মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ ১২:৫৫:১০ এএম

কলেজ ছাত্রী তন্নী হত্যা মামলার অগ্রগতি নিয়ে হতাশ স্বজনরা

জেলার খবর | হবিগঞ্জ | মঙ্গলবার, ২ মে ২০১৭ | ১২:৪২:১৬ পিএম

নবীগঞ্জ বহুল আলোচিত কলেজ ছাত্রী তন্নী হত্যাকান্ডের ৭ মাস ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও নেই মামলার কোন অগ্রগতি। ময়না তদন্ত রিপোর্টে বেড়িয়ে এসেছে তন্নীকে জোরপূর্বক ধর্ষনের পর গলা টিপে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ঘাতক রানু রায় কারাগারে আটক থাকলেও সুষ্ঠ বিচারের আশায় দিনের পর দিন অপেক্ষার প্রহর গুনছেন নিহত মেধাবী কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়ের স্বজনরা। তন্নী হত্যাকান্ডের পর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের একের পর এক আল্টিমেটামের মুখে তন্নী হত্যাকান্ডের ২০ দিন পর মামলার প্রধান আসামী ঘাতক রানু রায়কে গ্রেফতার করে হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশ। এরপর ২০১৬ইং সালের ১৯ ডিসেম্বর ঘাতক রানু রায়কে একক আসামী করে অভিযোগ পত্র দাখিল করে ডিবি পুলিশ। কিন্তু তন্নী হত্যাকান্ড রানু একা করতে পারলেও লাশকে বেঁধে ৯টা ইটসহ বস্তাবন্দী গুম করা একার কাজ ছিল না বলে মনে করেন নিতহের স্বজনরা।

এছাড়াও তন্নী হত্যার ময়না তদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে “In our opinion death was due to asphyxia and shock resulting from throttling which was ante mortem and homicidal in nature. There was definite sign of forceful sexual act. She was not pregnant. অর্থাৎ খুনি রানু জোর পূর্বক ধর্ষন করে গলা টিপে নির্মমভাবে হত্যা করেছ।

এদিকে, এরপর বিজ্ঞ আদালতে একের পর এক শুনানী চলতে থাকলেও মামলার অগ্রগতি নিয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন নিহত তন্নী রায়ের পরিবার।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা দেড়টার দিকে তন্নী রায় ইউ কে আইসিটি কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেড় হয়ে আর বাসায় ফিরে আসেনি। এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন তন্নী রায় এর বাবা। সাধারণ ডায়েরী করার ৩ দিনের মাথায় কলেজ ছাত্রী তন্নী রায়ের বস্তাবন্দি লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ।

এদিকে তন্নী হত্যা মামলার প্রধান আসামী রানু রায়কে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবীতে একের পর এক বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন মানববন্ধন করে আসছিল। পরে তন্নী রায় হত্যাকান্ডের ২০ দিনের মাথায় (৭ অক্টোবর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের ওসি আজমিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একদল সাদা পোশাকে ডিবি পুলিশ বিকাল বেলা ব্রাম্মণবাড়ীয়া বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

পরে (৮ অক্টোবর) শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত সুলতানার আদালতে সে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে এবং তন্নী হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে। হত্যার কারণ হিসেবে রানু রায় স্বীকারোক্তিতে বলে তন্নীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে রানু রায়ের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। ১৭ সেপ্টেম্বর শনিবার, প্রেমিক রানু রায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে তন্নী ইউ কে আই সিটি কোচিং সেন্টারে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়ে রানু রায়ের বাড়িতে যায়। যাওয়ার পর তন্নীর সাথে একাধিক ছেলের সম্পর্ক আছে এই বিষয়ে রানু তন্নীকে ওই সব ছেলেদের সাথে কথা বলা বন্ধ করার জন্য বলে, তখন এক পর্যায়ে রানুর সাথে তন্নীর ঝগড়া সৃষ্টি হয়।

এ সময় রানু রায় তন্নীকে হাত দিয়ে আঘাত করে। এরপর তন্নীর গলায় রানু চেপে ধরলে এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে তন্নী মারা যায়। এদিকে বিজ্ঞ আদালতের একের পর এক শুনানী পরও মামলার কোনো অগ্রগতি দেখতে না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন নিহত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পরিবার। আলোচিত তন্নী হত্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তর করার দাবী জানিয়েছে তন্নীর পরিবার।

নিহত কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পিতা বিমল রায় জানান, “আমার মেয়ে তন্নী হত্যা মামলা অগ্রগতি নিয়ে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট নই। আমরা খুব হতাশ, আমি বেচেঁ থাকতে আমার মেয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি দেখে যেতে চাই। তাই দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তরের জোর দাবী জানাই।”

তন্নীর ভাই বিভাষ রায় জানান, “আসামী রানুকে ফাঁসির রজ্জুতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হউক। তাহলেই আমরা ন্যায় বিচার পাব ও তন্নীর আত্মা শান্তি পাবে। আমরা আমার বোন তন্নী হত্যার বিচার চাই।”

এদিকে কলেজ ছাত্রী তন্নী রায় এর পরিবারের লোকজনের পাশাপাশি মামলার অগ্রগতি নিয়ে গত কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে তন্নী হত্যা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তরের জন্য ঝড় তুলেছেন নবীগঞ্জে সর্বসাধারণ। তাদের দাবী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা হস্তান্তর করলে খুব তাড়াতাড়ি মামলা নিষ্পত্তি হবে এবং সুষ্ঠ বিচার পাওয়া যাবে।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন