বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ ০৪:৪৫:১৬ এএম

লালমাই উপজেলা, কার গলায় কার মালা !!!

সম্পাদকীয় | মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারী ২০১৭ | ০৯:০৩:১১ পিএম

সকাল থেকেই ফেসবুকের ওয়ালে লালমাই উপজেলা নিয়ে অনেক ছবি ও মিষ্টি বিতরণ দেখে আমি হতচকিত ও অন্তবিহীন আশ্চর্যন্বিত হয়ে আছি.

লালমাই হলো আমার জন্মস্থান. কুমিল্লা তথা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পুরাণ ও লাখো বছরের ইতিহাস বিজড়িত স্থান এই লালমাই .

লালমাই শব্দটি দেখলেই প্রাণটি কেঁপে উঠে. মনে হয় যেন আমার নিজের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে নিজের সামনে .

আমার শৈশব ও প্রিয় ছাত্র জীবনের অনেক অংশ কেটেছে এই লালমাই এর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে.
সুবাদে, লালমাই এর যে কোনো ভালোকেই আমি সব কিছুর ঊর্ধ্বে বিবেচ্য বোধ করি.

আজ সকাল থেকে লালমাই নামটি ফেসবুকে যতবার উচ্চারিত হয়েছে ততবার কখনোই উচ্চারিত হয়নি .

এর বিশেষ একটি কারণ আছে, লালমাই নামক একটি উপজেলা সম্প্রতি মন্ত্রী পরিষদের চূড়ান্ত বৈঠক একনেক অনুমোদিত হয়েছে.

লালমাই বাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দ এবং অশেষ খুশির খবর বটে.

আমি পুরো বিষয়টা জানার পর , যার পর নাই আবেগ আপ্লুত হয়ে নির্বাক হয়ে আছি .

কারণ , আমার প্রিয় লালমাই নামটিকে এক রকম চুরি করা হয়েছে, লুন্ঠন করা হয়েছে , ডাকাতি করা হয়েছে.

যে ভৌগোলিক পরিমাপে নতুন উপজেলাটিকে গঠন করার খবর শুনেছি, সেখানে লালমাই মূল ভূখণ্ডের এক টুকরো মাটির স্পর্শ ও নেই .লালমাই থেকে অনুমোদিত নতুন উপজেলার অবস্থান দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার .

যে অঞ্চল নিয়ে নব্য উপজেলা গঠিত হয়েছে তার অবস্থান ও ইতিহাসে কখনোই লালমাই নামের সম্পর্ক ছিলোনা.

মজার বিষয় হলো, নবগঠিত উপজেলাটিতেও লালমাই এলাকার কোনো অংশেরই স্পর্শ নেই .

দীর্ঘদিন থেকেই ভৌগলিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্ব পুর্ণ স্থান লালমাই এলাকাটি বিভিন্ন ভাবে অবহেলিত হয়ে আসছে.

প্রতিটি সরকার তাদের নিজেদের প্রয়োজনে শুধু ব্যবহার করেগেছে লালমাইকে .
লালমাই কখনোই তার প্রযোজ্য মূল্যায়নে মুল্লায়িত হয়নি.

অথচ এই লালমাই পাহাড়ি এলাকাকে সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সরকারের সঠিক তদারকিতে দেশের পর্যটন খাতে বিশাল জাতীয় রাজস্ব আয়ের উৎস হিসেবে তৈরী করা যেতে পারে .

বাংলাদেশের একমাত্র লাল মাটির টিলা ও পাহাড় হিসেবে লালমাই সবচে প্রাচিন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর।

লালমাই এর আদি নাম ছিল রোহিত গিরি, যার অর্থ লাল পাহাড় বা বা পর্বত।
যুগে যুগে পাহাড়গুলোকে কেটে কেটে মাটি সরিয়ে গড়ে তুলেছে বসত বাড়ি। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনীতি এবং গায়ের জোর ব্যবহার করে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রয় করে কামিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

সামান্য অরথের লোভে লালমাই এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার স্তম্ভ গুলিকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে।

সরকারী প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে, কমিশনের লোভে।
পাহাড় কাটা আইনি ভাবে সম্পূর্ণ নিষেধ সত্ত্বেও লাগাতার মাটি কাটার ধুম চলছে।

লালমাইতে আছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেতারের স্বাধীন সম্প্রচার কেন্দ্র।
এখানে আছে তিনটি জেলার সড়ক সংযোগ স্থল। একই ভাবে তিনটি জেলার সাথে রেল সংযোগের উৎকৃষ্ট অবস্থান।
লালমাই ঢাকা চট্টগ্রাম রেলপথের গুরুত্ব পূর্ণ একটি স্টেশন।

সব কিছু মিলিয়ে লালমাই এর অবস্থান অনেক শক্তিশালী। একটি উপজেলা করার জন্য কুমিল্লা দক্ষিণাঞ্চলে লালমাই খুবি গুরুত্ব বহন করে।

অতিসম্ভাব্য লালমাইকে কম সময়ের লেখনীতে তুলে ধরা অসম্ভব .

এই এলাকাটির অনুন্নতির পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ণতা ও অন্তর্কোন্দলকেই দায়ী করেন অনেকে .

অবশেষে এই এলাকার জন্মগ্রহণকারী সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একজন মাননীয় মন্ত্রীও লালমাইকে নিজস্ব ঐতিহ্য ও পরিচয়ের সুযোগকে আরো এক ধাপ বিতর্কে জড়িয়ে দিলেন.

সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামটিতে লালমাইয়ের নাম যুক্ত করে সদূর ভবিষ্যতে লালমাই নামকরণের ইতিহাসে আরেকটি সংকট তৈরী করে দিলেন.

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম লালমাই নামের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্তির মুখাপেক্ষী হতে হবে নিঃসন্দেহে .

আমি আবেদন করছি সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে, আমার লালমাই নামটি ফিরিয়ে দিন, নইলে লালমাই এর সঠিক জায়গাতেই উপজেলাটি তৈরী করুন .

আমাদের লালমাইয়ের মানুষ আশা করছে, মন্ত্রীমহোদয় ব্যাপারটিকে অনুধাবন করে আরেকবার বিবেচনা করে, সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন .

আমাদের পরিচয় ও অস্তিত্ব সংকটে ফেলবেন না. লালমাই এর ইতিহাসকে বিতর্কিত করবেন না প্লিজ. I

সাজেশন: যেহেতু বাগমারার পাশে উপজেলাটি করা হয়েছে . পরিবর্তিত নাম বাগমারা হতে পারে .

সাইফুর রহমান সাগর
সাংবাদিক ও লেখক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন