শুক্রবার, ২৮ জুলাই ২০১৭ ০৮:৫৯:১৭ পিএম

বগুড়ায় পুলিশ স্বামীকে নিজেই ধরে নিয়ে গিয়ে থানায় দিলেন স্ত্রী!

জেলার খবর | বগুড়া | শুক্রবার, ২৮ এপ্রিল ২০১৭ | ০৬:৩২:২৯ পিএম

বগুড়ায় যৌতুক লোভী এক পুলিশ কনষ্টেবল স্বামীকে নিজেই ধরে নিয়ে গিয়ে থানায় সোপর্দ করলেন স্ত্রী। আগে থেকেই ঐ কনষ্টেবলের বিরুদ্ধে থানায় একটি যৌতুক মামলা দায়ের করা হয়েছিলো এবং আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়। কিন্তু পুলিশ এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে তালবাহানা শুরু করে ফলে বাধ্য হয়ে স্ত্রী এই কাজ করেন। আজ শুক্রবার ভোরে এই ঘটনার পর বেলা সাড়ে ১১টায় পুলিশ কনষ্টেবল শাহীনকে থানা থেকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নামাজখালি এলাকার আব্দুস সালামের মেয়ে রিক্তা বেগমের সাথে ৬ বছর আগে একই উপজেলার হুয়াকুয়া গ্রামের মুত আব্দুল হক মন্ডলের ছেলে পুলিশ কনষ্টেবল শাহীন মিয়ার (২৭) বিয়ে হয়। বর্তমানে তার দুই সন্তান রয়েছে।

রিক্তা বেগম অভিযোগ করে জানায়, বিয়ের পর থেকেই ২ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে শাহীন মিয়া তাকে শারিরিক ও মানষিক নির্যাতন শুরু করে। ৩ মাস আগে যৌতুকের টাকা না দেয়ার তার স্বামী তাকে দুই সন্তানসহ বাবার বাড়ি বগুড়া শহরের সুত্রাপুর পার্ক রোড এলাকার বাসায় রেখে চলে যায়। এরপর কোনো যোগাযোগ না রাখলেন গত ৯ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ করেই তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার বাবার বাড়িতে আসে। এরপর কথাকাটাকটির এক পর্যায়ে তাকে বেদম মারপিট করে। পরে তিনি বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন।

এদিকে এ ঘটনার পর রিক্তা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। বিচারক মামলার তদন্ত ভার দেয় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেষ্টিগেশন (পিআইবি)।

পিআইবির তদন্তকারি কর্মকর্তা সাকিউল আযম তদন্ত শেষে অনুসন্ধান প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। তদন্তকালে রিক্তাকে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন।

পিআইবির তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। প্রায় ১৫ দিন আগে পরোয়ানা জারি হলেও বগুড়া সদর থানা পুলিশ কনষ্টেবল শাহীন মিয়াকে গ্রেপ্তারে তালবাহানা শুরু করে। এরপর স্ত্রী রিক্তা নিজেই উদ্যোগী হয় স্বামীকে আটক করার।

শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে বগুড়া শহরের সাতমাথায় আসলে রিক্তা তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ কনষ্টেবল শাহীন মিয়া বর্তমানে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে কর্মরত আছেন।

থানায় কনষ্টেবল শাহিন মিয়া নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, তিনি তার স্ত্রীকে মারধর করেননি। এমনকি ২লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করেননি। তিনি ষড়যন্ত্রেও শিকার।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, শাহীন মিয়াকে তার স্ত্রী থানায় সোপর্দ করেছে। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন