সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ ০৭:১২:০৫ পিএম

চিতা বিড়াল খেয়েছে ৬২ কুমির ছানা: সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্র

জাতীয় | বাগেরহাট | বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ | ০৩:০৯:০৬ পিএম

সুন্দরবনের করমজল প্রজনন কেন্দ্র থেকে কুমির ছানা উধাও ও হত্যার ঘটনাকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা এতদিন পরিকল্পিত নাশকতা বলে দাবি করে এলেও এখন তারা বলছেন এ ঘটনার পেছনে রয়েছে চিতা বিড়াল। বনের এ প্রাণীই ৬২টি কুমির ছানা হত্যা করেছে বা খেয়ে ফেলেছে। সম্প্রতি গুলি করে হত্যার পর একটি চিতা বিড়ালের পোস্টমর্টেম রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে এমন সিদ্ধান্তেই পৌঁছেন কর্মকর্তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে চিতা বিড়ালটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

করমজল প্রজনন কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফরেস্টার তহিদুল ইসলাম জানান, চিতা বিড়ালটির পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আমরা পেয়েছি। বেড়ালের পেট কেটে কুমির ছানার শরীরের অনেক খণ্ডাংশ ও মাথা পাওয়া যাওয়ার কথা রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
তিনি বলেন, চিতা বিড়ালটিকে খুলনা বিভাগীয় পশুসম্পদ কর্মকর্তার ল্যাবে পোস্টমর্টেম করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. অরুণ কান্তি মণ্ডল পোস্টমর্টেম করেন। এ সময় জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের এপিডেমিওলজিস্ট ডা. ফারহানা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদী জামান জানান, ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে দু’দফায় ৩৭টি কুমির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়। এছাড়া মৃত উদ্ধার হয় আরও ৬টি কুমির ছানা। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে নতুন করে আরও ১৯টি কুমির ছানার খণ্ডিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনা বণ্যপ্রাণী ঘটিয়েছে- এমন ধারণা হলে ১০টি ট্রাফিং ক্যামেরা বসানো হয়। এরপর ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ওই চিতা বিড়ালটি দেখতে পাওয়া যায়। রাতেই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলকে জানিয়ে চিতা বিড়ালটি গুলি করে হত্যা করা হয়। সম্প্রতি করমজলের ২৭৭টি কুমির ছানার মধ্যে ৬২টি ছানাই ওই বিড়াল খেয়েছে বলে এখন বন বিভাগ বলছে।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, ‘বর্তমানে প্রজনন কেন্দ্রে কুমিরের বাচ্চা সুরক্ষায় নজরদারি ও পাহারা জোরদার করা হয়েছে। প্রজনন কেন্দ্রটি নিরাপদ রাখতে নেটজাল দিয়ে মুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কুমির বাচ্চার সব প্যান। এছাড়া দিন ও রাতে সব প্যান ঘিরে মোতায়ন করা হয়েছে সশস্ত্র চার বনরক্ষী। বর্তমানে এ প্রজনন কেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী ২১৫টি কুমিরের বাচ্চা রয়েছে।’

জানা যায়, ২০১৩ সালে প্রজনন কেন্দ্রের এ প্যান থেকে ৮টি, ২০১৪ সালে ১১টি এবং ২০১৫ সালে আরও ১৭টি কুমির বাচ্চা উধাও হয়। কিন্তু বন বিভাগের কাছে এসবের কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। আর ২০০২ সালে এ কুমির প্রজনন কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলেও এ পর্যন্ত কুমিরের সঠিক পরিসংখ্যান নিয়ে কোনো রেজিস্টার নেই।

ফরেস্টার তহিদুল ইসলাম জানান, ‘২০১৪ সাল থেকে বন্যপ্রাণীর পরিসংখ্যান নিয়ে একটি রেজিস্টার খোলা হয়। তিনি এখানে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ রেজিস্টার মেইনটেইন করা হচ্ছে। এর আগে যে সব কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন তারা এ রেজিস্টার মেইনটেইন করেননি।’

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে রেজিস্টার মেইনটেইন না করায় বিভিন্ন মহলের ধারণা- একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াত চক্র স্থানীয় বনকর্মীদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এ প্রজনন কেন্দ্রের কুমির পাচার করে আসছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন