সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭ ১২:৩৪:১৫ পিএম

মাতৃসম আনোয়ারার প্রতি অকৃত্তিম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন ওমর সানী!

বিনোদন | শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০১৭ | ০৯:৫০:৪৫ এএম

পৃথিবীর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পর্কের নাম মা। বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই সম্পর্ক নানাভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বেশ কজন অভিনেত্রী। তবে অভিনয়ের সাবলীলতায় অভিনেত্রী আনোয়ারার নামই হয়তো সবচেয়ে বেশি দাগ কাটে দর্শকদের মনে। পর্দার বাইরে মায়ের যে চিরন্তন রূপ, সেটাই তিনি ফুটিয়ে তুলেছেন তার অভিনয়ের দক্ষতায়।

বাংলা সিনেমার ‘মা’ খ্যাত সর্বাধিক পরিচিত প্রবীণ অভিনয় শিল্পী আনোয়ারা। দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে মা চরিত্র নিয়ে আনোয়ারা জনপ্রিয়তা একেবারে শীর্ষে। মান্না, রিয়াজ, শাকিব কিংবা ওমর সানি মতো অনেক তারকারা একবার হলেও মা ডেকেছেন তাঁকে।

বাংলা চলচ্চিত্রে অনেক নায়কের মা চরিত্রে অভিনয় করেছেন অভিনেত্রী আনোয়ারা। সাবলীল অভিনয়ে দর্শকের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন একইসাথে। তবে শুধু গল্পের চরিত্রেই নয়, রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও বাস্তব জীবনে এই অভিনেত্রীর অকৃত্তিম মমত্ববোধের ছোঁয়া পেয়েছে অনেকেই। তাদেরই একজন আজকের দিনে জনপ্রিয় তারকা ওমর সানী।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে ওমর সানীর আজকের যে জনপ্রিয়তা ও অবস্থান সেটা অর্জন করতে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েছেন ওমর সানী । চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রবেশের পর প্রথম ছবিতেই ফ্লপ খেয়ে দারুন হতাশায় ভোগা এই ওমরসানীকে সেদিন অপ্রত্যাশ্যিত সুযোগ দিয়েছিলেন অভিনেত্রী আনোয়ারা।

দীর্ঘ বছর পর ওমর সানী সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন নিজের ফেসবুকে । নিজের অনুভুতির কথা জানালেন ভক্ত সতির্থদের ।

রক্তের কোন সম্পর্ক না থাকলেও ওমর সানী মায়ের মতো ভালবাসেন আনোয়ারাকে। একসঙ্গে তাদের অভিনয়ও দেখেছেন সিনে দর্শকরা। এবার ভার্চুয়াল মিডিয়ায় হুট করে দেখা গেল তাদের।

নায়ক ওমর সানী ছবিটি তার ফেসবুকে প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘যার সহযোগিতা পেয়েছি বলেই, অভিনয় জগতের ঘরে ঢুকতে পেরেছি সে আর কেউ নয় আনোয়ারা। কি বলবো, মমতা, স্নেহ, মায়ের আদর শিল্পীর ছায়া সবই পেয়েছি ওনার কাছে। ভালো থাকবেন।’

১৯৯২ সালে নুর হোসেন বলাইর পরিচালনায় ‘এই নিয়ে সংসার’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ওমর সানীর শোবিজে পা রাখা। কিন্তু সেই সিনেমায় সুবিধা করতে না পারায় তখন ওমর সানি ছিলেন ভীষণ রকমের হতাশ। পরে ১৯৯৩ সালে আনোয়ারা তার প্রযোজনায় ‘চাঁদের আলো’ সিনেমায় ওমর সানীকে একক নায়ক হিসেবে নিজের মেয়ে চিত্রনায়িকা মুক্তির সঙ্গে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন। এরপর ওমর সানীকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

উল্লেখ্য, শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সরগরম এফডিসি। একটি প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মিশা সওদাগর নির্বাচন করবেন, আরেকটি প্যানেলে আছেন সভাপতি প্রার্থী অভিনেতা ওমর সানী। এই নির্বাচন ঘিরেই চলছে অভিনয়শিল্পীদের প্রচার-প্রচারণা। শিল্পী প্রার্থীরাও এসময় তারা তাদের ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

শিল্পী সমিতির নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ততা কেমন চলছে! জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, ‘সবার দোয়ায় ভালো আছি। ব্যস্ততা মূলত এখন পুরোপুরি নির্বাচন নিয়েই। আমাদের শিল্পীদের সাংগঠনিক হওয়া ভীষণ প্রয়োজন। চলচ্চিত্রে আমাদের সবারই অনেক দায়িত্ব রয়েছে। সবাই সবার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে এগিয়ে এলে আমরা বড় একটা সংগঠন হয়ে দাঁড়াতে পারবো।’

একনজরে অভিনেত্রী আনোয়ারা


মায়েদের চরিত্রে অভিনয় করা অভিনেত্রীদের মধ্যে তার নাম রয়েছে প্রথম কাতারে।সমালোচকরা তাকে প্রিয় অভিনেত্রীর স্বীকৃতি দিয়েছেন বহু আগেই। পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কারও।প্রথমে নায়িকা হিসেবে অভিনয় শুরু করেন। পরে চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ওখান থেকেই আনোয়ারার জয়যাত্রা শুরু।

‘নবাব সিরাউদ্দৌলা’র আলেয়া থেকে শুরু করে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’র পুরষ্কারজয় পর্যন্ত আনোয়ারা বিচিত্র ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাণিজ্যিক ছবিতে প্রথাগত মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছেন চুটিয়ে। অন্য অভিনেত্রীদের থেকে তার অভিনয়কে আলাদা করা গেছে বরাবর। গতানুগতিক ছবিতে মায়ের চরিত্রে খুব ভেশি অভিনয়ের সুযোগ না থাকলেও নির্মাতারা আনোয়ারার মায়ের চরিত্রটিকে ভিত্তি করে অনেক ছবি বানিয়েছেন। মায়ের চরিত্র করে দর্শকমনে স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছেন আনোয়ারা।

শেষের দিকে মান্না ও ডিপজলের মায়ের চরিত্রে আনোয়ারার অভিনয় ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। আনোয়ারা অভিনীত বিখ্যাত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন, কাগজের নৌকা, সখিনার যুদ্ধ, নয়নমণি, দেবদাস, ডুমুরের ফুল, জন্ম থেকে জ্বলছি, দুই পয়সার আলতা, রাধা কৃষ্ঞ, মানসম্মান, নসীব, ভাত দে, শুভদা, লালু মাস্তান ইত্যাদি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন