শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০১৭ ০৬:৩০:৪৬ এএম

‘সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে মন্ত্রিসভার সম্মতি

জাতীয় | সোমবার, ২০ মার্চ ২০১৭ | ০৮:৩৫:৪৭ পিএম

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য বাধা হবে না এমন শর্তে ভারতের ‘সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে বাংলাদেশের অংশগ্রহণে সম্মতি জানিয়েছে মন্ত্রিসভা।

সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরের জন্য ‘এগ্রিমেন্ট বিটুইন দ্য গভর্নমেন্ট অব রিপাবলিক অব ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য গভর্নমেন্ট অব দ্য পিপল রিপাবলিক অব বাংলাদেশ কনসার্নিং টু অরবিট ফ্রিকোয়েন্সি কো-অর্ডিনেশন অব সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট প্রোপোজড অ্যাট ৪৮ ডিগ্রি ইস্ট’ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সার্কসহ আশপাশের কয়েকটি দেশ মিলে সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট নামে একটা স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে, সেটা ভারতের উদ্যোগে করা হবে। ইতোমধ্যে নেপাল, ভুটান, ইন্দোনেশিয়াসহ অনেক দেশ এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সম্মতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের মন্ত্রিসভা এই স্যাটেলাইট কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য সম্মতি দিয়েছে। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যেটা উৎক্ষেপণ হবে তার কার্যক্রমে এই স্যাটেলাইট বাধাগ্রস্ত করবে না।

শফিউল আলম বলেন, ‘এটার (সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট) লোকেশন অনেক দূরে। একটা (বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট) ১১৯ ডিগ্রি ইস্ট (পূর্বে), আরেকটা (সাউথ এশিয়া স্যাটেলাইট) ৪৮ ডিগ্রি ইস্ট। শর্ত দেওয়া হয়েছে, আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে যেন কোনো কারণে ইন্টারফেয়ার না করে।’

এছাড়া দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সুরক্ষা চুক্তির সম্পূরক অংশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পাদিত জয়েন্ট ইন্টারপ্রিটেটিভ নোটস (জেআইএন) স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘২০০৯ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পুঁজি বিনিয়োগ চুক্তি হয়। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া বাইল্যাটারেল ইনভেস্টমেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড প্রোমোশন এগ্রিমেন্ট বা যেটাকে আমরা বিপা বলি।’

শফিউল আলম বলেন, ‘এই বিপা’র কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না। বিপার ব্যাখ্যা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য হয়। এজন্য অ্যানালাইসিস বা এক্সপ্লানেশন তৈরি করা হয়েছে। দুপক্ষ যে ব্যাখ্যা দিয়েছে- তা গৃহীত হয়েছে। মন্ত্রিসভা নোটসগুলোকে স্বীকার করে নিয়েছে যে আমরা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত।’

আগামী এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় জয়েন্ট ইন্টারপ্রিটেটিভ নোটস স্বাক্ষর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এদিকে মন্ত্রিসভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে গবেষণার জন্য ফেলোশিপ এবং উদ্ভাবনীমূলক কাজের জন্য অনুদান প্রদান সম্পর্কিত (সংশোধিত) নীতিমালা ২০১৬-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতে গবেষণার জন্য ফেলোশিপ এবং উদ্ভাবনীমূলক কাজের জন্য অনুদান প্রদান সম্পর্কিত (সংশোধন) নীতিমালা- ২০১৬ এর খসড়ার কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুদানগুলো একটু বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যেমন- বিদেশে অধ্যয়নের ক্ষেত্রে মাস্টার্স কোর্সে মাসিক ৩০ হাজার টাকার সমপরিমাণ ইউএস ডলার দেওয়া হবে, যেটা আগে নির্দিষ্ট করা ছিল না।’

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন