বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫২:৫২ পিএম

চাঁদা দাবি করায় এএসআইকে পিটুনি!

জেলার খবর | নেত্রকোনা | বুধবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৬ | ১১:৫৭:১০ পিএম

নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরুল কায়েস পিটুনির শিকার হয়েছেন। মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তারের হুমকি দিয়ে এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করায় তিনি এই পিটুনির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে উপজেলার ডাইয়ারকান্দা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ বুধবার ওই থানার এসআই হাবিবুর রহমানের সঙ্গে সরকারি কাজে নেত্রকোনা আদালতে যাওয়ার কথা ছিল এএসআই ইমরুলের। কিন্তু ইমরুল সেটি না করে বেলা দেড়টার দিকে রংছাতি ইউনিয়নের ডাইয়ারকান্দা বাজারে যান। তিনি ওই বাজারের আবু বক্করের চায়ের দোকানে ঢোকেন। সেখানে বসে কথা বলছিলেন স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ী মো. নূরুল ইসলামের ছেলে আল আমীনসহ কয়েকজন। ইমরুল আল আমীনকে ডেকে নিয়ে তাঁর কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তা না দিলে আল আমিনকে জুয়া খেলার অভিযোগ এনে গ্রেপ্তার করা হবে বলে হুমকি দেন ইমরুল। টাকা এনে দেওয়ার কথা বলে আল আমীন বিষয়টি এলাকাবাসীদের জানান। কিছুক্ষণ পর এলাকাবাসী একজোট হয়ে ইমরুলের ওপর চড়াও হন এবং তাঁকে পিটুনি দেন। এ সময় ইমরুলের সঙ্গে থাকা মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়। এক পর্যায়ে ইমরুল তাঁর কাছে থাকা সরকারি হাতকড়া ফেলে রেখে দৌড়ে পালিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।

এ বিষয়ে আল আমীন বলেন, ‘এএসআই ইমরুল আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, তোর নামে জুয়া খেলার অভিযোগ আছে। আমাকে নগদ ২০ হাজার টাকা দে। না হলে তোকে জুয়া আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নিয়ে যাব। বিষয়টি এলাকাবাসীকে জানালে তাঁরা এসে জিজ্ঞাসা করলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁদেরও হুমকি দেন।’
এ প্রসঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইফুজ্জামান খোকন বলেন, ‘আল আমীন এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে পরিচিত। তাঁর নামে থানায় কোনো অভিযোগ নেই। শুনেছি, ওই পুলিশ কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে চাঁদা দাবি করায় গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।’ 
এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের ওপর যাতে কোনো হয়রানি না করা হয়, সে ব্যবস্থা নিতে তিনি কাজ করবেন বলেও জানান ভাইস চেয়ারম্যান খোকন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে ইমরুল পলাতক রয়েছেন। মুঠোফোনের সংযোগ বন্ধ পাওয়ায় এ ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কলমাকান্দা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মিজানুর রহমান বলেন, এসআই হাবিবুরের সঙ্গে নেত্রকোনা আদালতে জরুরি কাগজপত্র নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল ইমরুলের। আদেশ অমান্য করে ডাইয়ারকান্দা বাজারে যাওয়ায় ইমরুলের নামে তিনি (ওসি) সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। হাতকড়াটি উদ্ধারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনার পুলিশ সুপার (এসপি) জয়দেব চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইমরুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন