সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭ ০৬:০০:২৭ পিএম

দিনাজপুরে পীর-মুরিদকে কুপিয়ে হত্যা

জেলার খবর | দিনাজপুর | মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ ২০১৭ | ১০:৩৫:০৬ এএম

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে কথিত পীরসহ দুজনকে ধারালো অস্ত্র ও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে কে বা কারা তাদেরকে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে জানে না কেউই। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডর তদন্ত চলছে।

সোমবার দিবাগত রাতে দূর্বৃত্তরা গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে বোচাগঞ্জ উপজেলার দৌলা গ্রামের কথিত পীর ফরহাদ হাসান চৌধুরী (৬৫) এবং তার পালিত কন্যা রূপালী বেগমকে (১৯)। দৌলা গ্রামে ফরহাদ হোসেন চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফে এই হত্যাকাণ্ডর ঘটনা ঘটে।

দরবার শরিফের খাদেম সাইদুর রহমান ও মুরিদ জনি জানান, রাত ৯টার দিকে দরবার শরিফে এসে তারা দেখেন বাবা ফরহাদ হোসেন চৌধুরী বিছানায় শুয়ে আছেন। এরপর তাকে ডাকতে গিয়ে বিছানায় এবং শরীরে রক্তের চিহ্ন দেখে তারা নিশ্চিত হন যে, কে বা কারা তাদের হত্যা করে পালিয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে দরবার শরিফের মুরিদসহ অসংখ্য জনতা ঘটনাস্থলে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমান জানান, কিভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তা কেউই জানে না। গুলির শব্দ অথবা ঘটনা বুঝতে পারেননি তারা।

তবে নিহত ফরহাদ হাসান চৌধুরীর ভাতিজা সাদিক রিয়াজ পিনাক ও স্থানীয় ইউপি মেম্বার মালেক হোসেন জানান, সন্ধ্যার দিকে কয়েকজনকে মোটরসাইকেলযোগে চলাফেরা করতে দেখেছেন তারা।

পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যান তারা। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সঠিক তদন্তর মাধ্যমে কারা কি উদ্দেশ্যে তাদের হত্যা করেছে তা বের করা হবে। তিনি জানান, ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরোধের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১০ সালে কাদরিয়া মোহাম্মদিয়া দরবার শরিফ প্রতিষ্ঠা করেন পরিবহন ব্যবসায়ী এবং বিএনপির দিনাজপুর পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি ফরহাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি জেলা শহরের বালুয়াডাঙ্গা মহল্লায় বসবাস করলে বোচাগঞ্জের দৌলা গ্রামে রয়েছে তার পৈতৃক নিবাস। ওই গ্রামে দরবার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এই দরবার শরিফে অসংখ্য মুরিদ ও ভক্ত নিয়মিত মাহফিল ও ধর্মীয় আলাপ-আলোচনা হয় যারা সকলেই ফরহাদ হোসেন চৌধুরীকে বাবা বলে ডাকেন। ঘটনার ৩ দিন আগে রূপালী বেগমের বিয়ে হয় সিরাজগঞ্জ থেকে আগত সিরাজুল ইসলাম নামে এক কথিত মুরিদের সাথে। তবে ঘটনার পর থেকে সিরাজুল নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে রাত ১টায় পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তর জন্য দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। ঘটনাটি আলোচিত হওয়ায় পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন