বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৭ ০৪:১১:১৯ এএম

হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, থানা ভাংচুর

জেলার খবর | হবিগঞ্জ | সোমবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ | ১০:৪৪:৪৫ এএম

হবিগঞ্জে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের মোটরসাইকেল থামানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ২ পুলিশ সদস্যসহ ৮ জন আহত হয়েছেন।

রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের গাড়ি ও থানা ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৯ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে আহত এসআই অরূপ কুমার চৌধুরী ও এসআই জাকির হোসেনকে সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং অন্য আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, অবৈধ ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন আটক করতে নিয়মিতভাবে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় চেকপোস্ট বসানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় রোববার শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। দুপুরে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিতের নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেল ওই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল।

এ সময় তাদের মোটরসাইকেলগুলো পুলিশ থামায়। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিত-া হয়। পরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে থানায় গিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশের দু’টি গাড়িও ভাংচুর করা হয়।

এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মুকিদুল ইসলাম মুকিত বলেন, 'রোববার দুপুরে আমি, কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি কিবরিয়া ও পৌর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের সদর উপজেলার গোপায়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষ করে মোটরসাইকেলযোগে অন্য একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য রওনা হই। আমরা ২ নম্বর পুল এলাকায় পৌঁছলে চেকপোস্টে পুলিশ আমাদের থামিয়ে প্রথমে কাগজ দেখতে চায়। কাগজ ঠিক থাকায় তারা আমাদের তিনজনকে একটি সাইকেলে যেতে বারণ করে। আমরা পুলিশকে বলেছি একটি অনুষ্ঠানে যাব। কিন্তু তারা আমাদের তিনজনকে এক মোটরসাইকেলে যেতে দেবে না। একজনকে নেমে যেতে বলে। খবর পেয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা থানার সামনে এসে রাস্তা অবরোধ করে। এ সময় লুঙ্গি পরা দাঁড়িওয়ালা এক ব্যক্তি থানার সামনে থেকে শর্টগান দিয়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরাও থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আমরা এসে তাদের থামিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশের একটি পিকআপভ্যান এসে ছাত্রলীগ কর্মী জিহাদকে চাপা দেয়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট পাঠানো হয়েছে। তখন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা ওই গাড়িটির গ্লাস ভাংচুর করে।'

সদর থানার ওসি ইয়াছিনুল হক জানান, ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েকটি মোটরসাইকেলে তিনজন করে চেকপোস্ট অতিক্রম করছিল। এ সময় পুলিশ তাদের থামিয়ে একেকটি মোরসাইকেলে তিনজন করে বহন না করতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা এসে থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। একটি গাড়ি ভাংচুর করে। পুলিশ পাল্টা ৯ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন