বৃহস্পতিবার, ২৯ জুন ২০১৭ ০৮:১০:২৭ পিএম

নোয়াখালী সুবর্নচরে স্বামীকে জবাই করে হত্যা, ঘাতক স্ত্রী আটক

জেলার খবর | নোয়াখালী | রবিবার, ৭ মে ২০১৭ | ০১:৫৬:১৮ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলায় ২ সন্তানের জননীর হাতে নির্মম ভাবে খুন হলেন অসহায় স্বামী। ঘটনাটি ঘটে সুবর্নচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্যম বাগ্যা গ্রামে।

সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, উক্ত গ্রামের শাহ আলমের পুত্র শহিদ উল্যাহ (৩৩) এর সাথে একই গ্রামের মৃত ইলিয়াসের কন্যা শরিফা বেগম (২৭) এর ৭ বছর আগে সামাজিক ভাবে বিয়ে হয়। বেশ কয়েক বছর সংসার বেশ সুখেই চলছিল। সম্প্রতি শরিফা খাতুন জানতে পারেন স্বামী শহিদ উল্যাহ আরেকটি বিয়ে করেছেন এ নিয়ে শুরু হয় পারিবারিক কলহ।

গতকাল সকালে উপরোক্ত বিষয় নিয়ে দুইজনের মধ্য ঝগড়া ঝাটি হয়। রাতে সামাজিক গন্যমান্য ব্যাক্তিরা একটি সালিশ বৈঠক করে। এতে তারা জানতে পারেন শহিদ উল্যাহ বিয়ের বিষয়টি ছিল মিথ্যা এই কথা শরিফা খাতুন মানতে নারাজ হওয়ায় শহিদ উল্যাহকে তার বাবার বসত ঘরে থাকতে বলেন বিচারকারিরা।

রাতে শহিদ উল্যাহ তার বড় মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর রাত ৩টার সময় ঘাতক শরিফা বেগম তার ঘর থেকে উঠে এসে শহিদের ঘরের দরজা কড়া নেড়ে তার শাশুড়িকে বলেন, আমি আমার স্বামীর সাথে থাকবো পরে তিনি ঘরে প্রবেশ করে শহিদ উল্যার সাথে শুয়ে পড়েন। রাত ৪টার সময় ঘরে থাকা দা নিয়ে শহিদ উল্যাহকে কোপ মারে শরিফা এতে শহিদের গলার অধিকাংশ কেটে যায়। বাঁচার জন্য দস্তাদস্তি করে এবং ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে শিশু সালমা শৌর চিৎকারে ঘরের অন্য সদস্যরা উঠে শরিফাকে আটক করে। শহিদকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই সে মারা যায়। ঘাতকের হাতে ২টি বিষের বোতল পাওয়া যায়। সবাই ধারনা করছেন স্বামীকে মেরে নিজে বিষপানে আত্মহত্যা করার উদ্দ্যেশ্য ছিল তার।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাবেক ওয়ার্ড মেম্বার রুহুল আমিন জানান, খুনের বিষয়টি আমরা শুনেই ঘটনার স্থলে ছুটে আসি। তাদের মধ্য দীর্ঘদিন থেকে পারিবারিক ভাবে কলহ ছিল পরে সামাজিক সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ঘাতক বিচার মানতে রাজি হয়নি তাই সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই খুনটি করেছে। তাদের ঘরে সালমা (৫) এবং জাহেদ (১) নামে দুইটি সন্তান রয়েছে।

চর জব্বর থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ঘাতক শরিফা বেগমকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশ মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

শহিদের মৃত্যুতে তার বাবা মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। বার বার মূর্ছা যাচ্ছেন মৃতের ভাইবোন। এলাকায় চলছে শোকের মাতম।

এলাকাবাসি জানান, শহিদ খুব সাদাসিধে যুবক ছিলেন কোনদিন কারো সাথে বাকবিতণ্ডা হয়নি। অবুঝ ২ শিশু নিথর হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। শিশু কন্যাটির পুরো গায়ে লেগে রয়েছে বাবার তাজা রক্ত।

খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে পেজে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন