বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫২:৪১ পিএম

আজ ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত দিবস

উত্তম রায় | জেলার খবর | লালমনিরহাট | মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ | ১০:০০:৫৬ এএম

আজ ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর লালমনিরহাট মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে লালমনিরহাট জেলা পাক হানাদার মুক্ত হয়।

সবদিক থেকে আক্রমন চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা লালমনিরহাটকে পাকহানাদার বাহীনি মুক্ত করে জয়বাংলা শোগান দিয়ে বিজয়ের পতাকা উড়িয়েছিল বাংলার বীর সেনানীরা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়েছে রাজাকারদের নাম । 

রেলওয়ে বিভাগীয় শহর খ্যাত লালমনিরহাট ছিল অবাঙ্গালী অধ্যুষিত এলাকা। ফলে অবাঙ্গালীদের সাথে বাঙ্গালীদের বিরোধ ছিল তুঙ্গে। ন্বাধীনতার যুদ্ধের উষালগ্নে শহীদ হন শাহাজাহান নামের এক যুবক।

যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক সেনারা বিহারী বা অবাঙ্গালীদের সহযোগিতায় ৪ ডিসেম্বর লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রিক্সা স্ট্যান্ডে সারিবদ্ধ করে রেলওয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিশু ,নারী সহ নিরীহ সাধারণ বাঙ্গালিদের উপর পাকহানাদার এবং তাদের দোষররা ব্রাশ ফায়ার করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ক্ষান্ত হননি শিশু ও নারীদের নির্মম নির্যাতনের পর তাদেরকে হত্যা করে। পরে এদের লাশ জড়ো করে রেলওয়ে ষ্টেশনের পাশেই একাধিক গর্তে পুতে রাখা হয়। এটির নাম করন হয় গণ কবর। 

৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা তিন দিক থেকে আক্রমন চালিয়ে লালমনিরহাট শহরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে । মুক্তিযোদ্ধাদের এ আক্রমনে টিকতে না পেরে খান সেনারা পিছু হটতে থাকে। একপর্যায়ে তারা একটি বিশেষ ট্রেন যোগে লালমনিরহাট শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে বীরমুক্তিযোদ্ধারা জয়বাংলা ম্লোগানে লাল সবুজের বিজয় পতকা উড়িছে। 

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ৬ ডিসেম্বর মুক্ত দিবস পালিত হলেও স্বাধীনতার এ পর্যায়ে এসে প্রত্যাশা পূরনের যেন অনেক কিছুই বাকী, এমন দাবী মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ সহ এই প্রজন্মের । বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবু শৈলেন কুমার রায় জানান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিকভাবে আগামী প্রজন্মের জন্য ধরে রাখতে সরকারকেই প্রধান ভুমিকা রাখতে হবে । সেই সাথে এ জেলার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সকলকে জানতে হবে। এখানকার মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের ফলে পাকবাহিনীরা তিস্তা রেলওয়ে সেতু হয়ে ওই দিন ভোর রাতে তারা এখান থেকে বিকারিত হয়। 

এবং এই দিনে লালমনিরহাট হানাদার মুক্ত হয়। জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন জানান, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেড়িয়ে গেলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রয়েগেছে রাজাকারদের নাম । শুরু হয়েছে মানবতা অপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর। লালমনিরহাটের মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যাশা, সকল মানবতা অপরাধীদের বিচারের রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক।

নতুন প্রজন্মের শিশু ও স্থানীয় সংবাদ কর্মী,কবি ও সাহিত্যিকরা জানান, জেলার গণকবর গুলো সংস্কার করে এই জেলার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত করে রাখতে দৃশ্যমান করার দাবী।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন