেরে প্রতিদিন ১০০/১৫০ টাকা দেওন লাগে আবার সকালে বইলে বিকালে উঠাইয়া দেয়।ক্যামনে চলমু আপনেই কন? যাই হোক ভাই এত কথা কইয়া লাভ নাই আপনের কি লাগবো কন। 
এভাবেই নিজের দুঃখের কথা গুলো বললেন হান্নান নামে মিরপুরের ফুটপাতের এই সিগারেট বিক্রেতা। আমরাও সরকারের কাছে বলতে চাই এই সাধারণ মানুষ গুলোর দিকে একটু দৃষ্টি দিবেন কারন এখন সবার মুখে একই কথা বাজারে সব কিছুর দাম আকাশ চুম্বি সারা মাস ধরে চাকুরী করে যা আয় হয়  তা দিয়ে কেউ তার সংসার চালাতে সক্ষম নয়। 
তাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান থাকলেও সঠিক তদারকির অভাবে প্রয়োজন মেটাতে আবারও সবাই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। নিজের দেশ কে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হলেঅধিকাংশ প্রযুক্তির উন্নয়ন নিজের দেশেই হওয়া উচিত।




খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন