মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০১৭ ০৪:০২:১৩ পিএম

লোহাগড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রডের বদলে বাঁশ

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা | জেলার খবর | চট্টগ্রাম | রবিবার, ৫ মার্চ ২০১৭ | ০১:৪৭:৪৮ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ২৯ নং নোয়াগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজে রডের বদলে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি স্কুল ভবনের ঢালাই ও প্লাস্টার খসে বাঁশের অংশ বিশেষ বের হলে বিষয়টি সবার নজরে আসে। বাঁশের পাশাপাশি স্কুল ভবনের ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া ভবনের মেঝে দেবে গেছে। আতঙ্ক আর ঝুঁকি নিয়ে ওই ভবনেই চলছে প্রায় দুই শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীর পাঠদান। এ নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে। যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে ভবনটি।

রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে ফাঁটল ও বাঁশ বের হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভয়ে স্কুলে আসতে চাচ্ছে না। বিষয়টি তদন্ত করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, ঠিকাদার ও প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সচেতন মহল।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে। ২০০৩ সালে বিএনপি আমলে বিদ্যালয়ের পুনর্নির্মাণ কাজ করা হয়। ছাপা ও নাজির নামের দুই ব্যক্তি ঠিকাদার ছিলেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়। ভবন নির্মাণের সময় রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করেছেন তারা। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ভাঙ্গার পর সেটির ইট, রড ও টিন সব কিছুই টেন্ডার ছাড়াই বিক্রি করা হয়। যার কোনো সঠিক হিসেব আজো পাওয়া যায়নি বলে জানায় এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের এই বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কাজী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের ভবনটির ছাদে ফাটল, মেঝে দেবে যাওয়া ও ভবনের পিলারসহ কয়েক স্থানে বাঁশ বের হওয়ার ঘটনাটি সত্য। তবে এতে ভয়ের কিছু নাই। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ফাঁটলের স্থানগুলো সংস্কার করে ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে। বেশ আগে থেকেই ছাদ দিয়ে পানি পড়তো, সেটিও সংস্কার করা হয়েছে।'

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এএসএম সালেকিন বলেন, ‘তদন্ত করে বিষয়টির সুরাহা হওয়া উচিত।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) লোহাগড়া উপজেলা প্রকৌশলী ওসমান গনির কাছে ভবন নির্মাণের দাফতরিক ফাইল,প্রকৌশলী ও ঠিকাদার কে ছিলেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য না দিয়ে তালবাহানা করে কৌশলে এড়িয়ে যান।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন