শুক্রবার, ২১ জুলাই ২০১৭ ১০:৩৫:৫৮ এএম

নিখোঁজ দুই স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার, আটক ৩

জেলার খবর | নবাবগঞ্জ | বুধবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ | ১২:০৮:১৭ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নামোশংকরবাটী ফতেপুর মহল্লা থেকে দুইদিন আগে নিখোঁজ হওয়া দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন মেঘলা (৭) ও মেহজাবিন আক্তার মালিহার (৬) বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিবেশী ইয়াসিন আলীর বাড়ির একটি ঘর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

মুক্তিপণ আদায়ের জন্যই ওই দুই শিশুকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে ধারণা এলাকাবাসীর। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে শিশুদের হত্যা করে অপহরণকারীরা।

এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক ইয়াসিন আলীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নামোশংকরবাটী ভবানীপুর মহল্লার প্রবাসী মিলন রানার মেয়ে স্থানীয় ছোটমনি বিদ্যা নিকেতনের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন মেঘলা ও প্রতিবেশী আবদুল মালেকের মেয়ে একই স্কুলের নার্সারির ছাত্রী মেহজাবিন আক্তার মালিহা রোববার সকাল ১০টার পর বাড়ির বাইরে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর থেকে তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি।

সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর রোববার বিকেলে দুই শিশুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। তখন থেকেই নিখোঁজ ওই দুই শিশুকে উদ্ধারে মাঠে নামে পুলিশের একাধিক টিম।

এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তেলীপাড়া মহল্লার জনৈক শম্ভুর মেয়ে গীতা রানী (১৮) নামের এক তরুণীকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে অভিযান চালানো হয়। নিখোঁজ দুই শিশুকে উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়।

এ ছাড়া নিখোঁজ দুই শিশুর প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও ছবি পাঠানো হয় বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে। সীমান্ত পেরিয়ে কেউ যাতে ভারতে পাচার করতে না পারে, সেজন্য বিজিবির সহায়তাও নেয় পুলিশ। কিন্তু এতো কিছুর পরও তাদের সন্ধান মিলছিল না।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুর থেকে স্থানীয় এলাকাবাসী ওই এলাকার সন্দেহভাজন প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় একই গ্রামের ভ্যানচালক ইয়াসিন আলীর বাড়ি থেকে মেঘলা ও মালিহার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় এলাকাবাসী। মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার কয়েকশ নারী-পুরুষ সেখানে ছুটে আসেন।

খবর পেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে যান। এ সময় বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এলাকার সাধারণ মানুষ। ঘাতকদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। পরে সদর থানা পুলিশ রাত সাতটার দিকে নিহত দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ইয়াসিন আলী, তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও ছেলের বউ লাকি খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার টি এম মোজাহিদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় এলাকাবাসীর তথ্যের ভিত্তিতে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কি কারণে ও কিভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন