বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭ ০১:৪২:১৫ পিএম

১১ শিক্ষার্থীর চুল কেটে দিলেন শিক্ষক

জেলার খবর | রংপুর | সোমবার, ১০ এপ্রিল ২০১৭ | ১০:৪৩:২৩ পিএম

রংপুরের কারমাইকেল কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত তিন দিনে ১১ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ৭ম শ্রেণির মাহিন হাসান মানিক, ষষ্ঠ শ্রেণির রাব্বি, সপ্তম শ্রেণির সাজিদ, মিনহাজ ও রাশেদ জানান, শরীর চর্চা বিষয়ের শিক্ষক নূর মোহাম্মদ শাহাজাদা তাদের ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে এসে চুল বড় হওয়ার অভিযোগে তা কেটে দেন। এ সময় তারা অনুরোধ করলেও ওই শিক্ষক তা শোনেননি।

একই অভিযোগ ষষ্ঠ শ্রেণির নীরব, অষ্টম শ্রেণির শিপলু, শাকিল, রিংকু, নবম শ্রেণির সাইদসহ একাধিক শিক্ষার্থীর। তারা জানায়, গত শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তিন দিনে ১১ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছেন ওই শিক্ষক। এ সময় তাকে সহযোগিতা করেছেন গণিত বিভাগের শিক্ষক তপন চ্যাটার্জি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছে। সোমবার ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা ছিল। চুল বড় রাখার অপরাধে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষা দিতেও দেওয়া হয়নি।

সপ্তম শ্রেণির হাসানুর জানায়, তার চুলও কাটার জন্য তৈরি হয়েছিলেন ওই শিক্ষক। তবে সে পালিয়ে যাওয়ায় রক্ষা পেয়েছে।

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দেওয়ার প্রতিবাদে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায্য বিচার দাবি করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অভিভাবকরাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, ছাত্রদের চুল বড় হয়েছে তা অভিভাবকদের জানালে পারতেন। এভাবে শিক্ষক নিজেই চুল কেটে দেবেন তা মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তপন চ্যাটার্জি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।’

অভিযুক্ত শিক্ষক নূর মোহাম্মদ শাহাজাদার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াহেদ মিঞা বিষয়টি স্বীকার করে জানান, এ ঘটনায় সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোস্তাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন