সোমবার, ২৯ মে ২০১৭ ০৯:৫৮:০৫ এএম

জঙ্গি সম্ভাবনাময়ি বাংলাদেশ ও ভবিষ্যৎ...

সাইফুর রহমান সাগর | সম্পাদকীয় | রবিবার, ২ এপ্রিল ২০১৭ | ১২:৫১:৪৬ পিএম

সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গি হামলা তাবৎ দুনিয়াকে হিমশিম অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

অনেক স্বাধীন ভূখণ্ডকে ছিন্ন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে. জঙ্গির সংজ্ঞায় পরিবর্তন ও শব্দটি মানব জীবনে সর্বচ্চো ভয়ঙ্কর শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে।

এই শব্দের অন্তরালে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ক্ষমতা ও দাদাগিরির চাবিকাঠি।

বিশেষ করে মুসলিম স্বাধীন ও আর্থিক স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্রগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে যা দিন দিন প্রতীয়মান হচ্ছে ।

প্রকারান্তরে জঙ্গি হিসেবে চিহৃত করা হচ্ছে মুসলমানদেরকেই, যা অনেকটা অযৌক্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে সাম্প্রতিক কালের বিভিন্ন হামলা সমূহের ঘটনাতে।

বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম প্রধান দেশের যুগ যুগ ধরে চলমান মার্কিন ও পশ্চিমা আগ্রাসন ও কিছু কিছু দেশে তাদের পৈশাচিক ইতিবৃত্ত আমরা দেখেছি, আরো দেখেছি কিভাবে কোনো দেশের প্রধানকে মানসিক ও শারীরিক ভাবে অত্যাচার করে অবিবেচক সাজানো বিচারিক ব্যবস্থায় মুসলিম বিশ্বের আনন্দের দিন " ঈদুল আয্হা" তে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো, যা ছিলো নিতান্তই উদ্দেশ্যমূলক।

ইরাকের কথা মনে করলেই মনে পড়ে যায় সেই লৌহমানবের কথা,যিনি জীবন দিয়েও মাথা নত করেনি শত্রুর কাছে।

ইরাকের বর্তমান অবস্থায় প্রতীয়মান হয় যে, সাদ্দাম হোসেনকে হত্যা করার পেছনে আনীত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অভিযোগ গুলি ছিলো সম্পূর্ণ মিথ্যে ও বানোয়াট।

যা প্রমানিত হয়েছে কয়েক মাস পূর্বে এবং সাদ্দাম হত্যাকাণ্ডের কয়েক বছর পর, যুদ্ধকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে টনি ব্লেয়ার স্বীকার করেছেন ইরাক আক্রমণ করাটা তাঁর মস্ত বড়ো ভুল ছিলো।

এখন কি আর হবে স্বীকার করে, যে বাগদাদ ছিলো চাকচিক্যতায় ঈর্ষান্বিত শহর, সেই বাগদাদ এখনকার বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরের তালিকার শির্ষে স্থান পেয়েছে।

ভূগোল তত্ত্বকে বিশেষ ভাবে ব্যবহার করা হয় যুদ্ধপূর্ব কালীন প্রস্তুতি ও যুদ্ধকালীন সময়ে।

পৃথিবীর কতৃত্ব স্থাপন করার জন্যেও একই তত্ব ব্যবহার করা হয়ে থাকে, কখনো আর্থিক সুবিধার জন্য, কখনো দখলদারিত্ব বা দাদাগিরি স্থাপন করার জন্য।

আজকের বিশ্বের দাদাগিরির হাতিয়ার হিসেবে জঙ্গি নামধারক অজানা অচেনা বিদ্ধংসী মানসিকতার মানব গুষ্টিকে ব্যবহার করা হচ্ছে.
বিনিময়ে বিনিময় হচ্ছে মানব সম্পদ ধ্বংস ও স্বাধীন রাষ্ট্র ধ্বংসের নিকৃষ্ট প্রতিযোগিতা।

ব্রিটিশরা নিখিল ভারতকে বন্টন করার সময় ধর্ম ও গোত্রকে বিবেচনায় রেখেছিলো, যে কারণে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছিল পাকিস্তানের অংশে, শুধুমাত্র ধর্মীয় অন্ধত্বের কারণে ভারতের আঁচলে থাকা সত্ত্বেও মুসলমান অধ্যুষিত বাংলাদেশকে নিজের করে রাখেনি কট্টর হিন্দুবাদী তৎকালীন ভারত ।

২ বাংলার অপূর্ব মিলনকে ২ ভাগ করে, হিন্দু অধ্যুষিত পশ্চিম বাংলাকে অবশেষে নিজেদের ঘরে নিয়েছিলো ভারত।

৪৫ বছর পর এখন হঠাৎ ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা সবুজ ঘেড়া বাংলাদেশ অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠার পেছনে অনেকের সাথে আমিও কিছুটা অন্য রকম গন্ধ অনুভব করছি।
নেপথ্যে রয়েছে সুস্পষ্ট কিছু দৃশ্যমান আন্দাজ।

যুদ্ধ ভাবাপন্ন পৃথিবীতে আশপাশের এলাকা খুব বেশি গুরুত্ব বহন করে, পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভূখণ্ডকে পাকিস্থান থেকেও অনেক গুন বেশি প্রয়োজন ভারতের।

ভারতের সহযোগিতায় তৎকালীন রাজনৈতিক পরিমণ্ডল ও পাকিস্তানের অব্যবস্থাপনা এবং বাংলাদেশের প্রতি স্বেচ্ছাচারের কারণে স্বাধীনতার প্রয়োজনীয়তা ও স্বাধীনতা চাওয়ার ক্ষেত্র তৈরী হয়, আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভারত তার স্বার্থ হাসিলের সুবর্ণ সুযোগ হাত ছাড়া করেনি।

পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিশ্বের পারমাণবিক উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন শক্তিধারী চির বৈরী সম্পর্কের এই দুই দেশ. তাদের নিজেদের প্রয়োজনেই ব্যবহার করেছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে, যার প্রমান আমরা তৎকালীন মার্কিন ও চীনা সমর্থন থেকেই বুঝতে পারি।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের যুদ্ধকে আরো বেশি সশস্ত্র ও শক্তিশালী করে তুলতে সাহায্য করে ভারত. প্রকারান্তরে ভারত তার নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করার প্রক্রিয়ার চলমান অংশ বিশেষ ছিল বাংলাদেশকে সহযোগিতা করা,তাদের চূড়ান্ত উদ্দেশ্যই ছিল পাকিস্থানকে পরাভূত করা, যেখানে বাংলাদেশের থেকেও ভারতীও স্বার্থ হাসিল হয়েছিলো বেশি।

আমরা ভারতের সিকিম সম্পর্কে ভালো করেই জানি " লেন্দুপ দর্জি"র ভুল, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বার বার মরেছে লেন্দুপ দর্জি, ভারতের লোভে শেষপর্যন্ত সব কিছুই হারিয়েছিলেন তৎকালীন স্বাধীন ভূখণ্ড সিকিমের প্রভাবশালি রাজনৈতিক নেতা লেন্দুপ দর্জি।

আয়তনে খুবই ছোট হলেও , শুধুমাত্র ভৌগোলিক সুবিধা হাসিলের জন্য স্বাধীন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রকে নিজের পেটের ভিতর ঢুকিয়ে ফেলেছিলো ভারত, সিকিমের মানুষ আদৌ পরাধীনতার তকমা নিয়ে জীবনযাপন করছে।

পরাধীনতা থেকে স্বাধীনতা লাভের ইতিহাস সব জাতিতেই আছে, কিন্তু স্বাধীনতা থেকে পরাধীনতার কষ্ট কেবলমাত্র সিকিমবাসী জানেন.
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম নির্ভেজাল দেশ,এশিয়ার তুলনামূলক ঝামেলামুক্ত ও শান্তির দেশ বাংলাদেশ।

ইদানিং আমাদের সুখের ঘরে চোখ পড়েছে পাড়া প্রতিবেশীর। ইমপোর্টেড " জঙ্গি " দিয়ে ভরে যাচ্ছে আমার সোনারবাংলা।আমার বিশ্বাস আমার দেশের সহজ সরল মানুষ জঙ্গি কাকে বলে ৯০ শতাংশ মানুষ জানেনা।

সেই দেশটাতে প্রতিনিয়ত জঙ্গি জঙ্গি করে সবার মাঝে ভীতির সঞ্চার তৈরি করা হচ্ছে।

এতে কার লাভ কার ক্ষতি , আমরা সবাই নিজ নিজ দল ও রাজনৈতিক লাভের অংক কষেই যাচ্ছি, একবারো ভাবছিনা আমার দেশের কি হবে, আমার সন্তানের কি হবে।

একবার পুরোপুরি জঙ্গি রাষ্ট্র ঘোষিত হলেই, পাশাপাশি রাষ্ট্রের নিরাপত্তার দোহাই ও জঙ্গি নিধনের নাম দিয়ে এদেশকে আফগানিস্থান ও সিকিম বানানোটা একেবারে সহজ হয়ে যাবে।

এদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত ও দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গৌণ হয়ে মুখ্য ভুমিকা পালন করবে আন্তর্জাতিক আগ্রাসি মহল। আর এই সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছি আমরাই।

ভারত তার উত্তর পূর্বাংশে অবাধ বিচরণের জন্য বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করতে দেয়ার যে সামরিক চুক্তিতে সই করাতে চাচ্ছে, তা পূরণ হলেই বাংলাদেশের সামনে তৈরি হবে এক ভয়াবহ ইতিহাস।

এমন ক্রান্তি লগ্নে জাতীয় ঐকমত ছাড়া কোন উপায় নেই, আর এই ঐকমত কোনদিন হতে দেবেনা প্রতিবেশিরা।

ধাবিত হচ্ছি এক অজানা অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে।

সাইফুর রহমান সাগর। সাংবাদিক, লেখক

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন