রবিবার, ২৩ জুলাই ২০১৭ ০২:৪৩:০৬ পিএম

‘আমার আর কেউ রইল না’

জেলার খবর | খাগড়াছড়ি | রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ | ১০:০৫:৪৫ পিএম

দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে ছোট সংসার ছিল তার। স্বপ্ন ছিল সন্তানদের লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করবেন। মুহূর্তে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। যে সন্তানরা সব সময় তাকে ঘিরে থাকত, তারা আর নেই। নেই স্ত্রীও। এখন তিনি একা।

‘আমার আর কেউ রইল না। সবাই আমাকে একা রেখে চলে গেছে।’- স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়ে এভাবে বিলাপ করছিলেন চাইহ্লাগ্য মার্মা।

তার বিলাপে ভারি হয়ে ওঠে মহালছড়ি উপজেলার চৌংড়াছড়ি গ্রামের পরিবেশ। আত্মীয় ও পাড়া প্রতিবেশীরা তাকে শান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গত শুক্রবার আলুটিলায় ট্রাক চাপায় স্ত্রী ও দুই মেয়েকে হারান চাইহ্লাগ্য মার্মা।

বড় মেয়ে ববি মার্মা স্থানীয় অষ্টম শ্রেণিতে, ছোট মেয়ে টুনটুনি মার্মা শিশু শ্রেণিতে পড়ত। স্ত্রী, দুই মেয়েকে নিয়ে ছিল তার সুখের সংসার। এখন তিনি একা। ভেবে পাচ্ছেন না তিনি কী করবেন।

শনিবার বিকেলে চৌংড়াছড়ি গ্রামের স্থানীয় শ্মশানে একসঙ্গে ছয়জনের অন্তেষ্ট্রিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে কখনো এতগুলো মানুষকে একসঙ্গে বিদায় দেয়নি চৌংড়াছড়ি গ্রামের মানুষ।

চৌংড়াছড়ি গ্রামের বাসিন্দা কংজ্যপ্রু মার্মা, আচিং মার্মা জানান, শুক্রবার দুপুর থেকে এলাকার মানুষের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এক পরিবারের তিনজনসহ এ গ্রামের ছয়জন ট্রাক চাপায় মারা গেছে।

গত শুক্রবার খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার আলুটিলা এলাকায় সাংসকনগর বৌদ্ধ বিহারের ধর্মীয় গুরু ভদন্ত চন্দ্রমণি মহাস্থবিরের অন্তেষ্ট্রিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিহারে আসেন ভক্তরা। বেলা ১১টার দিকে খাগড়াছড়িগামী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভক্তদের চাপা দিলে আটজন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি মহালছড়ির চৌংড়াছড়ি গ্রামে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন