বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ ০৯:১৭:৩৩ পিএম

নাসিক নির্বাচন, পা ছুঁয়েভোট চাইছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা

রাজনীতি | নারায়ণগঞ্জ | সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬ | ০৩:২১:১৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের আর মাত্র ৩ দিন বাকি। এ শেষ সময়ে পা ছুঁয়ে, বুকে বুক রেখে ভোট চাইছেন কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ভোটারদের এমন সম্মান দেখানো প্রার্থীদের একটি কৌশল বলে মনে করছেন অনেক প্রার্থী। ফতুল্লার কিছু অংশে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪টি ওয়ার্ড। এগুলো ১১, ১২, ১৩ ও ১৪নং ওয়ার্ডের কিছু অংশ। এতে পৃথকভাবে ভোটার সংখ্যা নির্ণয় করা না হলেও জমে উঠেছে শেষ সময়ের প্রচারণা।

প্রতিটি এলাকা ছেয়ে গেছে পোস্টারে। প্রার্থীরাও ভোট চাইতে গিয়ে দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। ফলে ফতুল্লার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলছে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ভোটারদের আলোচনা। এছাড়া প্রতিটি এলাকায় চায়ের দোকানগুলোতে কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে প্রার্থীদের নিয়ে নানা আলোচনা।

সরেজমিন জানা যায়, ফতুল্লার মাসদাইর ও গলাচিপা এলাকার কিছু অংশ নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের ১৩নং ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডে মোট প্রার্থী ৫ জন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ ও যুবদলের দুই নেতা হেভিওয়েট প্রার্থী। তাদের দুজনের মধ্যে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার শেষ ৫ বছর ও সিটি কর্পোরেশনের ৫ বছর ১৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর ছিলেন। আর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন গত সিটি নির্বাচনে মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

এবারও মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করবেন বলে প্রস্তুতি নিয়েছেন রবিউল হোসেন। এতে দুই প্রার্থীর মধ্যে চলছে পোস্টার ছেঁড়া ও মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ অভিযোগ করে বলেছেন, আমি দুবার এ ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর। অথচ আমি রাতে পোস্টার লাগাচ্ছি কিন্তু সেগুলো ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। রবিউল হোসেনের লোকজন এসব করছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে ১৩নং ওয়ার্ডকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করবো। এদিকে এ বিষয়ে রবিউল হোসেন বলেন, আমার কোনো লোক এ ধরনের কাজ করেছে কিনা সেটা প্রমাণ দিতে বলেন। অহেতুক মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন খোরশেদ। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় রয়েছি। ১৩নং ওয়ার্ডে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়নি। আমি নির্বাচিত হলে আরও উন্নয়ন করবো।

জানা যায়, ১৩নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে অংশ নিচ্ছেন বর্তমান কাউন্সিলর মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ঠেলাগাড়ি প্রতীকে, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রবিউল হোসেন লাটিম প্রতীকে, জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ ব্যাডমিন্টন, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য সাখাওয়াত হোসেন সুমন ঘুড়ি এবং ফরিদ উদ্দীন আহম্মেদ রিপন রেডিও প্রতীকে।

ভোটাররা জানিয়েছেন, এ ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী থাকায় খোরশেদের সম্ভাবনা বেশি। টানা দুবার খোরশেদ নির্বাচিত হয়ে এ ওয়ার্ডে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে নির্বাচনের আগে অনেকেই ধারণা করেছিলেন এখানে আওয়ামী লীগ একক প্রার্থী হিসেবে রবিউল হোসেনকে সমর্থন দেবে। কিন্তু শেষতক সেই সমর্থন আর পায়নি রবিউল হোসেন। ফলে এখানে তিনজন আওয়ামী লীগ নেতাই প্রার্থী হিসেবে লড়াই করছেন। ভোটাররা জানিয়েছেন, এখানে আওয়ামী লীগের ভোট ভাগ করতেই খোরশেদের ডামি প্রার্থী হয়েছেন ফয়েজউল্লাহ ফয়েজ।যুগান্তর।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন