রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯ ১১:১৯:৪৯ এএম

ঝড়-তুফানে শরয়ী বিধান

শিহাব আহমাদ সবুজ | ধর্ম | মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৭ | ০৪:২৫:৪৪ পিএম

অনেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখলেই অভিশাপ মনে করে। দুর্যোগ অভিশাপ হতে পারেনা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানেই অভিশাপ নয় বরং মঙ্গলময়ও হতে পারে। এমনটি মনে করা অজ্ঞতার পরিচয়।

আম্মাজান হযরত আয়শা (রাযিঃ) বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালে যখন আকাশে মেঘ,ঝড় ইত্যাদির আলামত দেখা যেত তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় ইহার প্রভাব প্রকাশ পেতো।

চেহারা মোবারক বিবর্ণ হয়ে যেতো এবং ভয়ে কখনো ঘরের ভিতর প্রবেশ করিতেন কখনো বাহিরে আসতেন। আর আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা করিতেন, আয় আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হতে এই বাতাসের মধ্যে যাহা কিছু আছে ইহার মঙ্গল কামনা করিতেছি এবং যাহার জন্য ইহা পাঠানো হয়েছে ঐসব কিছুর মঙ্গল কামনা করিতেছি।

আর ইহার মধ্যে যাহা কিছু আছে,যাহা উদ্দেশ্যে ইহা প্রেরিত হয়েছে ঐসব কিছুর অমঙ্গল হইতে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করিতেছি। আর যখন বৃষ্টি শুরু হয়ে যেত তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেহারায় আনন্দ প্রকাশ পেতো।

আম্মাজান হযরত আয়শা (রাযিঃ) আরজ করিতেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সব লোকই যখন বৃষ্টির আলামত মনে করে মেঘ দেখে খুশি হয় কিন্তু আপনার মধ্যে তখন এক প্রকার বিচলিত ভাব দেখতে পাই। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করিলেন, হে আয়শা! আমার নিকট এই মেঘমালার কি নিশ্চয়তা আছে যে, ইহার মধ্যে আযাব নাই।

আদ সম্প্রদায়কে বাতাসের দ্বারাই আযাব দেওয়া হয়েছিল। তারা মেঘ দেখে আনন্দিত হইতো যে, ইহা হতে আমাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষণ করা হবে।

অথচ ইহার মধ্যে আযাব ছিল। আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্র কালামে পাকে বলেন--'আদ সম্প্রদায় এই মেঘমালাকে নিজেদের বস্তির দিকে এগিয়ে আসতে দেখে তখন তারা এই বলতে লাগল যে, এই মেঘমালা তো আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করিবে ।

কিন্তু না ইহা তো বৃষ্টি বর্ষণকারী নয় বরং ইহা তো সেই আযাব যাহার জন্য তোমরা তাড়াহুড়া করিতে(অর্থাৎ তোমরা নবীকে বলতে যে,তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের উপর আযাব নিয়ে আস)। ইহা একটি ঘূর্ণিবার্তা যাহার মধ্যে যন্ত্রণাদায়ক আযাব নিহিত আছে, যাহা তার রবের হুকুমে প্রতিটি বস্তুকে ধ্বংস করিয়া দিবে ।

সুতরাং তারা এই ঘূর্ণিবার্তার ফলে এমনভাবে ধ্বংস হয়ে গেল যে, তাদের ঘর-বাড়ীর চিন্হ ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট রইল না। বস্তুতঃ অপরাধীদেরকে আমি এভাবেই শাস্তি দিয়ে থাকি। (আল কুরআন)

হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরআনে পাকের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বলেন,হে নবী! আপনি তাদের মধ্যে থাকা অবস্থায় আমি কখনো আযাব বর্ষণ করিব না।

আল্লাহ তায়ালার এই ওয়াদা থাকার পরও হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খোদাভীতির অবস্থা এই ছিল যে, ঝড়-তুফান বা ঘূর্ণিঝড়ের আলামত দেখতে পেলেই পূর্ববর্তী সম্প্রদায় সমূহের আযাবের কথা স্বরণ হয়ে যেত এবং পেরেশান হয়ে মসজিদে চলে যেতেন।

সেই সঙ্গে আমাদের অবস্থার প্রতিও দৃষ্টিপাত করা উচিৎ যে, আমরা সর্বদা গুনাহে লিপ্ত থাকা অবস্থায় বড় বিপদ, বালা-মুসিবত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদির মাধ্যমে বিভিন্ন আযাব-গযব স্বচক্ষে দেখার পরও ইহার দ্বারা ভয়সূচক সতর্ক হই না। তাওবা-ইস্তেগফার ও নামাজে মশগুল হওয়ার পরিবর্তে নানা প্রকার অর্থহীন কাজে নিজেদেরকে লিপ্ত করিয়া রাখি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন