বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ ২০১৭ ০৪:৫১:০০ এএম

ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যের প্রয়োগ ঘটানোর তাগিদ মাশরাফির

খেলাধুলা | মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০১৭ | ০৮:০১:০০ এএম

দেশে শততম টেস্টে জয়ের ফলগুধারা বইলেও কলম্বোয় সে সাফল্য নিয়ে হই চই, উৎসব-আনন্দে মেতে না ওঠার কারণ একটাই - এটা পূর্ণাঙ্গ সিরিজ। টেস্ট সিরিজ শেষ। ওয়ানডে সিরিজও দরজায় কড়া নাড়ছে। 
ফল যাই হোক, তা নিয়ে হই চই আর অতি উৎসাহি হয়ে পড়ে থাকার কোনই অবকাশ নেই। আগামী ২৫ মার্চ ডাম্বুলায় শুরু তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। ২৮ মার্চ পরের খেলাটিও ডাম্বুলায়। আর ১ এপ্রিল এই কলম্বোরই আরেক প্রসিদ্ধ ভেন্যু সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে তৃতীয় ওয়ানডে। 
আজ বিকেল থেকেই শুরু হয়ে গেছে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতি। তাই ছুটি নেই কোচিং স্টাফদের। ১৫ থেকে ১৯ মার্চ টানা পাঁচদিন হাঁড় ভাঙ্গা খাটুনির পর ক্রিকেটাররা বিশ্রাম পেলেও হেড কোচ চন্ডিকা হাথুুরুসিংহে, ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজন, সহকারি কোচ রিচার্ড হ্যালসল, পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ আর ট্রেনার মারিও ভিল্লাভারায়নদের বিশ্রাম মেলেনি।  
তারা আজও ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন। না কাটিয়ে উপায়ও নেই। আর মাত্র চার দিন পর শুরু ওয়ানডে মিশন। তাই তো বিকেল আড়াইটায় তাজ সমুদ্র থেকে টিম বাসে চেপে বসলেন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ, হেড কোচ হাথুরসিংহে আর পেস বোলিং কোচ ওয়ালশসহ অন্য কোচিং স্টাফরা। তাদের সাথে ঢাকা থেকে ৪৮ ঘন্টা আগে আগে কলম্বোয় পা রাখা ওয়ানডে-টি টোয়েন্টি অধিনায়ক মাশরাফি, মিডল অর্ডার কাম অফস্পিনার শুভাগত হোম, উইকেটকিপার কাম মিডল অর্ডার নুরুল হাসান সোহান আর বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম। 
আর ২২ মার্চের প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার জন্য উড়ে আসা মিডিয়াম পেসার আবুল হাসান রাজু ও মিডিয়াম পেসার কাম হার্ড হিটার সাইফুদ্দিনকেও দেখা গেল ওই বহরে। তাদের সাথে আরও একজন নিবিড় অনুশীলন করছিলেন। তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
ঘড়ির কাঁটা তিনটা বাজতেই শুরু হলো প্র্যাকটিস। প্রথম তিরিশ মিনিট ধরে চললো রিচার্ড হ্যালসলের ফিল্ডিং ক্লাস। এরপর নেট। প্রথমে মাশরাফি মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহান পাশাপাশি নেটে। পরের অংশে শুভাগত হোম, আর তিন বাঁ-হাতি সানজামুল ইসলাম নয়ন, আবুল হাসান রাজু ও সাইফুদ্দিন। 
বিকেল পাঁচটায় ওই প্র্যাকটিস শেষ হবার পর স্বদেশি সাংবাদিকদের সাথে কথা বললেন মাশরাফি। অনেক কথার ভিড়ে জানিয়ে দিলেন, ‘শুধু শততম টেস্টে জয়ের দেখা মিলেছে বলেই নয়। শেষ টেস্ট জিতে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করতে পারা অনেক বেশি উদ্যম ও অনুপ্রেরণার। ওই জয়ের একটা অন্যরকম ইতিবাচক প্রভাব ওয়ানডে সিরিজে পড়বে- এমন বিশ্বাস অধিনায়ক মাশরাফির।
গলে বড় ব্যবধানে হারের পরও বাংলাদেশ বিশ্বাস করেছে, ‘আমরা শ্রীলঙ্কার বর্তমান দলটির চেয়ে ভালো। তাদের হারানোর পর্যাপ্ত শক্তি ও সামর্থ্য আমাদের আছে।’ সেখানে সবার জানা তিন ফরম্যাটের মধ্যে বাংলাদেশ ওয়ানডেতেই সবচেয়ে ভাল খেলে। সাফল্য বেশি। দল হিসেবেও সমাদৃত। 
সেই দল শেষ টেস্ট জিতে মাঠে নামবে ওয়ানডেতে। সব মিলে অনেক কিছুই ইতিবাচক ও অনুকুলে। মনের দিক থেকে চাঙ্গা ও ফুরফুরে থাকার পাশাপাশি দৃঢ় মনোবল ও মানসিকভাবে এগিয়ে থাকার কথা। 
মাশরাফিও তা মানছেন। টাইগার অধিনায়কের ধারনা, ওয়ানডে সিরিজে সব কিছু মিলেই তার দল মানসিকভাবে এগিয়ে থাকবে। তাই মুখে এমন কথা, ‘আমাদের দলের মুল অংশ টেস্ট খেলেছে। তারাই অবিস্মরনীয় জয়ের রেশ নিয়ে ওয়ানডে খেলতে নামবে। সেটা অবশ্যই অনেক বড় প্লাস পয়েন্ট।’
তারপরও ব্যাটিং নিয়ে খানিক চিন্তায় মাশরাফি। তার তাগিদ, ব্যাটিংয়ে সামর্থ্যরে প্রয়োগ বাড়লে খুব ভাল হবে। ব্যাটসম্যানরা সামর্থ্যরে প্রয়োগ ঘটাতে পারলে আর চিন্তা থাকবে না। কারণ ওদের কয়েকজন ভালো বোলার আছে। আর আমরা পাঁচটা টেস্ট খেলার পর সাদা বলে খেলবো। এখন যেটা হবে, আমাদের রান বের করতে হবে। ওদের কিছু ক্রিটিক্যাল বোলার আছে, তাদের কাছ থেকে রান বের করাটা কঠিন হবে। চায়নাম্যান ল²ন সান্দাকান আর পেস বল করা লাহিরু কুমারাকে দেখে খেলার তাগিদ অধিনায়কের কন্ঠে।  

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন