শনিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৭ ০৫:২০:০১ এএম

দেশি তরুনীরাই নয় বিদেশি তরুনীরাও আজ পুরষ কর্তৃক লাঞ্চিত

রাকেশ রহমান | খোলা কলাম | বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৬ | ১০:৪৯:৪২ এএম

মেয়ে, মা, বোন সহ কম বেশি প্রায় সকল তরুনীরাই আজ দেশে বিদেশে হচ্ছে লাঞ্চিত। দেশে বিবাহিত অবিবাহিত প্রায় সবাই ঘরে বাইরে পুরুষ দ্বারা হচ্ছে মানুষিক শারিরীক নির্যাতিত। দূর থেকে মনে হয় বা আমরা মনে করি বিদেশি মেয়েরা বেশ খোলামেলা থাকে ও চলাফেলা করে তাই তাদের পুরুষ দ্বারা মানুষিক শারীরিক নির্যাতনের সম্ভাবনা হয়তো নেই।

কিন্তু বাস্তবে আসলেই ভিন্ন কথা এখন তুলে ধরবো বিদেশি একটা তরুনীর কাজ থেকে শুনা দুঃখের ঘটনা বহুল নির্যাতনের ঘটনা ।

আমি ইউরোপের একটি দেশে থাকার ও পড়ালেখা করার সুবাদে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মেয়েদের সাথে অবাধ চলাফেরার সুযোগ পেয়ে ছিলাম।

সেই সুযোগ থেকেই আমি অনেকের জীবনের অপ্রকাশিত সত্যের মুখোমুখি হয়েছি আর বার বার তাদের দুঃখে হয়েছি চরম দুঃখিত।

আমিও একজন পুরুষ আমার কাছেও অন্যান্য পুরুষের থেকে নারীর শরীর অনেক অনেক বেশি পছন্দ কিন্তু পারলাম না তো জীবনে একজন নারীকেইও অসম্মানিত করতে।

জীবনে ভালো মন্দ অনেক তরুনী দেখেছি মিশেছি কিন্তু ব্যাক্তিত্ব বিশ্বাস ভঙ্গ করে ওঠে সুযোগ কাজে লাগানোর মত পশুতো হতে পারলাম না।

নারীর প্রতি উত্তেজনা আমারও ছিল কিন্তু বারবার উত্তেজনাকে হার মানিয়েছে ব্যাক্তিত্ব।
আমি মনে করি পুরুষের মনটাই হতে হবে পুরুষের শারীরিক কাঠামোর মত শক্ত। মনকে একবার ব্যাক্তিত্বের জালে আবদ্ধ করতে পারলে কোন পুরুষকেই উত্তেজনা কাবু করতে পারবে না ।

আমার ক্লাস ছিলো প্রতিদিন বিকাল ৫.০০থেকে রাত ১১.০০ টা পর্যন্ত। আমি তখন একটা নাম করা কোম্পানিতে কঠিন পরিশ্রমের চাকুরী করতাম তাও সিবটিং সময়ের। আমার বাসা থেকে ক্যাম্পস ছিল অনেক দূর প্রায় ১৫ কি:মি: তারপর আবার শীতের দিন বৃষ্টি বরফ ভেঙ্গে প্রতিদিন ক্লাশে আসতাম আর বাড়ী ফিরতাম রাত ১২ টায় তার পর ৪/৫ ঘন্টা ঘুমিয়ে সকালে ৬.০০ টায় কাজ খুব কষ্ট হলেও সকল কষ্ট দূর হয়ে যেত যখন ক্লাশে উপস্থিত হতাম ।

আমি তখন নতুন দেশ নতুন ভাষা আবার ক্লাশের প্রায় অধিকাংশ ছাত্রী থাকায় কিছুটা নার্ভাস থাকতাম কিন্তু সাইন্সের বিষয় গুলোতে হিরো হয়ে যেতাম কারন দেশে পদার্থ বিজ্ঞানে অনার্স পড়ে এসেছি।

এভাবেই প্রায় সব ছাত্রীর সাথেই আমার বন্ধুত্ব হয়ে গেল পাশাপাশি আমি ভালো হাত দেখতে পারি তাই সবাই হাত দেখাতো ,অনেকের অতীতের কিছু কিছু বলতে পারায় আমি বেশ পরিচিত হয়ে উঠি ছাত্রীদের কাছে।

প্রতি সপ্তাহেই আমার দাওয়াত থাকতো এর ওর জন্মদিনে আমার জীবনের সোনালি অধ্যায়ের এটি একটি সময় ছিল।

আমার এক বান্ধবীর দাওয়াতে যাই এক শনিবার রাতে আমরা রেস্টুরেন্টে খেয়ে বের হয়েছি চলে আসবো। সবাই চলে গেল শীতের রাত ১২টা অনেক রাত আমি যেহেতু মটর সাইকেল চালাই তাই যার জম্মদিন ওর বাসায় মোটর সাইকেল রেখে গাড়ীতে এসেছিলাম এখন ফিরছি ওর সাথে ওর বাসায় গিয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে এক বন্ধুর মতন বড় ভাইয়ের বাসায় রাতে থাকবো।

আমরা ওর বাসার কাছে চলে এসেছি ওর নাম আন্না।আন্না বিশাল বড় লোকের মেয়ে বাসাও বিশাল জমিদার বাড়ীর মত।

আন্নার জীবনটা এত কষ্টের যে ওঁকে দেখলে বোঝাই যায় না। আন্নার বয়স ২৩ বছর ওর কোন ছেলে বন্ধু নাই কারন আন্না ছেলেদের ঘৃনা করে।

আন্না একবার আমাকে প্রশ্ন করেছিল আচ্ছা তোমাদের এশিয়ানদের চোখ কয়টা আমি বল্লাম কেন ২ টা ও হেসে বল্লো না ভুল তোমাদের চার চোখ তোমরা যেভাবে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকো তার থেকে আমাদের ধর্ষণ করাও ভালো। দুই চোখ স্থির থাকে বুকে দুই চোখ নিচের দিকে কেন এভাবে তোমরা দেখো?
আমি বল্লাম জানি না। কি উত্তর দেয়ার আছে?

আসলেই ইউরোপে আমাদের দেশের ও এশিয়ান ছেলেরা যে ভাবে মেয়েদের দিকে তাকিয়ে থাকে তা বলার কিছু থাকে না জঘন্য ভাবে তাকিয়ে থাকে এমন কি পর্দা করা মেয়েদেরও এরা দেখতে বাদ দেয় না।তবে ইউরোপের ছেলেদের ব্যবহার ও চাহনি আসলেই প্রশংসা করার মতই।

আন্নার মনটা অনেক কোমল কিন্তু আন্নার কষ্ট টা অনেক বেশি কারন আন্না চার বছর আগে ধর্ষন হয়েছিল আমাদের দেশেরই এক পরিবার নিয়ে থাকা লোকের কাছে তা আমি যানতাম না ।

ওদের বাসায় চলে আসলাম বাইরে তুষার ঝড়ছে। ওর সাথে বাসায় ঢুকলাম ওর বাবা ,মা ও ওর বড় বোন বসে আছে সিটিং রুমে বিশাল বাড়ী আজ বাইরে খেলাম কিন্তু ওদের বাসায়ও দেখি বিশাল আয়োজন আমিতো জানিনা আমার জন্য সব হালাল মাংসের আয়োজনও করেছে।

এর আগে কয়েক বার এসেছি ওর বাবা ,মা আমাকে খুব আদর করেন বিশেষ করে ওর বাবা আমার সাথে দাবা খেলতে খুব পছন্দ করেন।

আন্না যে ধর্ষিত হয়েছে তা ওর বাবা মা জানে না।যেই আন্না কোন ছেলেকে দেখতে পারে না সেখানে আমাকে বাসায় নিয়ে আসে তাই ওর বাবা ,মার কাছে আমি খুব আদরের হয়ে উঠি।

খুব ছোট বেলা থেকেই ওদের বাসায় এক বাংলাদেশি পরিবার কাজ করতো বেতনও অনেক দিতো পরিবারের দুই বাচ্চার জন্মও এই বাড়ীতে।

সেই পরিবারের লোকটা ভালো ছিলে কিন্তু লোকটার বাচ্চা ছেলেটা বয়স বারো না পার হতেই বয়সে বড় আন্নাকে নিরব ভাবে ধর্ষন করে ফেলে ।সেই ছেলেটা কারনে অকারনে সুযোগ পেলেই আন্নাকে ছুয়ে যেতো।

আমরা হাল্কা পানীয় পান করছি আর গল্প করেছি। আমি এবার চলে আসবো কিন্তু আন্না বলছে না আবহাওয়া ভালো না কাল সকালে যাবে এই বাসায় ওর উপরে কেউ কথা বলে না। সবাই ঘুমাতে যাচ্ছে আমি আর আন্না বসে আছি আন্না আমাকে বলছে ওর রুমে যেতে আমি ভয়ে যাচ্ছি না। হাল্কা মিউজিক চলছে ভালোই লাগছে আমি একটু নেসায় ভাসছি জানিনা আন্নাও কি ভাসছে কিনা?

কাছাকাছি সোফায় বসে আছি আমি আন্নার গায়ের তিব্র পারফিউমের গন্ধ পাচ্ছি।
বহুবার আন্নাকে জিগাসা করেছিলাম কিভাবে ছোট ছেলেটা আন্নাকে দিনের পর দিন ব্যবহার করেছিল।

এতদিন বলেনিন আজ কেন জানি বলা শুরু করলএকদিন দুপুরে আন্না কলেজ থেকে আসলে ও রুমে চলে আসে এসে কাটুন দেখতে থাকে কখন যে আন্না ঘুমিয়ে গিয়েছে টের পায়নি ঘুমের ভিতরে আন্না শারীরিক অন্য অনুভুতি টের পায় এবং হঠাৎ উঠে দেখে ছোট ছেলেটা ওর শরীরের উপরে উঠে বসেছে।

আন্না ওঁকে সরাতে বহু চেষ্টা করেও পারছে না আন্নার শরীর অবশ হয়ে আসতে থাকে ধীরে ধীরে ছেলেটা আন্নার শরীর কাবু করে ফেলে এবং ছেলেটা আন্নার শরীরে প্রবেশ করে ফেলে। ভেবেছিলাম ছোট ছেলে কতটুকুই বা হবে কতক্ষনই বা থাকবে বিশ্বাস কর অনেক্ষণ ছিল। তারপর কি একবার নয় দুই বার নয় বেশ কয়েকবার ছিল। আমি তৃপ্তি পেয়েছি কিন্তু মেনে নিতে পারিনি।

আমি এর পর থেকে ওঁকে সহ্য করতে পারতাম না বাসায় বলতে শুরু করলাম ওরা বেয়াদব কেউ আমার কথা শুনতো না আমিও পরিষ্কার করে বলতে পারতাম না ।

একদিন তো ওর বাবা দেখে ফেলে তারপর আর কি ?মনে করে আমি হয়তো খারাপ তাই সুযোগ বুঝে ছেলের বাবাও একদিন রাস্তায় বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি থামিয়ে আমাকে জোড় করে ভোগ করে ঐদিন আমি খুব কষ্ট পাই মনে হয়েছিল কেন মেয়েরা ছেলেদের ভোগের পন্য হল? এর পর থেকে আমি কোন ছেলেকেই পছন্দ করতে পারছি না।

অবশেষে আমি কারনে অকারনে যখন মারতে শুরু করি একদিন আমাকে জড়িয়ে ধরে সিড়িতে আর আমি ওকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই তখন পড়ে ওর মাথা ফেটে যায় পরে পুলিশ আসে এবং জরিমানা দিয়ে ওদের বাসা থেকে বিদায় করেছি কিন্তু অনেক দেরি করে ফেলেছি ৬ মাস ধরে ছেলেটা আমাকে ভোগ করতে করতে বিরক্ত করে ফেলে ছিলো।

তুমিও তো ছেলে তুমিও তো চাও ভোগ করতে তাই না ? চলো এসো আমার সাথে আজ তোমাকে আমি নিজে থেকে দিচ্ছি নেও নেও ভোগ কর।আমার মাথা গরম হয়ে গিয়েছিলো এক চর মেরেছিলাম ওর গালে।

আন্না আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল আমি বার বার উত্তেজিত হচ্ছিলাম হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছিল বার বার নিজেকে প্রশ্ন করছিলাম আমি কি হেরে যাবো সামান্য কামনার কাছে? পাশাপাশি দোয়া পড়ছিলাম আল্লাহ আমাকে হারিয়ে দিও না।

অনেকক্ষন ও আমার বুকে ছিলো কান্না করতে করতে ঘুমিয়ে গিয়েছিল আমি সোফায় বসে একটু করে ঘুমাছিলাম একটু করে উত্তেজিত হচ্ছিলাম আবার স্বাভাবিক হচ্ছিলাম।এভাবেই ঘুমিয়ে পড়লাম কি ভাবে যে সারারাত পার করেছি তা বলে বুঝানো যাবে না।সকাল ১০ টায় আন্না উঠে বসলো আমিও উঠে গেলাম।

আবার শুরু করলো জিদ রাগ কেন ওকে ভলোবাসবো না? আন্না বলছে আমি ধর্ষিত তাই তুমি আমাকে ভলোবাসবে না?

আমি বল্লাম আন্না দেখ তুমি অসাধারন সুন্দরী আমি তোমার দেশের ও একই ধর্মের হলে আমি তোমাকে বিয়ে করতাম কিন্তু এখন এটা কোন ভাবেই হবার না।

অতিরিক্ত তিক্ততার আন্না আমাকে লম্পট পুরুষদের জন্য হেয় করেছিল, অনেক দিন ছিল আমাদের বন্ধুত্ব কিন্তু পবিত্র সম্পর্কের সাথে । আমি ধন্য কারন পুরুষ হিসেবে আমি কোন দিন কোন নারীর সাথে অভিনয় বা ছলনা করিনি কখনও ,আমি পুরুষ আমার ব্যক্তিত্ব আছে ।

কষ্ট পাই অনেক তরুনীর দুঃখে ,নিজেকে হেয় মনে হয় তারপরও নিজেতো ভালো আছি । নিজে খারাপ হলে বহু তরুনী হয়ত আমার কাজ থেকেও নির্যাতিত হয়ে কষ্ট পেত।

এরকম কষ্টে ভরা দেশি বিদেশি নারীর জীবন। তবে খারাপ নারী যে নাই তাও আবার নয় আছে ভালো মন্দ মিলিয়ে মানুষ । সকল মন্দ মানুষের জীবন ব্যক্তিত্ব ও মনুষত্ব্য বিকাশিত হোক সেই কামনাই রইল।

লেখক, প্রবাসী

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন