সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ ০৭:২০:০৩ পিএম

ঝিনাইদহে জামিনের আশ্বাস দিয়ে দুই কারারক্ষীর বাণিজ্য

আতিকুর রহমান | জেলার খবর | ঝিনাইদহ | বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০১৭ | ১২:৩৪:৪৯ পিএম

ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে হাজতি আসামিদের উচ্চ আদালত থেকে জামিনের আশ্বাস দিয়ে দুজন চিহ্নিত কারারক্ষী রীতিমত বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে আইনজীবীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। জামিন করতে ব্যর্থ হওয়ার পরও আসামিদের টাকা ফেরত না দেওয়ায় মামুন (ব্যাচ নং ৪২৬৬৭) নামে ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের এক কারারক্ষীকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

বুধবার পর্যন্ত কারারক্ষী মামুন ৫০ হাজারের মধ্যে ৩৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। সাফায়েত নামে আরেক কারারক্ষীর বিরুদ্ধেও রয়েছে একই অভিযোগ।

দীর্ঘদিন একই স্থানে চাকুরির কারণে তারা এহেন কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অনেকের অভিমত।প্রাপ্ত তথ্য ও উকিল নোটিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের চান্দেরপোল গ্রামের ওমর আলী সোহাগ আটক হয়ে কারাগারে যান। হাজতি আসামি সোহাগকে হাইকোর্ট থেকে জামিন করার জন্য কাররক্ষী মামুন ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন।

কিন্তু হাইকোর্টের কোন আইনজীবী দিয়ে তার জামিন করা হয়নি। এ অবস্থায় গত ২৪ জানুয়ারি ঝিনাইদহের একটি আদালত থেকে ওমর আলী সোহাগ জামিন লাভ করেন। হাইকোর্ট থেকে জামিন করার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কারারক্ষী মামুন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর তা ফেরত না দেওয়ায় আইনজীবীর দ্বারস্থ হন আসামি সোহাগের ভাই তাজ উদ্দীন।

ঝিনাইদহ জজ কোর্টের আইনজীবী মোঃ শওকত আলী ২৩ ফেব্রয়ারি কারারক্ষী মামুনের বরাবর টাকা ফেরত চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠান। উকিল নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে তার মক্কেলকে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়। তড়িঘড়ি করে কারারক্ষী মামুন ৫০ হাজার টাকার মধ্যে ৩৬ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।

বাকী টাকা না দিয়ে তিনি টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ করেন সোহাগ। এদিকে কারারক্ষী মামুনের এহেন কর্মকান্ড নতুন নয়। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের সাবেক এক কমিশনারকে উচ্চ আদালত থেকে জামিন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭০ হাজার, কোটচাঁদপুর শহরের এক যুবকের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং শৈলকুপার চড়িয়ারবিল এলাকার আব্দুল হালিমের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের জামিন করাতে পারেননি। তাদেরকে আবার টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

টাকা চাইলে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইদহ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কারারক্ষী হিসেবে এই কাজ করা সম্পূর্ণ অন্যায়। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ কারাগারের জেলর নিজাম উদ্দীন জানান, ‘মামুন নামে কারাগারে এক রক্ষী আছেন।

আমি নতুন যোগদান করেছি। তিনি জামিন করার নামে কোন টাকা নেন কিনা জানি না। তবে তথ্য যখন পেলাম, তখন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’ এ বিষয়ে কারারক্ষী মামুনের ০১৭৩৯৭২৯২৯৯ নম্বর মুঠোফোনে ফোন করা হলে তার স্ত্রী পরিচয়দানকারী এক মহিলা জানান, তিনি জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন