মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০১৭ ০২:৪৯:৩২ এএম

রংপুরবাসীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে মাইশা

জেলার খবর | রংপুর | শনিবার, ৪ মার্চ ২০১৭ | ১১:১৪:৩৫ এএম

ক্লাশে এলেই সবার আগে উপস্থিতির খাতায় ওর নাম ডাকা হতো। সঙ্গে সঙ্গেই ইয়েস স্যার বলে দাঁড়িয়ে পড়তো সে। আজ থেকে আর ইয়েস স্যার বলে স্যারের ডাকে সাড়া দেবে না সে। আর কখনো সামনের বেঞ্চে বসতে দেখাও যাবে না তাকে। কোনো দিন আর ক্লাসে প্রথম হবে না।

যেন মৃত্যু নামক একটি শব্দের কাছে অসহায় সমর্থনে থেকে গেলে ইয়েস স্যার বলে দাঁড়িয়ে উঠা মাঈশা। আঠারো দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় অবশেষে সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেল রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী মাঈশা মেহেজাবিন।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ইউনাটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মাঈশার। তার এ অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সহপাঠী, শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ রংপুরের সর্বস্তরে। ২০১৬ সালে পিএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (গোল্ডেন) পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল। ক্লাসেও তার রোল ছিল এক। নিয়মিত স্কুলে যাওয়া-আসা, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলাসহ কিছুতেই সবার মন জয় করেছিলো সে। সবই স্বাভাবিক ছিল তার। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বা হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হয় মাঈশা। এরপর ক্রমান্বয়ে জ্বরের মাত্রা বাড়তে থাকলে ১৪ ফেব্রুয়ারিতাকে ভর্তি করা হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে দু’দিন থাকার পর চিকিৎসক মাঈশার বাবাকে জানিয়ে দেন তার মেয়ের চিকিৎসা রংপুরে সম্ভব নয়।

উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়া দরকার। একমাত্র সন্তানের সুস্থতার জন্য গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয় মাঈশাকে। সেই থেকে হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। রংপুরের মিনি সুপার মার্কেটের একটি দোকানে ১৫ হাজার টাকা বেতনে ম্যানেজার পদে চাকরি করেন বাবা মনোয়ার হোসেন। আর মা নাদিরা পারভীন দীপ্তি গৃহিণী । মনোয়ার হোসেন জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকরা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানিয়েছেন, মাঈশার ফুসফুসের প্রায় ৮০ ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে।

ইকোমো থেরাপির মাধ্যমে ফুসফুস কার্যকর করা গেলেও এর চিকিৎসা বাংলাদেশে সম্ভব নয়। তাকে সুস্থ করতে চাইলে দ্রুত বিদেশে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য দরকার ছিল দেড় থেকে দুই কোটি টাকা। মাঈশার চিকিৎসার জন্য তার সহপাঠীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছিলেন পাশে দাঁড়াতে। ইতোমধ্যে অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মাঈশার এমন অভিমানী চলে যাওয়া মনে হয় বড্ড দেরি হয়ে গেছে। আর ফেরানো গেল না মাঈশাকে।

শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টায় রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মাঈশার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় তারপর বাদ জুম্মা রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদে ২য় জানাজা শেষে রংপুর মুন্সীপাড়া কবর স্থানে মাঈশা কে দাফন করা হয়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন