মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ০৭:১০:১০ পিএম

এফআইআর বই ছিঁড়ে আসামি ছেড়ে দেয় কটিয়াদীর ওসি আহসান উল্লাহ

জেলার খবর | কিশোরগঞ্জ | সোমবার, ৩ এপ্রিল ২০১৭ | ০৭:০১:২৩ পিএম

গত ৪ঠা নভেম্বর কটিয়াদী মডেল থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেন মো. আহসান উল্লাহ। দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই তার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আটক বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। তার বেপরোয়া আটক বাণিজ্য ধামাচাপা দিতে তিনি এফআইআর বইয়ের পাতা ছিঁড়ে একই নম্বরে দু’টো মামলা পর্যন্ত রুজু করেছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২২শে জানুয়ারি রাত সোয়া ১২টায় কটিয়াদী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় একটি মামলা করা হয়। কটিয়াদী থানার বীর নোয়াকান্দি গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের পুত্র আসাদ মিয়া বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটির নম্বর-১৩।

এফআইআর বইয়ের ক্রমিক নং- ০১৭১৭১৩ এ লিপিবদ্ধ করা মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় থানার এসআই মো. মঈন উদ্দীনকে। কিন্তু ওইদিনই এফআইআর বইয়ের এই পাতাটি ছিঁড়ে রাত পৌনে আটটায় পরবর্তী পাতা ক্রমিক নং- ০১৭১৭১৪ এ একই নম্বরের (১৩) আরেকটি মামলা রুজু করা হয়। একই নম্বরের দ্বিতীয় এই মামলাটির বাদী কটিয়াদী থানার ভোগপাড়া এলাকার কুদ্দুছ মিয়ার কন্যা পারভীন আক্তার। আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায়ও পারভীন আক্তার বাদী হয়ে দায়ের করা মামলাটির নথি থানা থেকে পাঠানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত ২১শে জানুয়ারি বিকাল ৩টায় কটিয়াদী উপজেলার বীর নোয়াকান্দি গ্রামের আসাদ মিয়ার নবম শ্রেণী পড়ুয়া কন্যা শারমিন আক্তার (১৪) কে একই গ্রামের জমির উদ্দিনের পুত্র রবিন মিয়া অপহরণ করলে আসাদ মিয়া বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় ওইদিনই মামলার অভিযোগ দেন। বাদীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসির নির্দেশে এসআই মো. মঈন উদ্দীন অভিযান চালিয়ে মূল আসামি রবিন মিয়াকে আটক ও অপহৃতা শারমিনকে উদ্ধার করে থানায় এনে হাজতে রাখেন।

অপহৃতা উদ্ধার এবং আসামি আটক করার পর ২১শে জানুয়ারি রাত সোয়া ১২টায় ২২শে জানুয়ারির তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ৭/৩০ ধারায় মামলাটি ওসি মো. আহসান উল্লাহ রেকর্ড করেন। মামলা হওয়ার পর আসামি পক্ষের লোকজন থানা থেকে মামলার কপি নিয়ে আসামির জামিন করানোর জন্য আদালতে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন।

অন্যদিকে মামলার অপহৃতা শারমিনকেও ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য সিভিল সার্জন কিশোরগঞ্জের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু ওসি মো. আহসান উল্লাহ আসামীকে আদালতে প্রেরণে বিলম্ব করে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি রবিনের পিতা জমির উদ্দিনকে ফোনে থানায় ডেকে এনে আসামি ছেড়ে দেয়ার ব্যপারে দরকষাকষি শুরু করেন। মোটা অংকে দফা রফা হওয়ার পর ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অপহৃতাকে সিভিল সার্জনের কার্যালয় থেকে ফেরত আনেন। পরে আসামিকে আর আদালতে চালান না দিয়ে ২২শে জানুয়ারি দিবাগত রাতের আঁধারে অপহরণকারী রবিন মিয়াকে থানা থেকে ছেড়ে দেন।

এরমধ্যে ওসি রুজুকৃত মামলার এফআইআর কপি মূল বই থেকে ছিঁড়ে ফেলেন। পরবর্তীতে এই ১৩ নং মামলার স্থলে পরবর্তি পাতায় আদালত নির্দেশিত একটি অভিযোগ মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। পারভীন আক্তার বাদী হয়ে আদালতের দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি রেকর্ড করার পর বিধি অনুযায়ী মামলার এফআইআর কপি আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হয়।

তথ্যসূত্র: মানবজমিন

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন