মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৭:১৩:৪৯ পিএম

রকিবকে ফাঁকি দিয়ে চলে গেলেন সেই ব্রাজিলীয় নারী

জেলার খবর | হবিগঞ্জ | মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০১৭ | ০১:৪০:০৮ পিএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় ব্রাজিলীয়ান নারী সেওমা ভিজেহার সঙ্গে বাংলাদেশের নবীগঞ্জের ছেলে আবদুর রকিবের। এরপর শুরু হয় প্রেম। প্রেমের সূত্র ধরে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে প্রেমিকের কাছে ছুটে আসেন সেওমা।

জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর নবীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের হালিতলা (বারৈকান্দি) গ্রামে আসেন ব্রাজিলীয় নারী সেওমা। গত ৩ জানুয়ারি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পরদিন কলেজছাত্র আবদুর রকিবের সঙ্গে বিয়ে হয় সেওমার।

অল্প সময়ের মধ্যে নবীগঞ্জবাসীর হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কিন্তু গত শনিবার স্বামী রকিবকে ফাঁকি দিয়ে ব্রাজিলে চলে যান সেওমা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৪৭ বছর বয়সী সেওমা ভিজেহা একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী। তিনি ২ কন্যা ও ১ ছেলে সন্তানের জননী। অবিবাহিত কলেজছাত্র রকিব এসব জানার পরও প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখে। প্রায় নয় মাস প্রেমের সম্পর্ক চলাকালে রকিবকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন সেওমা।

কিন্তু ভিসা জটিলতার দোহায় দিয়ে স্বামী রাকিবকে না নিয়েই বাংলাদেশ থেকে চলে যান ব্রাজিলীয় নারী সেওমা ভিজেহা। এরপর থেকে রকিব এবং তার পরিবারসহ বন্ধুবান্ধবের মনে দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রকিব বলেন, সেওমা আমাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল কিন্তু ভিসা জটিলতার কারণে নিতে পারেনি। তবে এটা কী তার কোনো অজুহাত নাকি এটাই আসল কারণ তা বলতে পারছি না। কারণ মানুষের মনের কথা তো আর বলা যায় না। যাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গে এখনো কোনো যোগাযোগ হয়নি আমার।

এদিকে রকিবের কয়েকজন বন্ধু বলেন, আমাদের মনে হয় সে আর বাংলাদেশে আসবে না। আর রকিবকে নিবে বলেও মনে হয় না। কারণ তার এবং রকিবের বয়সের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এই বিষয়টি তার সন্তানরা মেনে নেবে না বলেও সেওমা সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাই আমাদের মনে হয় সে রকিবের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখবে না।

অবশ্য দেশের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে সেওমা বলেন, জীবনের সব কিছু ভুলে গেলেও স্বামী রবিককে কখনও ভুলবেন না। এদিকে স্ত্রী সেওমা ভিজেহা ব্রাজিল চলে যাওয়ায় স্বামী রকিবও ব্যকুল হয়ে উঠেছেন।

আব্দুর রকিব জানান, যে মেয়ে আমাকে ভালোবেসে সুদুর ব্রাজিল থেকে আমার কাছে ছুটে আসে তাকে কখনও ভুলতে পারবো না। সে খুব ভালো মেয়ে। তাকে খুব মিস করছি।

আব্দুর রকিবের পিতা আছকান উদ্দিন জানান, তার ছেলের বউ সেওমা খুবই ভদ্র ও ভালো মেয়ে। প্রায় ২৯ দিন বাড়িতে থাকায় খুব ভালো লেগেছে। চলে যাওয়ায় মনটা খারাপ লাগছে বলেও তিনি জানান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন