বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০১৭ ০১:২৯:২৬ এএম

ঢাকায় মার্কিন তরুণীর সঙ্গে সিএনজি চালকের বিয়ে, ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

জেলার খবর | পটুয়াখালী | সোমবার, ৩ এপ্রিল ২০১৭ | ০১:৩৫:৪০ পিএম

ঢাকায় নজরুল ইসলাম নামের এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন সানজিদা চৌধুরী (২০) নামের শারীরিক প্রতিবন্ধী আমেরিকান এক বাঙালি তরুণী।

ওই তরুণী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের আত্মীয় এবং তার বাবা মোতালেব চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা। বাউফল ও দশমিনা থানার সুপারিশে মেয়েটিকে বর্তমানে বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়নের মেম্বার হানিফ সরদারের বাড়িতে রাখা হয়েছে।

সানজিদা চৌধুরী জানান, জন্মসূত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। থাকেন ফ্লোরিডায়। রাজধানীর বারিধারা ও চট্টগ্রামে তাদের বাড়ি রয়েছে। ২০০৫ সালে তার মা মারা যান। তিনি আমেরিকার অক্সফোর্ড স্কুল অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ও’ এবং ‘ইলেভেন’ পাস করেছেন। সানজিদা ২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর ঢাকায় আসেন। তার বাবা মোতালেব চৌধুরী সাত মাস আগে ভোলা জেলায় ফরিদা বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করার পর থেকে তার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।

সানজিদা জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের অক্টোবরে ঢাকায় এসেছিলেন তিনি। পারিবারিক নানা সঙ্কটের কারণে ওই সময় ঢাকার সড়কে গাড়ির নিচে চাপা পড়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। এসময় নজরুল ইসলাম (৩২) নামে এক সিএনজি চালক তাকে উদ্ধার করেন। এরপর নজরুলের সঙ্গে তাঁর প্রেম হয়।

সানজিদার বিত্তবৈভবের কথা জেনে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিলে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার একটি আদালতের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামায় নজরুলের বাবার নাম আলী হোসেন মাতব্বর, পূর্ব আলীপুরা, দশমিনা লেখা রয়েছে। নজরুল বাউফলের কালাইয়ায় থাকেন বলে সানজিদাকে জানিয়েছেন।

সানজিদা বলেন, গত ২৮ মার্চ সকালে নজরুল ২০ লাখ টাকা, একটি আইফোন, সানজিদার পাসপোর্ট ও এসএস কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়। গভীর রাত পর্যন্ত নজরুল ঘরে না ফেরায় সানজিদা বাউফলের ঠিকানায় এসে থানায় যোগাযোগ করেন। মেয়েটি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পুলিশ দাশপাড়া ইউনিয়নের মেম্বার হানিফ সরদারের জিম্মায় রাখেন। সেখান থেকে মেয়েটি আমেরিকান দূতাবাসে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন।

এদিকে মেয়ের দুরবস্থার কথা জেনে তার বাবা আমেরিকা থেকে ঢাকায় এসেছেন।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে পাওয়া গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নজরুলের ভোটের এলাকা দশমিনা উপজেলার পূর্ব আলীপুর। জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি দেখে নজরুলকে শনাক্ত করেন সানজিদা।

বাউফল থানার ওসি আযম খান ফারুকী বলেন, সানজিদা যে ঠিকানার কথা বলেছেন, তা দশমিনা উপজেলার। এ কারণে তাঁকে দশমিনা থানায় পাঠানো হয়েছে।

দশমিনা থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, মূলত প্রতারণা করার জন্যই ওই তরুণীকে বিয়ে করেছেন নজরুল। তিনি বলেন, ওই তরুণীকে ইউপি সদস্য মো. হানিফ সরদারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন