বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ০৭:০২:৪৯ পিএম

‘কাউয়া-মুরগি’ সমাচারের রহস্য ফাঁস করলেন সেতুমন্ত্রী

রাজনীতি | বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৭ | ১২:৩৩:৫৬ পিএম

দলের নেতাকর্মীদের ‘কাউয়া’ ও ‘ফার্মের মুরগি’ অভিধা দিয়ে সমালোচনার মুখে অবশেষে সেই সমাচারের রহস্য ফাঁস করলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এসব শব্দ আর না লিখতে সাংবাদিকদের করজোড়ে অনুরোধ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগে ‘কাউয়া’ ও ‘ফার্মের মুরগি’ ঢুকে গেছে বলে ইতিপূর্বে দেওয়া বক্তব্যকে ‘মজা করে বলেছি’।

তিনি বলেন, ‘কাউয়া, ফার্মের মুরগি এগুলো মুখ্য বিষয় নয়, এটা গৌণ বিষয়। আর আমি এগুলো মজা করে বলেছি। তিন-চার ঘণ্টা নেতা-কর্মীরা বসে থাকে, তাদের রিফ্রেশমেন্টের দরকার আছে।’

গত বছর অক্টোবরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর দল থেকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ তাড়ানোর ঘোষণা দেন ওবায়দুল কাদের। এরপর বিভিন্ন সভা-সেমিনারে অনুপ্রবেশকারীদের ‘হাইব্রিড’ আখ্যায়িত করেন তিনি। সম্প্রতি সিলেটে আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় দলে কাউয়া এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরে মুজিবনগর দিবসের আলোচনায় ব্রয়লার মুরগি ঢুকেছে বলে মন্তব্য করেন।

এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ওবায়দুল কাদের বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন। আবার এসব বিশেষণের কারণে তিনি ক্ষেত্র বিশেষে সমালোচিতও হয়েছেন। নব্য ও সুবিধাভোগী আওয়ামী লীগারদের উদ্দেশে এসব বিশেষণ দেওয়া হলেও শব্দ ও ভাষা প্রয়োগের ব্যাপারে তার আরও সংযত হওয়া উচিত বলে মনে করেন দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতা।

ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া এসব বক্তব্য নিয়ে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। পাশাপাশি দলের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাও কাদেরের এসব নেতিবাচক বিশেষণকে সমালোচনার চোখে দেখছেন। এই বিশেষণগুলো নেতাদের ক্ষুব্ধ করলেও দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা হওয়ায় প্রকাশ্যে কাদেরের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না তারা।

তবে নিজেদের মধ্যকার আলোচনায় এনিয়ে খেদোক্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। অনেকেই আবার এসব বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও শব্দ ও ভাষার ব্যবহারে কাদেরের আরেকটু যত্নশীল হওয়া দরকার বলে মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, মুজিবনগরে আমি ২৭ মিনিট বক্তব্য রেখেছি। সেই সিরাজউদৌল্লা থেকে আমার ছাত্রজীবন- একটা ইমোশনাল স্পিচ দিয়েছি। জাফর ইমাম এখন কোনো দল করেন না কিন্তু উনি সঙ্গে সঙ্গে এক্সিলেন্স স্টোরি স্পিচ বলে আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। এসব কিছু (ভালো কথা) সাংবাদিকেরা না লিখে শেষের দিকে কাউয়ার বক্তব্যের কথা লিখেছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি যখন বলি সংগঠনটাকে শৃংখলার মধ্যে রাখতে হবে। কেউ দল করে দলের নিয়ম ভঙ্গ করবেন না। তারা তো অনেক সময় ধরে বসে থাকে। তাই মজা করেও বলি, কাউয়া-টাউয়া ঢুকতে দেবেন না। এগুলো সিলেটের ভাষায় ব্যবহার হয়। তাই তো ওখানে বলেছিলাম। এখানেও (মেহেরপুর) এরকম একটা বলেছিলাম। প্রতিদিন একটা বললে হয়?

ওবায়দুল কাদের বলেন, পলিটিক্স করলে সব সময় নীরস কথা বলতে ভালো লাগে না। যারা সামনে বসে থাকে, তারা তো তিন-চার ঘণ্টা বসে থাকে। একটু মজা করে বলি। বুঝছেন না, টক-মিষ্টি-ঝাল সব রাখতে হয়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে হাত জোড় করে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, “মাফ চাই, প্লিজ আপনারা আর কাউয়া-মুরগি লিখবেন না।”

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন