সোমবার, ২৪ জুলাই ২০১৭ ১২:৩২:৫১ পিএম

পোশাক পরিচ্ছদের ইসলামী নীতিমালা

ধর্ম | শুক্রবার, ২১ এপ্রিল ২০১৭ | ০৪:২৫:৪২ পিএম

আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তাকে সম্মানিত করেছেন , বাকশক্তি দিয়েছেন , বিবেক দিয়েছেন , ভালমন্দ তারতম্য করার যোগ্যতা দিয়েছেন , মানবকল্যাণের প্রতিটি বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন ,নির্ধারণ করেছেন কিছু সীমারেখা। যেগুলো পালন করার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে মানুষের প্রভূত কল্যাণ রয়েছে। পোশাক পরিচ্ছদেও রয়েছে কিছু সীমারেখা। সৌন্দর্য প্রকাশেও রয়েছে শালীনতা। ভদ্রতা মার্র্জিত ভঙ্গি। এ বিষয়ে আল্লাহ তা’লা বলেন, হে আদম সন্তান ! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দুষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যেরও উপকরণ।

বস্তুত তাকওয়ার যে পোষাক সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নির্দেশনাবলির অন্যতম। যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে। (সূরা:আরাফ – ২৬) আল্লাহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা পোশাক নির্ধারণ করে দিয়েছেন; যা প্রত্যেকের জন্য অবশ্যপালনীয় এবং এতেই রয়েছে প্রকৃত সৌন্দর্য। পুরুষ যেমন তার নিজস্ব পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে তেমনি নারীরাও তাদের নিজস্ব পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। পুরুষের জন্য নিষেধ নারীদের পোশাক পরা এবং নারীদের জন্য নিষেধ পুরুষের পোশাক পরিধান করা।

যেমন : ইসলামে রেশমের পোশাক পুরুষের জন্য নিষেধ, কিন্তু নারীর জন্য অনুমোদিত। স্বর্ণের ব্যবহার নারীর জন্য জায়েয, কিন্তু পুরুষের জন্য হারাম। যেকোনো রংয়ের কাপড় নারীরা পরিধান করতে পারে, কিন্তু পুরুষের জন্য কিছু কিছু রং অপছন্দনীয়। হাদীস আছে : তোমরা রেশমের কাপড় পরিধান করো না। কেননা , যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশম পরিধান করবে সে আখেরাতে তা থেকে বঞ্চিত হবে।(সহীহ বুখারী , হাদীস : ৫৮৩৪; সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২০৬৯/১১ )। আরো এসেছে : আমার উম্মতের পুরুষের জন্য রেশমের পোশাক ও স্বর্ণ হারাম করা হয়েছে আর তা হালাল করা হয়েছে মহিলাদের জন্য। ( সুনানে তিরমিযী, হাদীস : ১৭২০)

তোমরা সাদা কাপড় পরিধান কর। কেননা তা তোমাদের উত্তম কাপড়ের অন্যতম আর তাতেই তোমাদের মৃতদেরকে কাফন দাও।( – সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪০৫৫)। নারী-পুরুষ একে অন্যের সাদৃশ্য গ্রহণ নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে ।

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত অন্য হাদীসে বলা হয়েছে, নারীর পোষাক পরিধানকারী পুরুষকে এবং পুরুষের পোষাক পরিধানকারী নারীকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লানত করেছেন।(আবু দাউদ, হাদীস : ৪০৯২)

নারীদের জন্য প্যান্ট ও টি-শার্ট পরাও হারাম। পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণের কারণেই হারাম তা নয়, অশালীনতা, পর্দাহীনতা আর বিজাতির সামঞ্জস্যগ্রহণ ইত্যাদি বহু কারণেই তা হারাম ও কবীরা গুনাহ। হক্কাণী উলামাগণ বলেন : বর্তমানে অনেক আটশাট ও টাইটফিট পোশাক দেখা যায় যেখানের শরীরের অবয়ব ফুটে ওঠে এটাও নিষিদ্ধ। পোশাক পরিষ্কার ও পরিপাটি হওয়া চাই। এটিও নবীজীর নির্দেশ। জাবির রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এলেন এবং এক ব্যক্তির মাথার চুল এলোমেলো দেখলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেন : এই লোকের কি এমন কিছু নেই, যা দিয়ে সে তার মাথা পরিপাটি করবে। অপর এক ব্যক্তিকে ময়লা কাপড় পরিহিত দেখে বললেন : এর কাছে কি এমন কিছু নেই যা দিয়ে তার কাপড় ধৌত করবে। (আবু দাউদ, হাদীস : ৪০৫৬)

হযরত সাহ্ল ইবনে হানজালা রা. তিনি বলেন, (কোনো এক সফর থেকে ফেরার পথে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীগণকে লক্ষ্য করে ইরশাদ করলেন, তোমরা তোমাদের ভাইদের কাছে আগমন করছ। সুতরাং তোমাদের হাওদাগুলো গুছিয়ে নাও এবং তোমাদের পোশাক পরিপাটি কর। যাতে তোমাদেরকে (সাক্ষাৎ করতে আসা) মানুষের ভিড়ে তিলকের মতো (সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন) মনে হয়। (জেনে রেখো) আল্লাহ তাআলা স্বভাবগত নোংরামি বা ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা থাকা, কোনোটাই পছন্দ করেন না। (আবু দাউদ, হাদীস : ৭০৮৩) পোশাক শুধু বাইরের চিত্র নয়, রুচি ও মানসিকতারও বার্তাবাহক। তাই এ বিষয়ে অবহেলা নয়। সচেতনভাবে সেই লেবাসই গ্রহণ করা উচিত যা মুত্তাকী ও আল্লাহভীরু হতে সাহায্য করে। নিঃসন্দেহে সেটিই উত্তম লেবাস।

-আমাদের সময়

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন