সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ ১০:০১:৪৩ এএম

দোকানদার ছাড়াই চলে যে দোকান!

জেলার খবর | রাজবাড়ী | রাজবাড়ী | শুক্রবার, ২৬ আগস্ট ২০১৬ | ০৩:৫৮:০২ পিএম

বাংলাদেশে দোকানদার ছাড়া কোনো দোকানে মালামাল বিক্রি হয় কখনো কি শুনেছেন? না শুনলেও ব্যতিক্রমী এ ধরনের দোকান দিয়েছেন এক প্রধান শিক্ষক।  
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বাড়াদী গ্রামের ৫৮ নম্বর স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম এ ধরনের দোকান চালু করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
‘সুন্দর আগামীর জন্য কাজ করে যাবো আমরা’ স্লোগানকে ধারণ করে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ‘সততা স্টোর’ নামে একটি দোকান স্থাপন করেছেন তিনি।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবনের বারান্দায় টেবিলে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাতা, পেন্সিল, কলম, জ্যামিতি বক্স, চুইংগাম, চানাচুর, আচার, চকলেটসহ বিভিন্ন পণ্য।  দোকান আছে, বিক্রেতা নেই।  ক্রেতারা নিজেদের পছন্দমত পণ্য নিয়ে যাচ্ছে।
দোকানে প্রতিটি পণ্যের মূল্য-সংবলিত একটি তালিকা দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে।  টেবিলের এক পাশে রয়েছে একটি বাক্স।  শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের পণ্য ও খাবার কিনে নিয়ে নির্দিষ্ট মূল্য ওই বাক্সে রেখে যাচ্ছে।  
৫৮ নম্বর স্বাবলম্বী ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ৫ বার উপজেলার শেষ্ঠ স্কুল নির্বাচিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন খানের উৎসাহ এবং বন্ধু আবু সালেহ মো. মুসার সহযোগিতায় মাত্র ১ হাজার টাকা নিয়ে সততা স্টোর চালু করি।  
তিনি বলেন, চালু করার পর প্রথমদিকে কিছু পণ্য খোয়া গিয়েছিল।  পরে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নৈতিক মূল্যবোধ ও সততা সম্পর্কে বোঝাই।  এরপর থেকে আর কোনো পণ্য খোয়া যায়নি।  দোকান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।
প্রধানশিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীদের লোভ সামলানো, সৎ, আদর্শবান এবং একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে দোকানটি খোলা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানায়, ক্ষুধা লাগলেই এখান থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে খাবার কিনে বাক্সে টাকা রেখে দিই।  বাকিতে পণ্য নেয়ার কোনো সুযোগ নেই।  যদি টাকা না থাকে তাহলে শিক্ষকদের কাছ থেকে ধার নিয়ে খাবার কেনার সুযোগ রয়েছে ।
ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, এ ধরনের ব্যতিক্রম উদ্যোগে শিশু শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ শিশু শিক্ষার্থীদের মানসিক পরিবর্তন ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন