মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ ০৯:০৪:৪৪ এএম

শ্রীমঙ্গলের ১০ লেয়ারের চা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ

সৌরভ আদিত্য | জেলার খবর | মেীলভীবাজার | বৃহস্পতিবার, ২০ এপ্রিল ২০১৭ | ১২:৫৬:২৯ পিএম

দুটি পাতা একটি কুড়িঁর দেশ মৌলভীবাজার জেলার চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলা। বছর জুড়ে শ্রীমঙ্গলে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের পদচারণে মুখরিত হয় শ্রীমঙ্গল ।

মানুষ যখন কর্মপরিসরে ক্লান্তি বোধ করে তখন শরীরের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে মন্ত্রের মত কাজ করে এক কাপ গরম চা। আর সেটা যদি হয় বিশ্বের প্রথম কালার চায়ের আবিস্কারক রমেশ রাম গৌঢ় এর ১০ লেয়ারের রঙ্গিন চা তাহলে তো আর কথাই নেই । তবে রমেশের চা খেতে হলে আপনাকে আসতে হবে দেশের অন্যতম পর্যটন খ্যাত এলাকা মৌলভীবাজার জেলার চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলে।

শ্রীমঙ্গলে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের এক মাত্র আকর্ষণ শ্রীমঙ্গলের ১০ লেয়ারের চা, এই বিশ্বখ্যাত ১০ লেয়ারের চায়ে‘র আবিষ্কারক শ্রীমঙ্গলের কাকিয়াছড়া চা বাগানের চা দোকানি রমেশ রাম গৌঢ়।

রমেশেরে আবিষ্কারের এই ১০ লেয়ারের চায়ের একটি কাঁচের গ্লাসে এক এক করে ১০ টি স্তর থাকে । ১০ লেয়ারে এই চায়ের স্বাদ একটু অন্য রকম ।

প্রতিনিয়ত ব্যতিক্রমী কিছু করার ভাবনায় বিভোর ছিলেন বিভিন্ন কালার চায়ের আবিস্কারক রমেশ রাম গৌঢ় । আর তার সাধনা , ভাবনা বিফল হয়নি। আর সেই সাধনার ফলে তৈরী করেন ২০০২ সালের ২ জানুয়ারী তার জীবনে আসে এক সন্ধিক্ষন।প্রথম আবিস্কার করলেন এক পাত্রে দুই কালার চা।

দেশি-বিদেশী প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে পর্যটকরা ছুটে আসেন শ্রীমঙ্গলে তার দুই কালার চা এর স্বাদ নিতে। তাতে উৎসাহিত হয়ে রমেশ দুই কালার থেকে আবিস্কার করেন পাঁচ লেয়ার ( কালার) চা পরবর্তীতে তিনি ৭ টি রং এ ১০টি লেয়ারের চা আবিস্কার করে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেন।

পরিবর্তিতে তিনি স্থান পরিবর্তন করে দোকানের নাম দেন নীলকন্ঠ চা কেবিন। দিন দিন রমেশের কালার চায়ের জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে।

এখন দেশ বিদেশের পর্যটক ছাড়াও প্রতিদিন শ্রীমঙ্গলের অনেক চা পিপাসুরা রমেশের চা কেবিনে ভীড় জমান প্রতিনিয়ত। তবে সবাই যে রমেশের কালার চায়ের টানে সেখানে যায় শুধু তা নয় রমেশের চায়ের দোকানে ১০ লেয়ার ছাড়াও আরও ৮/১০ রকমের চা পাওয়া যায়।

রমেশের ১০ লেয়ারের চা পান করলে দেখবেন এক এক লেয়ারে এক এক রকম স্বাদ আর তখন আপনার মনে হবে ১০০ টাকা দিয়ে আপনার এককাপ চা খাওয়া সার্থক হয়েছে।

রমেশ সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি বলেন ,আমার আবিষ্কারের চায়ের প্রথম সফলতা দুই কালারের চা, আস্তে আস্তে আমি আবিষ্কার করি ৫,৭, এবং সর্বশেষ ১০ কালারের চা । রমেশ জানায় তার এই চায়ের কোন ক্ষতিকারক কোন মেডিসিন বা ক্যামিক্যাল নাই , আমার এই আবিষ্কাকৃত চা গবেষণা করেছে বাংলাদেশ চা গবেষণার কেন্দ্র ।

বর্তমানে রমেশের দুটি চায়ের কেবিন রয়েছে ১ টি শ্রীমঙ্গল বিজিবি ক্যাম্পে, আরেকটি শ্রীমঙ্গল শহর থেতে মাত্র ১ কিলোমিটার দূরে কাটাবটের তল নাম স্থানে নীলকন্ঠ চা কেবিন ।

শ্রীমঙ্গলের বেড়াতে আসা পর্যটকদের এক বিশেষ আকর্ষন বর্তমানে ১০ কালার চা। রমেশের চায়ের কারণে শ্রীমঙ্গল ছুটির দিনে পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয় চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল ।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন