রবিবার, ২৫ জুন ২০১৭ ০৪:১৯:৫০ এএম

গান গাবে পোস্টার, কথা বলবে টি-শার্ট!

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি | শনিবার, ১১ মার্চ ২০১৭ | ০৮:৩২:২৫ এএম

আপনি একটি ব্যান্ডের পোস্টারের দিকে তাকিয়েছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে আপনার মোবাইলে সেই ব্যান্ডের গান শুনতে পাচ্ছেন- খুব শিগগির নতুন একটি প্রযুক্তির মাধ্যমে এমন ঘটনা সম্ভব হতে চলেছে।

নতুন এই প্রযুক্তি আমাদের আশপাশের যেকোনো বস্তুকে এফএম রেডিও স্টেশনে পরিণত করতে পারবে এবং আপনার স্মার্টফোনেই তা শোনা যাবে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষকরা আশা করছেন তাদের এই নতুন প্রযুক্তি গান গাওয়া পোস্টার থেকে শুরু করে কথা বলা টি-শার্ট অর্থাৎ অবিশ্বাস্য এই প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য বস্তুগুলোকে এফএম রেডিও স্টেশনে পরিণত করবে।

গবেষকরা গান গাওয়া পোস্টার (ছবির মধ্যমে) তৈরি করতে রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করেছেন, যা ১২ ফুট (৪ মিটার) এর মধ্যে থাকা স্মার্টফোনে সিগন্যাল পাঠিয়ে পোস্টারের ব্যান্ডের গান বাজাবে।

এটা কিভাবে কাজ করে?
প্রযুক্তিটি ‘ব্যাকস্ক্যাটারিং’ নামে পরিচিত। এটি ক্ষুদ্র মাত্রার রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে, যা তথ্য আদান প্রদানের জন্য আগে থেকেই পরিবেশে থাকে। বার্তাগুলো এফএম সংকেতের মাধ্যমে পাঠানো হয়। এনকোডিং অডিও এবং ডেটা ট্রান্সফারের মাধ্যমে। ব্যাকস্ক্যাটারিং এর মাধ্যমে এভাবে অডিও সিগন্যাল ও ডেটা পাঠানোর তিনটি পদ্ধতি আছে।

একটি হল, আগে থেকে থাকা কোনো সিগন্যালের ওপর নতুন তথ্য প্রতিস্থাপন করা। যেমন- রেডিও সংবাদ সম্প্রচারের ওপর। আরেকটি হল, রেডিও স্টেশনের অব্যবহৃত স্টেরিও এফএম ব্রডকাস্ট, রেডিওর খালি চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে। এবং তৃতীয়টি হল, দুইটি স্মার্টফোনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে বার্তা পাঠোদ্ধার করা।

এই পদ্ধতি ব্যবহার করে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল একটি গান গাওয়া পোস্টার বানাতে সক্ষম হয়েছে। যা ৪ মিটার দূরত্বে একটি স্মার্টফোনে কিংবা ১৮ মিটার দূরে একটি গাড়িতে ব্যান্ডের গান শোনাতে সক্ষম।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম গোলাওটা বলেন, ‘আমরা যেটা করতে চাচ্ছি তা হল স্মার্ট শহর এবং কাপড়, যেখানে প্রতিদিন আমাদের পথে চলতে সববস্তু তা একটি পোস্টার হোক কিংবা সড়কের সিগন্যাল হোক অথবা আপনার পড়নের পোশাক আপনার মোবাইলে অথবা গাড়িতে তথ্য পাঠানোর মাধ্যমে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারবে।’

গবেষক দলের আরেকজন সদস্য জানান, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল রেডিও প্রযুক্তি যার মধ্যে ব্লুটুথ, ওয়াই-ফাই কিংবা সাধারণ এফএম সিগন্যালগুলো একটি কয়েন সেল ব্যাটারির মাধ্যমে একদিনেরও কম সময় পর্যন্ত টিকে থাকে। তাই আমরা এমনই এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছি যেখানে আমরা প্রকৃতিতে বিরাজ করছে এমন এফএম রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করবো। এর ফলে আমাদের খুবই কম শক্তি প্রয়োজন হবে।

মূল এফএম রেডিও সম্প্রচার প্রভাবিত না করেই ব্যাকস্ক্যাটারিং তথ্য কিংবা অডিও পাঠাতে সক্ষম।

একটি দ্বিতীয় পরীক্ষায় গবেষকরা একটি টি-শার্ট ব্যবহার করেন যার কাপড়ে সূক্ষ রেডিও অ্যান্টেনা বসানো ছিল। যা প্রতি সেকেন্ডে ৩.৩ কিলোবাইটস পর্যন্ত তথ্য স্মার্টফোনে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যাকস্ক্যাটারিং প্রযুক্তি মোট শক্তি খরচ করে ১১ মাইক্রো ওয়াট, যা কিনা একটি কয়েন সেল ব্যাটারির মাধ্যমে বছরের পর বছর সাপ্লাই দেয়া যাবে।


দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে ‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় গেলেন ৯৮ জন বাংলাদেশি কর্মী।এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার মালয়েশিয়ায় শ্রমিক রফতানির দ্বার উন্মোচন হলো।

শুক্রবার (১০ মার্চ) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এসব কর্মী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (বিজি-০৮৬) কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এই ফ্লাইটে ৯৮ কর্মীর সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার ২ জন কর্মকর্তাসহ ৬ জন রয়েছেন।

‘জিটুজি প্লাস’ পদ্ধতিতে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম শামছুন নাহার। এ সময় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালক সেলিম রেজাসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ ও মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপনসহ জনশক্তি কর্মসংস্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার রাতে বায়রা মহাসচিব রুহুল আমিন স্বপন দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত তিন দফায় আরও চার শতাধিক কর্মী মালয়েশিয়ায় যাবে বলে আশা করছি। সেবা খাত ও শিল্প-কারখানার জন্য এসব কর্মী পাঠানো হচ্ছে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রথম পর্যায়ে সেবাখাতের ৯৮ জন কর্মী সার্ভিস (সেবা) সেক্টরের আওতায় কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে ‘কার্গো লোডার’ পদে নিয়োগ পেয়েছেন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রফতানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হলে কেউ আর অবৈধ পন্থায় সে দেশে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কারণ জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে একজন কর্মী তিন বছরের ভিসা নিয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে আরও দুই বছর ভিসা নবায়ন করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মীরা আরো পাঁচ বছর সেখানে অবস্থান করতে পারবেন। ভিসা নবায়ন ফি নিয়োগকর্তাই বহন করবেন। সব কিছুই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অনুসৃত বিধান অনুযায়ী করা হচ্ছে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মালয়েশিয়া সরকারের চাহিদাপত্রে বলা হয়েছে, যারা যাচ্ছেন তাদের দৈনিক আট ঘণ্টা কর্মঘণ্টা হবে। চাইলে ওভারটাইমও করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সরকারের শ্রম আইন প্রযোজ্য হবে। চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকা মাসিক বেতনই কর্মীদের দেওয়া হবে। বেতন পরিশোধ করা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। কোনো কম্পানি বেতন-ভাতা কম দিতে চাইলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই তথ্য চলে যাবে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে। সুতরাং বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো নিয়োগকর্তাই জালিয়াতি করতে পারবেন না।

বায়রার সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেছেন, ‘আগে কর্মীদের কোনো বীমা সুবিধা ছিল না। এখন যারা যাচ্ছে তাদের প্রতিজনের দুই লাখ টাকার বীমা সুবিধা থাকছে। আর অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে বায়োমেডিক্যাল করা হচ্ছে। প্রতারিত হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।’

উল্লেখ্য যে, বিদায়ী ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ রেখে মালয়েশিয়ার সঙ্গে ‘জিটুজি প্লাস’ চুক্তি সই করে বাংলাদেশ। চুক্তির পরদিনই মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নেওয়া বন্ধ ঘোষণা করে। কয়েক মাস আগে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ। এর পরই জিটুজি প্লাস চুক্তির আলোকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে কর্মী পাঠানো নিয়ে ম্যানপাওয়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বন্দ্বে উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। বার বার ঘোষণা দিয়েও নির্ধারিত সময়ে কর্মী পাঠানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। তবে, শেষ পর্যন্ত দেশটিতে শুক্রবার কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বড় পরিসরে মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন