মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ ০৯:১৫:২২ এএম

৫টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত তালতলী উপজেলা

জেলার খবর | বরগুনা | মঙ্গলবার, ৪ এপ্রিল ২০১৭ | ০২:৪৮:১৭ পিএম

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ ও সংঘর্ষের মধ্যে দিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ৫টি ইউনিয়নের নির্বাচন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীরা প্রচারনায় বাঁধা, পথসভায় হামলা, নেতাকর্মীদের মারধর ও হুমকিসহ নানা অভিযোগে এনেছেন। রবিবার রাতে উপজেলার বেহালা গ্রামে নির্বাচনী সংঘর্ষে ৭ জন আহত হলে ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনকে পুলিশ অটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করেছে। অন্যদিকে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে প্রতিপক্ষের হামলায় ২ জন আহত হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বর প্রার্থী পিজুষ কান্তি শিশির হাওলাদার রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে দক্ষিন বেহালা গ্রামের প্রফুল্ল চন্দ্র দেউরীর বাড়ীতে উঠান বৈঠক করে। শিশির হাওলাদার রাত এগারটার দিকে কর্মীদের নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে অপর প্রার্থী শ্যামল দেবনাথের কর্মীদের সাথে সাক্ষাত হলে বাকবিতন্ডার একপর্যায় উভয় গ্রুপ লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়। ওই উঠান বৈঠকে ইউনিয়ন আওয়ামীলী সভাপতি পার্শ্ববর্তী কৃষ্ণকান্ত মজুমদার ও তার ছেলেরা উপস্থিত থাকায় শ্যামল দেবনাথের কর্মীরা ইউনিয়ন আওয়ামীলী সভাপতি কৃষ্ণকান্ত মজুমদারের বাড়ী ভাংচুর করে।

কৃষ্ণকান্ত মজুমদারের স্ত্রী অঞ্জলী রানী জানান, হঠাৎ করে রাত সাড়ে এগার টার দিকে শ্যামল দেবনাথের লোকজন এসে বসত ঘর ভাংচুর করে। এ সময় তার এবং তার পুত্র বধু বাসন্তী রানীর কানের স্বর্নের দুল ও ঘরে থাকা নগদ ২ লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এ সময় হামলা কারীরা স্বামী কৃষ্ণকান্ত মজুমদার ও পুত্র মিন্টু মজুমদার (৩০), কিশোর মজুমদার (২৫) ও পার্শ্ববর্তী কেশব চন্দ্র মাঝি আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় এদেরকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্যামল দেবনাথ বলেন, আমরা উঠান বৈঠক শেষে কর্মী প্রফুল্ল চন্দ্র দেউরীকে তার বাড়ীতে এগিয়ে দেওয়ার সময় দুই ভাইকে আলাদা পেয়ে অযথা তর্ক করে। এতে সংঘর্ষ বাঁধলে ৩ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রেমানন্দ (৪০) কে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে ও অমল দেউরী (৫৫) কে আমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রার্থী পিজুষ কান্তি শিশির হাওলাদার (৪৩), করুন বেপারী (১৭), হিরনময় হাওলাদার (৪০), লিটন মাঝি (২৮), প্রথম মাািঝ (৩৫), নয়ন ঘরামী (৩৫), পলাশ হাওলাদার (১৬) ও সবুর খান (২৫) আটক করে সোমবার সকালে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মুশফিকুর রহমান আটককৃতদেরকে ১ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন।

অন্যদিকে পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: নান্নু খান অভিযোগ করে বলেণ, প্রতিপক্ষের হামলায় তার দুই কর্মী আহত হলে ইব্রাহিম খান নামে একজনকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আওয়ালীলীগ সমর্থক কর্মীরা তাদের প্রচার প্রচারনায় বাধা দিচ্ছে।

নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে বরগুনা প্রেসক্লাবে রোববার সংবাদ সম্মেলন করেছে শেফালী আক্তার নামে এক বিএনপি দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী। রোববার দুপুর ১২টায় উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী শেফালী আক্তার এসব অভিযোগ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক এস.এম নজরুল ইসলাম, কৃষক দলের সভাপতি লে.কর্ণেল (অব:) আব্দুল খালেক, তালতলী উজেলা বিএনপির আহবায়ক ফরাদ হোসেন আক্কাস মৃধা।

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে শেফালী আক্তার লিখিত অভিযোগ বলেন, তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান মিন্টুর নেতৃত্বে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। তিনি ও তার ভাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো: তৌফিকুজ্জামান তনু কোন ধরনের আইন-কানুন মানছেন না। তারা গায়ের জোড়ে সবকিছু চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৯ মার্চ প্রতীক বরাদ্দের দিন থেকেই মিন্টু তার বাহিনী নিয়ে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা শুরু করে ঐ এস এ টিভির বরগুনা প্রতিনিধি নুরুজ্জামান ফারুক ও তালতলীর স্থানীয় দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। । ৩১ মার্চ বগী বজারে তার ধানের শীষ প্রতিকের পথসভা চলাকালে হামলা চালিয়ে নেতাকর্মীদের আহত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোথাও পথসভা অথবা গনসংযোগ করতে পারছেন না। এক প্রকার অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি লিখিত আভিযোগে আরো বলেন, তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান ইতি পূর্বে তালতলীর সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তোফায়েল আহমেদ , অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক সুন্দর আলী গাজী , এস আই আব্দুল খালেক .সরকারি কর্মচারী জসিম উদ্দিন কে মারধর করেন।

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মো: মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নেই তাদের দলীয় প্রার্থী এবং নেতাকর্মীদের গনসংযোগ ও পথসভায় বাঁধা দেয়া হচ্ছে। তাই সুষ্ঠ এবং শান্তিপূর্ন পরিবেশে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগীতার দাবি জানান। পাশাপাশি নির্বাচনে সকল প্রার্থীকে সমানভাবে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ দেয়া, সকল কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানান।

এ ব্যাপারে তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং ছোটবগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী তৌফিকুজ্জামান তনু বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা চালালে কেউ বাঁধা প্রদান করে না।

উল্লেখ্য- আগামী ১৬ এপ্রিল তালতলী উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন