বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭ ০৮:১৩:৪৭ পিএম

মানবতাবিরোধী ইদ্রিস আলী সরদারকে মৃত্যুদণ্ডের রায়

জাতীয় | শরীয়তপুর | সোমবার, ৫ ডিসেম্বর ২০১৬ | ০১:০১:১৪ পিএম

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শরীয়তপুরের মৌলভী ইদ্রিস আলী সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন ৩ সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেছে। গতকাল বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন এ বেঞ্চ রায়ের জন্য দিন ঠিক করে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকায় গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুটপাট-অগ্নিসংযোগ ও হিন্দুদের দেশান্তরে বাধ্য করার মত মানবতাবিরোধী অপরাধের চার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ইদ্রিসের বিরুদ্ধে।
ট্রাইব্যুগনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম বলেন, রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা মামলাটি কার্যতালিকায় আনা হলে বিচারক রায় ঘোষণার দিন ঠিক করে দেন।
এর আগে গত ২ নভেম্বর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুমের সঙ্গে ঋষিকেশ সাহা ও রেজিয়া সুলতানা চমন শুনানিতে অংশ নেন। আর পলাতক আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসাবে শুনানি করেন গাজী এমএইচ তামিম।
গত ২৫ অক্টোবর এ মামলায় গ্রেপ্তার অপর আসামি মাওলানা সোলায়মান মোল্যা ওরফে সোলায়মান মৌলভী ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
চলতি বছর ২মে যুদ্ধাপরাধের চার ঘটনায় অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ইদ্রিস ও সোলায়মানের বিচার শুরু করে ট্রাইব্যুনাল।
ইদ্রিস আলীর বাড়ি শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের পালং থানার পশ্চিম কাশাভোগ গ্রামে। আর সোলায়মান মোল্যার বাড়ি একই ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামে।
অভিযোগপত্রের তথ্যঅনুযায়ী, সোলায়মান মোল্যা ১৯৬৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরে পালং থানার সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৭০ এর নির্বাচনে জমিয়াতুল উলামায়ে ইসলামে যোগ দিয়ে তিনি প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।
অভিযোগ সমূহ:
মুক্তিযুদ্ধের সময় সোলায়মান মোল্যা তার নিজের এলাকায় শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনী গঠনে নেতৃত্ব দেন এবং যুদ্ধাপরাধ ঘটান।
ইদ্রিস আলী ষাটের দশকে ছিলেন জামাতের তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘের স্থানীয় নেতা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনিও রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়।
তদন্ত সংস্থা জানায় দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি জামাতের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার স্বর্ণঘোষ গ্রামের যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার ২০১০ সালের ১১ মে ইদ্রিস আলী ও সোলায়মান মোল্যাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে শরীয়তপুরের আদালতে মামলা করেন। ওই মামলা পরে পাঠানো হয় ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল অনুসন্ধান শেষে ইদ্রিস ও সোলায়মানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন।
গতবছর ২২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে চলতি বছর মে মাসে অভিযোগ গঠন করে। এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ১৩ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে আদালত।


সুত্রঃ দেশ টিভি নিউজ

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন