মঙ্গলবার, ২৩ মে ২০১৭ ০৯:১০:৪০ এএম

কুড়িগ্রামে শ্যালিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তা ধরা

জেলার খবর | কুড়িগ্রাম | রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৭ | ১২:২১:৪০ পিএম

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী ভূমি অফিসার (তহশীলদার) রোকনুজ্জামান (৩৫) স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে নিজ বাড়ীতে প্রতিবেশী দুঃসম্পর্কের শ্যালিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েছে।

এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে ঐ লম্পট তহশীলদার নিজের ঘরের জিনিসপত্র নিজেই তছনছ করে এলাবাসীর নামে মামলা দায়ের করার পায়তারা চালাচ্ছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার মল্লিকারকুটি গ্রামের বাবুল হোসেনের কন্যা বুবলী খাতুনের সাথে চার বছর পূর্বে নাগেশ্বরী উপজেলার ধনীগাগলা গ্রামের মৃত.গোলাম মোস্তফার ছেলে রোকনুজ্জামানের বিয়ে হয়। সংসার জীবনে তাদের ঘরে একটি ছেলে সন্তান হয়েছে।

বিয়ের পর থেকেই রোকনুজ্জামান স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নানা নির্যাতন করত। জামাইয়ের মানসিকতা পরিবর্তনের জন্য শশুর বাবুল হোসেন ফুলবাড়ী ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন আছিয়ার বাজার এলাকায় বুবলীর বড় মামার দেয়া ১৮ শতক জমির উপর ৫ লক্ষাধিক টাকা খরচ করে মাটি ভরাটসহ বাড়ি তৈরী করে দেয়।

সেই বাড়িতে থাকাকালীন মাস খানেক পূর্বে ঠুনকো ব্যাপারে আবারো বুবলীর উপর অমানবিক নির্যাতন চালায় রোকনুজ্জামান। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাবার বাড়িতে চলে যায় বুবলী। বর্তমানে সে বাবার বাড়িতেই আছে।

স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশী মামাতো শ্যালিকার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে রোকনুজ্জামান।

শুক্রবার দুপুরে শ্যালীকাকে নিয়ে ঘরের ভেতর অপকর্মে লিপ্ত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী বাড়ী ঘেরাও করে তার শশুর বাবুল হোসেনকে খবর দেয়। খবর পেয়ে বাবুল হোসেন জামাইয়ের বাড়িতে এসে ঐ মেয়েসহ জামাইকে ঘর থেকে উদ্ধার করে।

এদিকে এই অপকর্মের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ধূর্ত তহশীলদার রোকনুজ্জামান নিজের ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে এলাকাবাসীর নামে ফুলবাড়ী থানায় লুটপাট ও ভাংচুরের অভিযোগ দায়ের করে।

প্রত্যক্ষদর্শী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন, শফি ঘাটিয়াল, সেরাজুল ইসলাম ও লাভলী বেগম জানান, দুপুরের দিকে মেয়েটিকে নিয়ে রোকনুজ্জামান ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে এলাকাবাসী তার শশুর ও শশুরবাড়ির লোকজনের উপস্থিতিতে দরজা ভেঙ্গে দুজনকেই উদ্ধার করে। ইতিপূর্বে ওই মেয়েকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

রোকনুজ্জামানের শশুর জানান, মেয়ের সুখের জন্য তার ঘর বাড়ী আসবাপত্র সবকিছু কিনে দিয়েছি। এলাকাবাসী লুটপাট ভাংচুর করেনি বাড়ীতে মানুষ না থাকার কারনে গরু দুইটি পাসের বাড়ীতে রাখা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রোকনুজ্জামান জানান, আমার দুঃসম্পর্কের মামা শশুর আজিজার রহমানের সাথে অপর মামা শশুর দুদুল ও বাদলের জমিজমার বিরোধের জেরে তারাই আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।

এব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, মেয়ের বাবা লিখিত অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন