মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭ ১০:১৩:০০ এএম

শেষ পর্যায়ে শিবগঞ্জের ‘জঙ্গি আসানায়’ সোয়াতের ‘ঈগল হান্ট’

জেলার খবর | রাজশাহী | বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০১৭ | ০৬:২১:১৫ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় জঙ্গি আস্তানায় সোয়াতের অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ প্রায় শেষ পর্যায়ে, একাধিক জঙ্গি হতাহতের আশঙ্কা।

এর আগে অপারেশনের সময় ওই বাড়ি থেকে দফায় দফায় প্রচন্ড গোলাগুলির শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া বেলা এগারটার দিকে শোনা যায় ভারী বিস্ফোরণের শব্দও।

উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী শিবনগর গ্রামের বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের মতো সকালে ফের পুলিশের বিশেষায়িত দল সোয়াতের ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ অভিযান শুরু হয়।

ঘটনাস্থলে রয়েছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

এর আগে সকাল নয়টার দিকে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাবিবুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে।

হাবিবুল ইসলাম জানান, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত করা হয়েছে।

ওদিকে সোয়াতের কিছু সদস্য ইতোমধ্যেই ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং এ বাহিনীর আরো সদস্যরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছাবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় লোকজন জানান, বাড়িটি থেকে রাতে ও ভোরে কয়েক দফা গুলির ভেসে আসে। সকাল নয়টার পর সেখান থেকে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ আসে।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বুধবার ভোর থেকে বাড়িটি ঘিরে রাখেন জেলা পুলিশ ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বুধবার ভোর থেকে ঘটনাস্থলের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি করে উপজেলা প্রশাসন। পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত তা বজায় থাকবে বলে মাইকিং করে জানিয়ে দেয়া হয়।

ঢাকা থেকে যাওয়া সোয়াত সদস্যরা পৌনে পাঁচ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাড়ে ৬টার দিকে সোয়াত অভিযান শুরু করে। এ সময় মুহুর্মুহু গুলি আর বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। রাত নয়টার দিকে অভিযান স্থগিত করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ফের অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম জানান, ‘এখানে আবু নামের একজন রয়েছেন। তিনি এখানে মুদির ব্যবসা করলেও, ভেতরে ভেতরে জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা আছে। আরো কয়েকজনের এখানে আসা যাওয়া থাকতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ বুধবার সকালে যখন আমরা এখানে ঢুকতে যাই, তখন আমাদের উপর গুলি করা হয়। এখন সোয়াত টিম এসেছে, তারা অভিযান শুরু করেছে।’

বাড়ির বাসিন্দাদের সম্পর্কে তিনি জানান, আবুর সঙ্গে তার স্ত্রী আছে। আর কেউ কেউ বলছেন একটি বাচ্চা আছে, আবার কেউ কেউ বলছেন, তাদের সঙ্গে দুইটি বাচ্চা রয়েছে।

ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী আনোয়ার হোসেনের বাড়ি কয়েকটি বাড়ি পরেই। তিনি বলছেন, বাড়িটির বাসিন্দা আবু এই গ্রামেরই বাসিন্দা, ছোট বেলা থেকেই চেনেন। তিনি বাজারে মসলার ব্যবসা করেন।

‘কয়েকমাস আগে গ্রামের আরেকজনের তৈরি করা এই বাড়িটিতে আবু তার পরিবার নিয়ে থাকতে শুরু করে। তবে তার কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তার কোন ধারণা নেই’, বলছিলেন আনোয়ার হোসেন।

এই নিয়ে গত দেড় মাসে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে ১০টি বাড়িতে অভিযান চালালো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় অভিযানে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮জন নিহত হয়েছে। আর গত একবছরে জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে অর্ধশত ব্যক্তি।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন