মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৭ ১০:২৫:০২ পিএম

‘ভুল বোঝাবুঝি কারণে যে কোন সময় মহাপ্রলয় ঘটে যেতে পারে’

আন্তর্জাতিক | শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০১৭ | ০৩:১২:৩৬ পিএম

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সমালোচনা করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিন্দা প্রস্তাব উত্থাপন করে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু রাশিয়া ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে সেই প্রস্তাব আটকে দেয়। যদিও উত্তর কোরিয়ার সবচে বড় মিত্র চীন এ নিন্দা প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে। খবর ভয়েস অব আমেরিকার।

প্রস্তাবে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসহ পুরো বিশ্বে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তাই দেশটিকে অবিলম্বে এসব পরীক্ষা বন্ধ করতে হবে। গত মাসে এ ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণের বিষয়ে একমত হয় পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ১৫ সদস্য দেশ।

বুধবার প্রস্তাবটি পরিষদের বৈঠকে তোলা হলে চীন সমর্থন দেয়। কিন্তু রাশিয়ার কূটনীতিক প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভেটো দিলে তা আটকে যায়। দেশটির দাবি, শুধু নিন্দা প্রস্তাব নয় বরং আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের বিষয়টিও প্রস্তাবে যুক্ত করা হোক।

আগামী সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এর আগেই এ ইস্যুতে নিন্দা প্রস্তাব আটকে দিল রাশিয়া।

এদিকে জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ গবেষণা সংক্রান্ত ইন্সটিটিউট বা ইউএনডিআর এরই মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের আশংকা বাড়ছে বলে হুঁশিয়ারি করেছে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর অতি নির্ভরতার কারণে পরমাণু দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছে ইউএনডিআর। এতে বলা হয়েছে, ড্রোন, কৃত্রিম উপগ্রহ, নেটওয়ার্ক এবং সেন্সর নিয়ে গড়ে উঠেছে বর্তমানের সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এতে পারস্পারিক গোপন আদান-প্রদান ব্যবস্থা সক্রিয় আছে। ফলে ভুল বোঝাবুঝি কারণে যে কোন সময় মহাপ্রলয় ঘটে যেতে পারে।

১৯৮৩ সালে এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। সোভিয়েত পরমাণু সতর্কীকরণ ব্যবস্থা মার্কিন আগাম হামলার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে। এতে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র মস্কোর দিকে ছুটে আসছে। এ ব্যবস্থার দায়িত্ব নিয়োজিত ছিলেন লে কর্নেল স্তেইনস্লেভ প্রেত্রভ। তিনি সহজ যুক্তিতে বুঝতে পারেন যে হামলা হলে নিশ্চিত ভাবেই তার জবাব দেয়া হবে তাই মার্কিন হামলার আশংকা সত্য নয়। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে এমন আগাম হামলার হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে বলে ধরে নেন তিনি। পরে তার এ ধারণা সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

জাতিসংঘ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডারের সঙ্গে জটিল যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এতে ভুলে পরমাণু যুদ্ধ শুরুর আশংকা আরো বেড়েছে।

আমেরিকার যখন নিজ পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির ভবিষ্যৎ যাচাই করার কাজ শুরু করেছে তখন এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হলো।

অপরদিকে উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে আগে যে ধারণা করা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি পরমাণু বোমা দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে আছে। দেশটির কাছে অন্তত ৩০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। এ ছাড়া তিন বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার মতো বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদানও দেশটির কাছে আছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এসব তথ্য দিয়েছে বলে জানায় ওয়াশিংটন পোস্ট। ১৯৯৯ সালে দেয়া হিসাবে আমেরিকা মনে করত পিয়ংইয়ংয়ের হাতে বড়জোর দুটি পরমাণু বোমা রয়েছে।

২০২০ সালের মধ্যে দেশটির পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়ে ১০টি হতে পারে বলেও সে সময় ধারণা ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড অলব্রাইট মনে করেন, প্লুটোনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর কারণে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন