শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১১:১১:০৫ পিএম

রাজশাহীতে ২ ছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন: ২ ইউপি সদস্য গ্রেপ্তার

জেলার খবর | রাজশাহী | বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ ২০১৭ | ০৪:৫৬:৪৬ পিএম

রাজশাহীর দুর্গাপুরে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের দুই সদস্যকে উপজেলার আমগাছি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাদের গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।

দুর্গাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা (ওসি) রুহুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার ৫নং ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও আন্দুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মোতালেব এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও হাড়িয়াপাড়ার বাসিন্দা মির্জা আব্দুল লতিফ।
নির্যাতনের শিকার জার্জিস হোসেনের (১৬) বাবা জিয়াউর রহমানের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল।

তিনি বলেন, সকালে নির্যাতনের শিকার এক কিশোরের বাবা নয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এরপর ওই মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। বিকেল তাদের আদালতে নেয়ার কথা। তবে চেয়ারম্যানসহ মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান ওসি।

ওসি আরও বলেন, ছাগল চুরির অভিযোগে ওই দুই কিশোরকে সালিশের নামে নির্যাতনের অভিযোগ পেয়েছেন তারা। প্রাথমিকভাবে নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের জবানবন্দি পেয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উপজেলার আন্দুয়া এলাকার রেজাউল করিমের একটি ছাগল চুরি করে পার্শ্ববর্তী হাড়িয়াপাড়ার জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন (১৬) ও পলাশবাড়ির সেকু আলীর ছেলে রতন আলী (১৫)। বুধবার ভোর রাতে রাজশাহী নগরীর মতিহারের হরিয়ান বাজার অতিক্রমকালে নৈশ প্রহরীরা ছাগলসহ ওই দুই কিশোরকে আটক করে।

খবর পেয়ে ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় নিয়ে যান। এরপর বেলা ১১টার দিকে ছাগলের মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশে সালিশ বসানো হয়। সেখানে ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও মির্জা আব্দুল লতিফসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের নির্দেশেই গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে পেটানো হয় ওই দুই কিশোরকে। পরে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়।

জরিমানার আড়াই হাজার টাকা দেয়া হয় ওই ছাগল মালিককে। বাকি টাকা নিজের কাছেই রেখে দেন ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব। নির্যাতনের শিকার ওই দুই কিশোর উপজেলার আমগাছী সাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শুরু হয় তোলপাড়।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন