শনিবার, ২৫ মার্চ ২০১৭ ১১:৪৯:৫৪ এএম

লালমাই তুমি কার!!

সোহেল ইবনে মহিউদ্দিন | খোলা কলাম | শনিবার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৭ | ১০:১১:৩২ পিএম

আমরা অত্যন্ত আনন্দিত উচ্ছসিত গর্বিত কুমিল্লা জেলার সতের তম থানা হিসাবে লালমাই এর ঘোষনা কুমিল্লার আপামর জনসাধারনকে আনন্দের নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

আওয়ামীলীগ ২০০৮ এর জাতীয় নির্বাচনে জনগনের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশে যে কয়েকটি জেলা কে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে উন্নয়নের তালিকায় স্থান দিয়েছে তারমধ্যে কুমিল্লা অন্যতম।

স্বাধীনতার পরবর্তীতে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর রাষ্টীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হওয়ার পর যুদ্ধ বিধ্বস্ত নবজাতক বাংলাদেশ বিনির্মানে যখন সম্পূর্ণ মনোনিবেশ করেন ,যখন বাংলাদেশ কে নতুন করে বিশ্ব দরবারে গর্বিত জাতি হিসাবে উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় মনোযোগী ছিলেন ঠিক সেই মূহুর্তে তৎকালীন পাকিস্তানের কিছু দোসর দের ষড়যন্ত্রের নীল নকশার শিকার হয়ে বঙ্গবন্ধু সহ তার পরিবারের দুই সদস্য ব্যতিত সকল কে নির্মম হত্যা করা হয়।বঙ্গবন্ধুকে সহ পরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে যে কয়েকজন কুলাঙ্গার অন্যতম ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে কুমিল্লার মোস্তাক রশিদ অন্যতম।

এ পটপরিবর্তন বাংলাদেশের ইতিহাসে তথা কুমিল্লার বাসীর জন্য কতটা লজ্জা জনক যা আজো কুমিল্লাবাসীকে লজ্জিত করে।বঙ্গবন্ধু কে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙ্গালী জাতির উন্নয়নের ধারা কে যারা স্হবির করার জন্য কিংবা বিশ্ব দরবারে এ জাতির সম্মান ও স্বাধীনতার অর্জনকে ভুলন্ঠিত করা অপ্রয়াসে লিপ্ত ছিল তারাই দীর্ঘ একুশ বছর যাবত রাষ্টীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত থেকে দেশ এবং জাতিকে তলা বিহীন ঝুড়িতে পরিনত করে।দীর্ঘ একুশ বছর জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলার জনগনকে সাথে সাথে নিয়ে লড়াই সংগ্রাম এর মাধ্যমে এ জাতিকে গনতন্ত্রের পথে এগিয়ে নিয়ে আসে।

১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে জননেত্রী শেখহাসিন যখন রাষ্টীয় ক্ষমতা গ্রহন করেন তখন দেশের সার্বিক অবস্হা এমন ছিল সে সময় দেশের অর্থনীতি গনতন্ত্র সামাজিক রাজনৈতিক ভাবে বিদ্ধস্ত ছিল যা গুছিয়ে উটার আগেই উনাকে ক্ষমতার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়।ক্ষমতা পালা বদলে জননেত্রীকে পুনরায় তত্ত্ববধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করে আবার গনতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সকল নেতা কর্মী নিয়ে মাঠে আনন্দোলন সংগ্রাম শুরু করতে হবে।

দীর্ঘ আনন্দোলন সংগ্রাম কারা ভোগের পর জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্টীয় ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়েছেন ২০০৮ সালে।এবার ক্ষমতা গ্রহনের পর তিনি দেশ কে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহন করেন।যারা মধ্যে দেশের নিজস্ব অর্থে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত ছিল যুগান্তকারী এবং উন্নয়নের মাইল ফলক।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কুমিল্লার পালেও বাতাস লেগেছে।তিনি কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষনা সহ কুমিল্লাতে নতুন চার টা থানার কার্যক্রম চালু করেন কয়েকটি থানাকে পৌরসভাতে রুপান্তর করেন।কুমিল্লার জনগনের সুবিধার কথা বিবেচনা করে কুমিল্লা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করেন।কুমিল্লার মানুষর কথা বিবেচনা করে কুমিল্লাতে আরো একটি নতুন থানার ঘোষনা করেন।

অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদারের স্বপ্নের লালমাইকে থানাতে রুপান্তরের মত যুগোপযুগি সিদ্ধান্তে গ্রহন করেন।লালমাই কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষনা করেন।লালমাইকে আই টি সিটিতে রুপান্তরের পরিকল্পনার কথা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র লালমাইতে কন্টেইনার ডিপো নির্মান লালমাই রেল ষ্টেশন কে আধুনিকায়ন করা, পরিকল্পনা আছে লালমাই তে একটি আন্তর্জাতিক মানের ষ্টেডিয়াম স্থাপনের এর সবেই বর্তমান সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর একান্ত ইচ্ছায় মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর অনুমোদন প্রাপ্তি হয়।

কুমিল্লা ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে লালমাই কুমিল্লাকে ভিন্ন মাত্রা প্রদান করেছ সেই অনেক আগ থেকেই।লালমাই তে একটি রেডিও ষ্টেশন কুমিল্লার গর্বে পরিনত হয়েছে দীর্ঘ সময় থেকে।লালমাই পাহাড় আমাদের কুমিল্লার ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে মাথা তুলে দাড়িয়ে আছে হাজার বছরের সাক্ষী হিসাবে।

হাজার বছরের পুরনো চন্ডিমুড়া মন্দির লালমাই সহ তথা কুমিল্লার ইতিহাস কে করেছে সম্মানিত যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য বাহী তীর্থ স্হানে হিসাবে এ উপমহাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে আকৃষ্ট করেছে যুগ যুগ ধরে। লালমাই পাহাড়ের কুল ঘেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কুমিল্লার শিক্ষার পথে নতুন মাইল ফলকে পরিনত হয়েছে।কথিত আছে বাংলাদেশের সবচে বড় গ্যাস ফিল্ড লালমাই পাহাড়ের অভ্যন্তরে অবস্হিত।শিক্ষা বাণিজ্য যাতায়াতের গেইট হিসাবে লালমাইয়ের কদর ঐতিহাসিক ভাবে সর্বজন স্বীকৃত।

তিন জেলার যাতায়াত জন্য মুল ফটক লালমাই ঐতিহাসিক ভাবে কুমিল্লার গর্বে পরিনত হয়েছে সুদীর্ঘ কাল থেকে। লালমাই কলেজ এ অন্চ্জ্ঞলের গর্ব হিসাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রেখেছে তার স্বীকৃতি স্বরুপ আজ লালমাই কলেজকে জাতীয়করন করা হয়েছে যা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার সাহেবের স্বপ্নের প্রতিফলন যেখানে আবুল কালাম মজুমদার সাহেব জীবন যৌবনের অনেক মূল্যবান সময়ের বিনিময়ে কলেজ কে দাড় করিয়েছিলেন লালমাই পাহাড়ের বুকে, যার স্বীকৃতি স্বরুপ বর্তমান সরকার প্রতি থানায় সরকারী কলেজের যে মহা পরিকল্পনা গ্রহন করেন এর অংশ হিসাবে আজ এ কলেজকে সরকারীকরণের ঘোষনার মাধ্যমে লালমাই বাসীকে করেছে গর্বিত, যারা মূলে মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর পরিকল্পনার সুপ্ত স্দইচ্ছা ছিল উল্ল্যেখ যোগ্য।

এত প্রাপ্তির পরেও যুগ যুগ ধরে বন্ঝ্জ্ঞচিত লালমাই বাসী।বুকের ভিতরে লালমাই উন্নয়নের স্বপ্ন ধারন করা লালমাইয়ের জনপদ বন্জ্ঞ্চনার আগুনের জ্বালা নিয়ে দিনাতিপাত করছে না পাওয়ার ক্ষোভে।বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে লড়াই সংগ্রামের সাথে লালমাই বাসী ছিল সকল অবস্হায় লড়াকু সংগ্রামী।যে কোন আনন্দোলন সংগ্রামে লালমাই বাসীর ভূমিকা এবং নেতৃত্ব ছিল স্মরণ রাখা মত।

এত কিছুর পরেও লালমাই নামক জনপদের না প্রাপ্তির ইতিহাসও কম দীর্ঘ নয়।কুমিল্লার প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরনের উন্নয়নের প্রথম ধাপ হিসাবে যখন লালমাইয়ের নামকে সামনে সদর দক্ষিন নামক নতুন থানার সৃষ্টি করার কথা তৎকালীন বিএনপি জামাত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা আসে তখনও লালমাইয়ের মূল ভূখন্ড থানা সদরের নাম প্রস্তাবনায় ছিল,কিন্তু রাজনৈতিক দুর্বিত্তায়নের কারনে তখন লালমাই নামক ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানকে বন্চিত করে সদর দক্ষিন থানা গঠিত হয়, তবে তা লালমাই থেকে মাইল মাইল দূরে কুমিল্লা বিশ্বরোড সংলগ্ন অখ্যাত এক জায়গা স্থানে।

বঞ্চনার সিলসিলা এখানেই শেষ নয়, মাত্র শুরু হয় এ জাতীয় ঐতিহাসিক ভুল সিদ্ধান্ত মধ্য দিয়ে।লালমাই এর মানুষ যখন বন্চনার রক্তক্ষরন থেকে নিজেকে সুস্থ করার প্রয়াসে মগ্ন ,না পাওয়ার আক্ষেপ কে ভুলে নতুন পথে পা বাড়িয়ে কাদা মাটির পথকে আগলে নিয়ে সকল ভ্রান্তি ভুলে না পাওয়াই শক্তি মন্ত্রে আকৃষ্ট হয়ে চলছিল।ইতিহাসের নির্মমতা আরেক শিকার লালমাই,যার ললাটে ঠাঁই হলো না কোন আসার তিলক না পাওয়ার আরেক ইতিহাস রচিত হলো তৎকালীন বিএনপি জামাত জোট সরকারের আরেকটি পদক্ষেপে বন্চিত লালমাই বাসীর মনে নতুন আশার সন্ঝার করে তাহলো সদর দক্ষিন পৌরসভা।

সদর দক্ষিন পৌরসভার প্রশাসনিক ভবন লালমাই তে স্থাপন হবে এমন আশায় যখন লালমাইবাসী বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে রাত্রি যাপন করছে ঠিক সে সময় কোন এক অজানা কারনে কিংবা রাজনৈতিক দুর্বিতায়নের ফল ভোগ করতে হলো লালমাইয়ের জনপদ কে, পৌরসভার প্রশাসনিক ভবন নির্মান করা তো দূরের কথা লালমাই বাসীকে পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত করতেও তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা ভুলে যান।

ভুলের ধারাবাহিকতা শেষ এখনেও হয় নাই ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়ানোর হোতারা তখনও ক্ষান্ত হয় নাই।বিএনপি জামাত জোট সরকারের আমলে কুমিল্লা বাসীর প্রানের দাবী কুমিল্লা বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাবনা নিয়ে যখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছিল তখনও লালমাইতে লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে স্থাপনের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ব্যক্তি গন লালমাই পাহাড়ের ভূমি অধিগ্রহনের জন্য জরিপ মত প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে যান।

ঐতিহাসিক সেই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন লালমাইয়ের মূল ভূখন্ডে হবে লালমাইবাসী বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে অধিক আগ্রহের অপেক্ষার মধ্যে কাদামাটির চাপা দিয়ে কুমিল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হলো লালমাই থেকে বহু দুরে কোর্টবাড়ী সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের শেষ প্রান্তে।

বন্চনার ইতিহাস যখন লালমাই বাসীর বুক চিরে রক্তক্ষরনের কারন হয়ে যায় ,বুকের কষ্ট চাপা কান্নায় রুপান্তরিত হয় সকল আশা যখন মাটি চাপা পড়ে যায় না প্রাপ্তি যখন স্বীকৃতিতে রুপ নেয়,লালাটের তিলক তখন বিবর্ন হয়ে যায় তখন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মাষ্টার প্ল্যানে লালমাইকে অন্তর্ভুক্ত করার রাষ্টীয় সিদ্ধান্ত।

আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্টীয় ক্ষমতায় দ্বিতীয় বার অধিষ্টিত হওয়ার অনিবিল্মবে কুমিল্লা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে রুপান্তর করে কুমিল্লা সহ লালমাই বাসী কে ধন্য করেছিল।সিটি করপোরেশন এর কার্যক্রম যথাযথ ভাবে শুরু হয় রাষ্টীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক,কিন্তু অসহায় লালমাইবাসী এখানেও বন্চিত হয় মাষ্টার প্ল্যানের বেড়াজালে।

দীর্ঘ সময় সিটি করপোরেশন তার কার্যক্রম পরিচালনা করার পথে লালমাই থেকে যায় না পাওয়ার ইতিহাসের তালিকায়,লালমাই বাসী এখনো জানে তাদের ভাগ্য বিধাতা তাদের ভাগ্যে সিটি করপোরেশনের তিলক রেখেছে কিনা?লালমাই এক অপ্রাপ্তির নাম যেখানে সব কিছু পরিচালিত হয় লালমাই নামে কিন্তু বঞ্চিত লালমাই থেকে যায় অন্তরালে।

ইতিহাসের সবচে হাস্যকর বন্চনার নাম লালমাই থানা।আওয়ামীলীগ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর সর্বশেষ প্রচেষ্টার ফসল লালমাই থানা।ভৌগলিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় লালমাই যেখানে অবস্থান করছে তার সমকক্ষ কুমিল্লা জেলার দক্ষিনে এমন একটি খোজে পাওয়া যাবে না।

ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক বিবেচনায় লালমাই হবে দক্ষিন কুমিল্লার বাণিজ্যিক রাজধানী।আই টি সেক্টরের বৌদলতে লালমাই হবে আই টি ব্যবসার প্রান কেন্দ্র।থানা নাম হলো লালমাই কিন্তু লালমাই ভুখন্ডের একটুকরো মাটিও লালমাই থানার অন্তরভূক্ত হলো না এ কেমন নির্মম হাসি তামাশা লালমাই বাসীর জন্য।

মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রীর বাড়ী লালমাইতে হওয়ার পর ও লালমাই থানার প্রশাসনিক ভবন চলে গেল বাগমারা পার হয়ে আলীশ্বর এর কাছে এ কেমন লালমাই থানা?কিসের অভাবে লালমাই বাসীকে বার বার হাসি তামাশার খোরাকে পরিনত করা হচ্ছে।ইতিহাস স্বাক্ষী লালমাই কখনো কাউকে খালি হাতে ফেরত দেয় নাই।লালমাইয়ের বুকে যখন যে আশ্রয় চেয়েছে লালমাই তার পাশেই ছিল অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায়।

কিন্তু সবশেষ লালমাই নামক থানা/উপজেলা ঘোষনার মাধ্যমে লালমাই বাসীকে যে ভাবে হাসির পাত্রে পরিনত করা হয়েছে তাতে লালমাইয়ের জনপদে যে রক্ত ক্ষরণের সুত্র রাত হয়েছে তা হয়ত কোন ভাবেই থামার নয়।মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্র নিকট লালমাই বাসীর প্রশ্ন আপনি কি লালমাই কে অস্বীকার করতে পারবেন?আপনি কি লালমাই থানা ঘোষনা করে থানা প্রশাসনিক ভবন লালমাইয়ের বাহিরে নিয়ে রাতে শান্তিতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারবেন।

এত উন্নয়নের মহা পরিকল্পনা যে লালমাইকে নিয়ে আপনি এঁকেছেন সে লালমাইকে অরক্ষিত রেখে কি করে আপনার উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবেন।লালমাই কি আপনার জন্য আমাদের জন্য কোন গুরুত্ব বহন করে না।কিভাবে লালমাইয়ের বুক মাড়িয়ে আপনি আপনার বাড়িতে ঘুমাতে যাবেন।লালমাইয়ের রক্তক্ষরন কি আপনার চোখে পড়ে নাই।এ লালমাই কি আমাদের কেউ না।

লালমাই এর নাম ব্যবহার করে নতুন থানা গঠিত হবে কিন্তু তা হবে তার মুলভখন্ডের বাহিরে গিয়ে এটা কি আমাদের লালমাই বাসীকে সারাজীবন কাদাবেনা?আমরা লালমাই বাসী কি বলতে পারবো কোন দিন যে, আমাদের লালমাই আমাদের না।

ইতিহাস এত নির্মম হয় যে বারবার বন্চনার কুৎসিত গল্প গুলো কেন লালমাই বাসী কে শুনতে হয়।আসুন আমরা লালমাই বাসী প্রতিবাদ জানাই এ লালমাই আমাদের আমরা এ লালমাইয়ের। আমরা কোন দিন আর লালমাইকে হাসির খোরাকে পরিনত হতে দিতে পারি না আমাদের জীবন থাকতে।আমরা লালমাইয়ের সন্তান আমাদের দায়িত্ব লালমাইয়ের ঐতিহ্য ফেরত নিয়া আসা।

মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী আপনি লালমাইয়ের সন্তান আপনার দায়িত্ব লালমাইয়ের সম্মান অক্ষুন্ন রাখা।আপনি আমাদের প্রতিনিধি আপনিই পারবেন লালমাইয়ের ঐতিহ্যে মাথা তুলে দাড়করিয়ে রাখতে। আমরা লালমাই বাসী সব সময় আপনার সাথে ছিলাম ভবিষ্যতেও আপনার সাথে থাকবো।সকল বাঁধা বিপত্তি উপেক্ষা করে লালমাই থানা লালমাইয়ের মুলভূখন্ডে স্থাপনের লক্ষ্যে আজ আমরা ঐক্য বদ্ধ।লালমাই আমাদের সম্মান আমাদের শ্রদ্ধা আমাদের গর্ব,লালমাইকে বাদ দিয়ে লালমাই থানা লালমাই বাসী মানে না মনবেনা।

লালমাই একটি ইতিহাস ঐতিহ্যের নাম,কেউ এর নাম ব্যবহার করবে আর বার বার বন্চিত করবে লালমাইকে আমাদের শরীরের এক ফোটা রক্ত হিন্দু থাকতে তা হতে পারে না।লালমাই আমাদের আমরা লালমাই বাসী আজ ঐক্যবদ্ধ সকল স্তরের লালমাই বাসীর কাছে আকুল আবেদন যে যে অবস্থানে আছেন প্রত্যেকেই স্ব স্ব অবস্হানে থেকে লালমাইয়ের পক্ষ কথা বলুন ঐক্যবদ্ধ হোন লালমাই কে পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে শরিক হোন।

সোহেল ইবনে মহিউদ্দিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন