মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯ ০৯:০৩:২৫ এএম

কটিয়াদীতে আমন ধান আবাদে ব্যস্ত চাষীরা

মোঃ ছিদ্দিক মিয়া | জেলার খবর | কিশোরগঞ্জ | কটিয়াদী | সোমবার, ২২ আগস্ট ২০১৬ | ১২:২৭:১১ পিএম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে গত বছর আমন ধানের ভাল ফলন হলেও আশানুরুপ দাম না পেয়ে জেলার কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আর সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে চলতি মৌসুমেও আমন ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষীরা। বছরের পর বছর ধানের কাংখিত দাম না পেয়ে ধান চাষের উৎসাহে কিছুটা ভাটা পড়লেও থেমে নেই নিরুপায় কৃষক।
আমাদের উপজেলা প্রতিনিধি পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিতিতে জানা যায় নতুন করে আশায় বুক বেঁধে আবারো মেতে উঠেছেন রোপা আমন আবাদে। লাভ-লোকসান যাই হোক পূর্ব পুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই তারা একটু ভালভাবে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাধারন্ত জুলাই- আগষ্ট মাসে রোপা আমনের চারা জমিতে রোপন করতে হয় এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে কৃষকেরা পাকা ধান ঘরে তোলে। 
গত মৌসুমে কটিয়াদী উপজেলায় ৩০ হাজার ৩ শত ১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ করা হয়েছিল। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩০ হাজার ৭৭ হেক্টরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে কটিয়াদী সদর সবচেয়ে বেশি রোপা আমনের চাষ করা হবে (১৩৫৭০ হেক্টর), এবং চান্দঁপুর৭৪৭২ হেক্টর, ও জালালপুর ইউনিয়ন ৯০৩৬ হেক্টরে রোপা আমনের চাষ করা হবে। 
উপজেলায় তিন প্রকার (জাতের) ধানের আবাদ করা হচ্ছে, হাইব্রীড ১৪১২ হেক্টর, উচ্চ ফলন শীল (উপশি) ২২৩৪৩ হেক্টর, স্থানীয় জাত ৬৩২২ হেক্টর। ইতো মধ্যে ৬৫ ভাগ ধান জমিতে রোপন করা হয়েছে, বাকি ৩৫ ভাগ রোপন করতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। সব কিছু ঠিক থাকলে উপজেলায় এ বছর ৭৫৯৪৬ মেঃ টঃ চাউল উৎপাদন হবে। কৃষকেরা জানান, গত বছর অনুকুল আবহাওয়া আর সঠিক পরিচর্যার কারনে কটিয়াদী উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল। ফলনে তারা খুশি হলেও ধানের দাম কম থাকায় লাভবান হতে পারেনি তারা। প্রতি মন আমন ধানে কৃষকের ১২০-১৫০ টাকা লোকসান হয়েছিল।
আর সেই ক্ষতি পোষাতে এবছরও আমনের আবাদে কৃষাণ কৃষাণীর ব্যস্ততার ছবি এখন কটিয়াদী মাঠে মাঠে। বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহ, জমির আগাছা পরিস্কার, জমি তৈরি, চারা রোপনসহ আমন আবাদে তাদের ব্যস্ততার প্রানবন্ত নানা দৃশ্যপট যে দিকে দুচোখ যায়। ভাল ফলন পেতে সার ছিটানো, সেচ দেওয়াসহ ক্ষেতের নানা পরিচর্যায় সকাল সন্ধা খেটে চলছে। নিরুপায় কৃষক পূর্বপুরুষের পেশাকে আঁকড়ে ধরেই বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন। 
এছাড়া কোন বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা আমন আবাদ করছেন। কৃষি উপকরনের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে চাষাবাদ দরুহ হয়ে পড়লেও অনেক আশায় আমন চাষকে ঘিরে নিরন্তর চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। তাদের একটিই চাওয়া ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের শুভদৃষ্টি পড়বে । 
কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে,  তিনটি ইউনিয়নের মধ্যে সদর ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি আমনের আবাদ করা হচ্ছে। । কটিয়াদী সদরের আদমপুর গ্রামের কৃষক তালেব মোল্ল্যা জানান গত বছর আমন চাষ করে যে টাকা খরচ করা হয়েছে তার সিকি ও তুলতে পারিনি। আমাদের দাবি কৃষকেরা জেন ধানের লেজ্য মূল্য পায়। আমি গত বছর ২ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছিলাম। ফলনও ভাল হয়েছিল কিন্তু বাজারে আমনের দাম কম থাকায় প্রতি মণ ধানে ১শ থেকে ১শ২০ টাকা ঘাটতি গেছে। লাভতো দুরের কথা আমার যে টাকা খরচ হয়েছিল সে টাকারও ধান বিক্রিয় করতে পারিনি, আমারঅনেক টাকা ঘাটতি ছিল। 
চলতি মৌসুমেও ২ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি আশা করছি সরকার আমাদের দিকে লক্ষ (খেয়াল) করবে এ বছর ধানের নায্য মূল্য পাব । চান্দঁপুর গ্রামের কৃষক তোত শেখ জানান, আমি দীর্ঘ দিন যাবৎ কৃষি কাজ করি এক মন ধান উৎপাদন করতে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা খরচ হয়। প্রতি বছই ধানের দাম কম থাকে। আমরা যে টাকা খরট করে ধান উৎপাদন করি সেই টাকার ধানও বিক্রি করতে পারিনা, বেশ ঘাটতি থাকে। এক্ষেত্রে সরকারি নজরদারি প্রয়োজন। আশা কররি সরকার এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি করবে এবং সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করবে। 
কটিয়াদী উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ হুমাযূন কবির জানান, চাষীরা ধানের কাংখিত দাম পাচ্ছেনা তাই তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। এরকম চলতে থাকলে চাষিরা ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। আশাকরি এ বছর আবাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন