মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭ ১২:৫৯:১৭ পিএম

নতুন সহস্রাব্দের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান: জাফর ইকবাল

জেলার খবর | জামালপুর | রবিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ | ০৯:৫৭:০৬ পিএম


তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে শাবিপ্রবি'র কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ডিন ও প্রখ্যাত লেখক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, নতুন সহস্রাব্দের সম্পদ হচ্ছে জ্ঞান। তোমাদের জ্ঞান বেড়ে গেলে ধাপে ধাপে দেশের সম্পদ বেড়ে যাবে।

পৃথিবীর বড় বড় দেশগুলো বলছে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশ একটি জ্ঞানী দেশে পরিণত হবে। তারা এও বলছে, তাদের ছেলে-মেয়েরাও নাকি একদিন বাংলাদেশ পড়তে আসবে। একদিন বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে লেখাপড়া করলে তাদের অভিভাবকরা গর্ব করে বলবে আমার সন্তান বাংলাদেশে লেখাপড়া করছে। আজ রবিবার দুপুরে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ী ফাজেল মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষপুর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মির্জা আজম তাকে নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে ঘিরে গোটা অনুষ্ঠানস্থলে হুলুস্থুল পড়ে যায়। ছাত্র-ছাত্রী, কিশোর-কিশোরী, অভিভাবক থেকে শুরু করে সবাই তাকে দেখতে ভিড় করেন। অটোগ্রাফ নিতে সবাই তার কাছে ছুটে যান। তাকে কাছে পেয়ে সবচেয়ে বেশি খুশি হতে দেখা যায় ছাত্র-ছাত্রীদের।

লেখক জাফর ইকবাল আরও বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা পড়ালেখায় অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের ছেলে-মেয়েরা একসাথে পড়ালেখা করে। সেই দেশ একদিন ঠিকই এগিয়ে যাবেই।

এ সময় তিনি একটি বাস্তব গল্পের অবতারণা করে বলেন, আমার এক ছাত্র ঢাকায় একটি প্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। তারা সেখানে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে বেতন দেয়। ৪০০ জন সেখানে কাজ করে। বছরে তারা বেতন দেয় চার কোটি টাকা। কিছুদিন আগে সে আমার কাছে এসেছিল। জানতে চাইলাম তোমরা কিভাবে কর্মী বাছাই করো। সে বলল, আমাদের কাছে চাকরি প্রার্থী কেউ আসলে আমরা তাকে তিনটি প্রশ্ন করি না। প্রশ্নগুলো হলো- তুমি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছো। তুমি কোন বিষয়ে পড়েছো। তুমি পাস করেছো কিনা। এর কারণ হলো- আমাদের কাজের মানুষ দরকার। কাজ পারে কিনা সেটাই জরুরি।

অনুষ্ঠানে আগত তরুণ ছাত্র-ছাত্রীদের সতর্ক করে ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, তোমরা গাইড বই মুখস্ত করে কিংবা কোচিং সেন্টারে পড়ে মার্কসের জন্য পড়ালেখা করবে না। সেই দিন শেষ হয়ে গেছে। শিখতে হবে। জানতে হবে। তুমি নিজের মতো করে জ্ঞান অর্জন করে যাও। সত্যিই আমাদের এখন কাজের মানুষ দরকার। জ্ঞানী মানুষ দরকার।

তিনি আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মোট জনসংখ্যা দুই কোটি। আর আমাদের দেশে শুধু চার কোটি ছাত্র-ছাত্রীই আছে। তাই আমি এক অপার সম্ভাবনা দেখি আগামীর বাংলাদেশকে নিয়ে।

জাফর ইকবাল বলেন, আমাদের দেশের তিনটি শ্রেণির মানুষ দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। প্রথমত গার্মেন্টেসের মেয়েরা, দ্বিতীয়ত প্রবাসী শ্রমিকরা এবং তৃতীয়ত আমাদের চাষীরা। কেবল মাত্র তারাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা কি লক্ষ্য করলাম। দেখা যাচ্ছে। আমরা শিক্ষিত শ্রেণির মানুষেরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্ষেত্রে একেবারেই পিছিয়ে আছি। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। আজকের তরুণদেরকেই এ নিয়ে ভাবতে হবে।

এ ছাড়াও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে তুলে না নিলে আজকে হয়তো আমরা এই রকম একটি আনন্দঘন অনুষ্ঠানই করতে পারতাম না।

শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা পর্বের আগে জাফর ইকবালকে সাথে নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ ফাজেল মোহাম্মদ এর স্মারকস্তম্ভ (ম্যুরাল) উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী। পরে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনা, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক পায়রা উড়ানো এবং শতবর্ষের স্মারক বেলুন উড়ানো হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিজুড়ি ফাজেল মোহাম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুবুর রহমান রিপন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এমপি। এ ছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসাবে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন আহম্মেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার সম্পাদক নইম নিজাম, জামালপুরের জেলা প্রশাসক মো. শাহাবুদ্দিন খান, পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন ও জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদারগঞ্জ উপজেরা চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বেলাল, ইউএনও ড. কামরুজ্জামান, পৌর মেয়র মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, আছাদুজ্জামান তালুকদার, আতাউর রহমান আবু তালুকদার, আব্দুল হাই, শাহিনুল ইসলাম, ইউসুফ আলীখ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র ইউসুফ আলী।

আলোচনা পর্ব শেষে বিকেলে র‌্যাফেল ড্র, রাতে উৎসবের স্মারক ফানুস উড়ানো এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী বর্ণিল এ উৎসবে অংশ নেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন