শুক্রবার, ২৩ জুন ২০১৭ ০৬:১১:১৬ পিএম

ইয়াবার দখলে কুমিল্লার যুব সমাজ

সম্পাদকীয় | বুধবার, ৮ মার্চ ২০১৭ | ০৯:০২:০৮ পিএম

প্রবাসী আয় নির্ভরশীল কুমিল্লা, বাংলাদেশের উন্নত শহর ও জীবন যাপনের দিক দিয়ে ঢাকার পরেই কুমিল্লার অবস্থান বলা যায়।

পর্যটন, শিল্প ও প্রাকৃতিক লীলাভূমির এক অপূর্ব মহামিলন কুমিল্লা, কি নেই কুমিল্লাতে?

সারা দেশের সবচে বেশি প্রবাসী আয় আসে কুমিল্লার প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ থেকে।
দেশউন্নতির লাগামকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে কুমিল্লার অর্জিত রেমিটেন্স,
প্রতিটি ঘরের কমপক্ষে একজন হলেও বিদেশে অবস্থান করছে।

কুমিল্লার নিজস্ব আয় দিয়েই চলছে কুমিল্লার অনেক উন্নয়ন।

দেশের শিক্ষার ইতিহাসে কুমিল্লা সব সময় শীর্ষে অবস্থান করেছে. সরকারের প্রায় প্রতিটি স্তরে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ছিলো কুমিল্লার মেধাবীদের অবস্থান.

রুচিশীল পরিবেশ, রকমারি খাবার, পুরাণ ঐতিহ্য প্রিয় কুমিল্লার মানুষ,
বন্ধুপ্রিয় কুমিল্লার যুবক ছেলেরা বন্ধুত্বের জন্য যারপরনাই ত্যাগ দিতে প্রস্তুত।

কিন্তু বর্তমানে কুমিল্লার নতুন প্রজন্মকে নিয়ে প্রায় ৫০ ভাগ পরিবার ভুগছে মাদকীয় অশান্তিতে, যুব সমাজের প্রতিটি রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বেঁধেছে বিভিন্ন মাদকের নেশা।

কুমিল্লার উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে নতুন নেশার উপাদান " ইয়াবা" ও অন্যান্য মাদক দ্রব্য।

ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশ্ববর্তী এই জেলাটি ভারতের সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত, রীতিমতো নানা ধরণের নেশার সামগ্রী দেদারসে আগমন ঘটে কুমিল্লাতে।

প্রবাসী আয়ের একটা বড়ো অংশই চলে যায় এই মরণ নেশার ছোবলে, হাজার হাজার কোটি টাকা চলে যাচ্ছে মাদক আমদানিতে।

এই মরণ নেশা শুধুমাত্র যুবক শ্রেণীতে সীমাবদ্ধ নেই , ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়ছে সমাজের প্রতিটি বয়সের মানুষের কাছে,
প্রতিনিয়ত অশান্তির সম্মুখীন হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার।

একজনের কারণে অশান্তির বোঝা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে পরিবারের সকলের।

কারো ভাই বা কারো বাবা থাকেন বিদেশে, কষ্টার্জিত কামাই পাঠাচ্ছেন পরিবারকে, আর পরিবারের উঠতি বয়সী ছেলেরা পরিবার থেকে বিনাশ্রমে পেয়ে যাচ্ছে অর্থ, যে অর্থ ব্যবহার হচ্ছে নেশার পেছনে।

কুমিল্লার শহর ও আশপাশের এলাকা গুলো নেশার আক্রমণে পরাভূত হয়ে আছে,
ভেঙে যাচ্ছে কারো সংসার কারো জীবন ও ধ্বংস হচ্ছে পুরো সমাজ।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু সদস্য লিপ্ত রয়েছে মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পরোক্ষ মদদে চলছে এই মাদক ব্যবসা।

পুলিশ বাহিনীর মদদে পাড় পেয়ে যাচ্ছে মাদক বিক্রেতারা, এক দিক দিয়ে ধরছে তো আরেকদিকে ছেড়ে দিচ্ছে।

মাদক নেশায় আসক্তদের উপর ভর করে সমগ্র কুমিল্লা ব্যাপী চলছে " পুনর্বাসন" বা নেশা ছাড়ানোর নামে রমরমা ব্যবসা. সামান্য পরিমান সেবা ও চিকিৎসার নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

অসহায় পরিবার নিরুপায় হয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে এসব পুনর্বাসন হোমে , আসক্তকারীর সুস্থ জীবন ফিরিয়ে আনার প্রাণপণ চেষ্টা পরিবারের পক্ষ থেকে।

গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সঠিক ভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হচ্ছে, সঠিক নজরদারি দরকার এসব প্রতিষ্ঠানের উপর।

কুমিল্লার মানুষের এখুনি সময় মাদকের বিরুদ্ধ সোচ্চার হওয়ার, মাদক বিক্রেতাদের সমাজ থেকে উচ্ছেদ করার।

পুলিশের যেসব সদস্য মাদক বিক্রেতাদের সাথে লিপ্ত, তাদেরকে খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তির মুখাপেক্ষী না করতে পারলে, আমাদের ভয়াল অন্ধকার ভবিষ্যৎ অনিবার্য্য।

সোচ্চার হতে হবে কুমিল্লার সাংবাদিক মহলকে, সোচ্চার হতে হবে সকল রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের।

সন্দিহান হয়ে পড়ি তখনি, যখন এদেশের আইন নির্মাণকারী নিজেই এই ব্যবসার সাথে জড়িত, কিভাবে সমাজ মাদক মুক্ত হবে, সন্দেহ রয়ে যায় !!!

মনে রাখতে হবে, আজ আমার ভাই নেশাগ্রস্থ , কাল আপনার সন্তান নেশাগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কোন ভাবেই উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই .
নেশা একটি ছোঁয়াচে রোগের মতো, যে সমাজে এটার ছোঁয়া লেগেছে সে সমাজ ধংস হয়েছে।

নেশাগ্রস্থদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের সকলের, তারা অন্যায় করেনি, তাদেরকে অন্যায় করতে বাধ্য করা হয়েছে।

সুতরাং, যারা মাদক বিক্রয় করে, তাদেরকেই সমাজ থেকে উৎখাত করতে হবে।
আইন শৃঙ্খলা বাহিনিকে সহায়তা করে এসব মাদক ব্যবসায়িদের ধরিয়ে দেয়ার দায়িত্ব আমাদের সকলের।

কুমিল্লার ঐতিহ্যকে ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের মাদকের বিরুদ্ধে কঠিন অবস্থান নিতে হবে।
এই দায়িত্ব হোক আমাদের সকলের, এই দায়িত্ব হোক " আজকের কুমিল্লা"র ।

সাইফুর রহমান সাগর
লেখক, সাংবাদিক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন