শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ ০২:৪৫:১৬ পিএম

ধর্মমন্ত্রীর আশ্বাসে আন্দোলন এক মাস স্থগিত

জেলার খবর | দিনাজপুর | বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৬ | ০৭:৪৬:৩৭ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করনের বিষয়টি তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাসের পর আন্দোলনরত শিক্ষকরা এক মাসের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচী স্থগিত ঘোষনা করেছে। দুপুরে থেকে বিকেল পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠকে শিক্ষকদের মেনে  নেয়া অন্যান্য দাবীগুলো হচ্ছে- কলেজ গর্ভানিং বর্ডির সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন ও অধ্যক্ষের পদত্যাগ, পুলিশী হয়রানি বন্ধ ও ফুলবাড়িয়া থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা।

ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে বুধবার বিকেলে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমানের সভাপতিত্বে বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপস্থিতে সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে ।

সভায় ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী  কলেজের গর্ভানিং বর্ডির সভাপতি স্থানীয সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, ফখরুল ইমাম এমপি, বিভাগীয় কমিশনার কৃষিবিদ জি.এম সালেহ উদ্দিন, রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক কৃষিবিদ খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও আন্দোরনরত ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী  কলেজের শিক্ষক নেতা আবুল হাশেম ও পাচঁজন শিক্ষকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

অপর দিকে পুলিশ, ছাত্র – শিক্ষক সংঘর্ষের ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পস সহ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা গত মঙ্গলবার রাতে প্রত্যাহরের পর বুধবার কলেজ খুলেছে, তবে পুলিশী গ্রেফতার আতংকের কারণে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম । এই ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত তদন্ত কমিটির চার সদস্যের তদন্ত টিম  তদন্ত কাজ শুরু করেছে। অপরদিকে কলেজ শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ হত্যার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা কালোব্যাজ ধারন এবং জাতীয় পাতার সাথে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ জাতীয়করনের দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষাথীদের উপর হামলার এবং কলেজের শিক্ষকসহ ২জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের গঠিত কমিটির প্রধান কমিশনার প্রফেসর আখতার হোসেন, কমিটির সদস্যন্ত শরীফ উদ্দিন, জয়দেব চক্রবর্তী ও আনিসুর রহমান এই চার সদস্যের তদন্ত কমিটি বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং পুলিশী হামলায় আহত ছাত্র শিক্ষকের সাথে কথা বলেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান প্রফেসর আখতার হোসেন সাংবদিকদের সাথে আলাপকালে বলেন আন্দোলনে মানুষ মারা যাওয়া কখনো কাম্য হতে পারেনা, মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার হলো মানবাধিকার সুতরাং সেই অর্থে এখানে শিক্ষক সহ দুইজন নিহত হওয়ায় মানবাধিকার লংঘিত হয়েছে, তিনি বলেন আমরা আমাদের প্রতিবেদনে উলে¬খ করবো এখানে কার কি ভূমিকা ছিল,এই বিষয় গুলি তুলে ধরে সুপারিশ করবো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য, আজ বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন এবং এক সপ্তাহ পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

তিনি বলেন পুলিশের নিৃর্বচারের হামলা শিক্ষক, নারী শিক্ষক ও ছাত্রীরা রেহায় পায়নি, সেটা কখনো কাম্য হতে পারে না ,আমরা চেষ্টা করবো যারা দায়ি তাদেরকে খুজে বের করে কমিশনে সুপারিশ করবো যথাযত ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পেশ করার জন্য।

ফুলবাড়িয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লীরা তরফদার তদন্ত কমিটির সাথে কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধাওয়া খেয়ে পুলিশ পাহাড়ায় কলেজ ক্যাম্পাসে গড়ি রেখেই দৌড়ে পালিয়ে তিনি প্রান রক্ষা করেছেন। ফুলবাড়িয়া ছাত্র-শিক্ষক ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষের  ঘটনার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পিবিআইয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি সায়েদুর রহমানকে সভাপতি ও সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি খোরশেদ আলমকে সদস্য সচিব, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি অফিসের পুলিশ সুপার সৈয়দ হারুনুর রশিদ ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উত্তর এস.এ. নেওয়াজীকে সদস্য করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। 

অপরদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জে ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি ডক্টর আক্কাছ উদ্দিন ভূঁঞাকে প্রধান করে পুলিশ সুপার সৈয়দ হারুনুর রশিদ ও ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) এস.এ. নেওয়াজীকে সদস্য করে আরেকটি কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটিকে তিনদিনের মধ্যে রির্পোট দিতে বলেছেন।অপর দিকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার সৈয়দ নূরুল ইসলাম  ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিন) মোহাম্মদ নূরে আলমকে প্রধান করে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার, ফুলবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজিবকে সদস্য করে একটি কমিটি গঠব্ করা হয়েয়ে, এই কমিটিকে তিন কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দেয়া কথা রয়েছে। জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আরিফ আহমেদকে প্রধান করে জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম ও সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আল আমীনকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে।  

এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রনালয় কলেজ প্রশাসনের পরিচালক প্রফেসর শামসুল হুদাকে প্রধান করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের উপ পরিচালক মোঃ আব্দুল খালেক , ময়মনসিংহ অঞ্চল শিক্ষা পরিচালক প্রফেসর আব্দুল মোতালেব হোসেনকে সদস্য করে আরেকটি কমিটি গঠন করে, শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি ২৯ নভেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কলেজ পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে ঘটনার চারদিন অতিবাহিত হলেও ঘটনার মূল নায়ক ফুলবাড়িয়া থানার আলোচিত অফিসার ইনচার্জ রিফাত খান রাজীবসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের এখনো  প্রত্যাহার করা হয়নি।

ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজ জাতীয় করনের দাবিতে গত ২৭ নভেম্বর রবিবার আন্দোলনরত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশের লাঠি চার্জে শিক্ষকসহ ২জন নিহত এবং পুলিশ সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অর্ধশত আহত হয়।জনগনের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা প্রশাসন কলেজ ক্যাম্পাসসহ ফুলবাড়িয়া পৌর এলাকায় কোন প্রকার সভা সমাবেশ ও মিছিলের উপর গত ২৮ নভেম্বর ১৪৪ ধারা জারির একদিন পর ২৯ নভেম্বর রাতে তা প্রত্যাহার করেন। 

এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার জন সাধারনের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও পুলিশী গ্রেফতার আতংকে ভুগছে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরত ফুলবাড়ীয়া বাসী। ফুলবাড়িয়া  ডিগ্রী কলেজকে সরকারী করনের দাবিতে গত ১৫ অক্টোবর থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন